Somoy TV
দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বিএনপিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেনন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি জানান, দলীয় গণ্ডির বাইরে এসে নির্বাচন করায় তিনি সাধারণ মানুষের বিপুল ভালোবাসা অনুধাবন করতে পেরেছেন।মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি ধন্যবাদ জানাই বিএনপিকে আমাকে মনোনয়ন না দেবার জন্যে। আমাকে মনোনয়ন না দেয়ার কারণেই আমি বুঝতে পেরেছি বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া কত লক্ষ মানুষের ভালোবাসা, দোয়া ও সহযোগিতা আমার পাশে ছিল।’’তিনি আরও যোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট দলীয় গণ্ডির ভেতর থেকে নির্বাচন করলে মানুষের এই অকৃত্রিম ভালোবাসা বোঝার সৌভাগ্য তার হতো না।বক্তব্যের শুরুতে তিনি তার প্রতিকূল সময়ে পাশে থাকা নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। যারা ভয়ভীতি উপেক্ষা করে এবং দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েও তার হয়ে কাজ করেছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। এছাড়াও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘‘দেশনেত্রী আমাকে স্নেহ দিয়ে রাজনীতিতে এনেছিলেন। আমি বিশ্বাস করি সংসদে তার অপূর্ণতা কোনোদিন পূরণ হবে না।’’সংসদে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া রাষ্ট্রপতিকে সব কাজ প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে করতে হয়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ক্ষমতার ভারসাম্যের কথা বারবার বলা হলেও রাষ্ট্রপতিকে এবারও মন্ত্রিপরিষদ অনুমোদিত ভাষণই পড়তে হয়েছে।সংসদে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধি হলেও সেই অনুপাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। একে ‘চাকরিবিহীন প্রবৃদ্ধি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “উৎপাদন ও সেবা খাতে কর্মসংস্থান কমছে, যা দীর্ঘমেয়াদী অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি। মাধ্যমিকের নিচে যোগ্যতা থাকা ব্যক্তিদের বেকারত্বের হার যেখানে ৩.০১ শতাংশ, সেখানে উচ্চ ডিগ্রিধারীদের ক্ষেত্রে এটি ৮.৭ শতাংশ।” সঠিক কর্মমুখী শিক্ষার অভাবে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিতে বাধ্য হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।খাদ্যদ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, ফেব্রুয়ারি মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯.৩০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত ১৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। রুমিন ফারহানা সতর্ক করে বলেন, “উচ্চ খাদ্যমূল্যস্ফীতির কারণে বিশ্বব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর লাল তালিকায় ইতিমধ্যে বাংলাদেশের নাম উঠেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের আয়ের বড় অংশই চলে যাচ্ছে খাবার কিনতে, যা পুষ্টিহীনতা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মেধা বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।” আরও পড়ুন: আমার এলাকায় ওয়াজ-কীর্তনও হবে, বাউল গানও হবে: রুমিন ফারহানাবৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও ঋণের বোঝা নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে বৈদেশিক ঋণ বেড়ে ১১৩.৫১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “গত ১৫ বছরে দেশ থেকে প্রায় ২৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার পাচার হয়েছে। ওভার ও আন্ডার ইনভয়েসিং বন্ধ করা না গেলে এই অর্থপাচার থামানো সম্ভব নয়।” এছাড়া ব্যাংক খাতে থাকা ৬ লক্ষ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনা না গেলে কোনো পরিকল্পনাই কাজে আসবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগে দলীয়করণেরও তীব্র সমালোচনা করেন রুমিন ফারহানা। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে উচ্চ শিক্ষিত ও অভিজ্ঞদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বে রাখা হলেও বাংলাদেশে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দল করা দোষের কিছু নয়, কিন্তু দল না করলে যদি নিয়োগ না হয় তবে সেটি দুর্ভাগ্যজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেয়া হচ্ছে, যা প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা ও দক্ষতা নষ্ট করছে।”তিনি ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। বৈষম্যমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন নিয়ে সাধারণ মানুষ রাজপথে রক্ত দিয়েছে, সেই স্বপ্ন পূরণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এই সংসদ সদস্য।
Go to News Site