Somoy TV
লিবিয়ার বন্দিশালায় মানবপাচারকারী ও দালালদের নির্মম নির্যাতনে জহিরুল ইসলাম (৩০) নামে আরও এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মুক্তিপণ হিসেবে ৫০ লাখ টাকা দেয়ার পরও তাকে বাঁচানো যায়নি। এর আগে গত ১৫ দিনে একইভাবে মাদারীপুরের আরও দুই যুবকের মৃত্যু হয়। নিহত জহিরুলের বাড়িও একই জেলায়।মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) নিহতের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে তার পরিবার। নিহত জহিরুল ইসলাম মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার দক্ষিণ ধোয়াসার গ্রামের সামচু আকনের ছেলে। দেশে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সুখের সংসার থাকলেও দালালের খপ্পরে পড়ে ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে গিয়ে প্রাণ গেল তার। তার মৃত্যুতে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। জানা যায়, পাশের ধুলগ্রাম এলাকার মানবপাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য হানিফ মাতুব্বরের ছেলে জাকির মাতুব্বরের প্রলোভনে পড়েন জহিরুল। পাঁচ মাস আগে সরাসরি ইতালির উদ্দেশে বাড়ি ছাড়েন তিনি। কিন্তু দালাল চক্র তাকে সৌদি আরব হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যায়। এরপর সেখানকার একটি বন্দিশালায় আটকে রেখে তার ওপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। পরে পরিবারের কাছ থেকে কয়েক ধাপে মুক্তিপণের ৫০ লাখ টাকা আদায় করে চক্রটি। এরপরও মাফিয়ারা আরও নির্যাতন চালালে একপর্যায়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন জহিরুল। পরিবারের অভিযোগ, প্রায় ১৫ দিন আগে জহিরুলের মৃত্যু হলেও বিষয়টি গোপন রাখে দালাল চক্র। শেষমেশ লিবিয়ায় বসবাসরত একই গ্রামের কয়েক যুবকের মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর পায় পরিবার। এ ঘটনায় দালাল চক্রের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। জহিরুলের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তারা। আরও পড়ুন: ইতালি যাওয়া হলো না, মুক্তিপণ দিয়েও লিবিয়ায় নির্যাতনে মৃত্যু মাদারীপুরের ২ যুবকের জহিরুলের স্ত্রী সাথি আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই। আমাদের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা নিয়েছে, সেই টাকাও ফেরত চাই। সরকারের কাছে আকুতি জানাই, আমার স্বামীর মরদেহটি যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করে।’ এদিকে অভিযুক্ত দালাল জাকিরের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। প্রতিবেশী পারভীন বেগম বলেন, ‘গত রমজান মাসে বাড়ি ছেড়ে চলে যায় জাকিরের পরিবার। এরপর আর কোনো খোঁজই নেই। পরে আমরা জানতে পেরেছি জাকির বিদেশে লোক নেয়।’ মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, লিবিয়ার বন্দিশালায় এ নিয়ে তিন যুবক মারা গেছেন বলে জানা গেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রসঙ্গত, এর আগে একইভাবে দালালদের নির্যাতনের শিকার হয়ে ডাসার উপজেলার বিনতিলুক এলাকার মৃত সেকেন হাওলাদারের ছেলে ফারুক হাওলাদার ও কালকিনির দক্ষিণ জনারদন্দি গ্রামের কালাম হাওলাদারের ছেলে ইলিয়াস হাওলাদার মারা যান। এছাড়া জহিরুলের সঙ্গে নির্যাতনের শিকার ডাসার উপজেলার মধ্য ধুলগ্রামের সৈয়দ আসলামের ছেলে ইমামুল এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
Go to News Site