Collector
৪৫ লাখ টাকা দিয়েও বাঁচতে পারলেন না জহিরুল | Collector
৪৫ লাখ টাকা দিয়েও বাঁচতে পারলেন না জহিরুল
Jagonews24

৪৫ লাখ টাকা দিয়েও বাঁচতে পারলেন না জহিরুল

অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে লিবিয়ার বন্দিশালায় মাফিয়া চক্রের নির্যাতনে মাদারীপুরের ডাসার জহিরুল আকন (২৫) নামে এক যুবক মারা গেছেন। সোমবার (৬ এপ্রিল) রাতে তার মৃত্যুর খবর পান তার স্বজনরা। এ ঘটনায় দালালদের শাস্তি ও মরদেহ দেশে আনার দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার। নিহত জহিরুল আকন উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ ধূয়াসার গ্রামের শামসুল হক আকনের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, একই উপজেলার ধলুগ্রামের হানিফ মাতুব্বরের ছেলে জাকির মাতুব্বর ও তারক দাস নামে দুই দালাল অল্প টাকায় ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে জহিরুলকে রাজি করায়। পরে তাকে লিবিয়া নিয়ে একটি অন্ধকার বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়। সেখানে তাকে প্রতিনিয়ত নির্যাতন করে ভিডিও কলের মাধ্যমে পরিবারের কাছে টাকা দাবি করত মাফিয়া চক্র। দালালরা জহিরুলের পরিবারের কাছ থেকে কয়েক দফায় মোট ৪৫ লাখ টাকা নিলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচাতে পারেনি। এদিকে একই দালালের মাধ্যমে ইতালি যাওয়ার পথে মধ্য ধুলগ্রামের ইমামুল সৈয়দ নামে আরেক যুবক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে মৃত্যুর খবর শুনে বাগরুদ্ধ হয়ে গেছে তার স্ত্রী, দুই কন্যা সন্তান, বাবা-মা, ভাই, আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশী। তাদের দাবি দালালরা নির্যাতন করে জহিরুলকে মেরে ফেলেছে। নিহত জহিরুলের স্ত্রী সাথী আক্তার বলেন, আমরা দালাল চক্রের হোতা জাকির মাতুব্বরের কাছে প্রথমে ২৫ লাখ টাকা দিয়েছি। পরে লিবিয়ায় নিয়ে গেমঘরে রেখে আমার স্বামীকে অমানবিক নির্যাতন করা হতো এবং ভিডিও কলে সেগুলো আমাদের দেখাতো। পরবর্তীতে আমরা জাকির ও তারকের কাছে আরও টাকা দিয়ে মোট ৪৫ লাখ টাকা পরিশোধ করি। এরপরও দালালরা আরও টাকা চায়। আমরা সেই টাকা দিতে না পারায় নির্যাতন করেই আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমি তাদের নামে মামলা করব এবং এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, আমার স্বামীর মরদেহ যেন দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। ঘটনা জানাজানির পর অভিযুক্ত দালালরা আত্মগোপন করায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে দালাল তারক দাসের মা মিনতী দাস বলেন, আমার ছেলে তারক শতাধিক লোককে লিবিয়া হয়ে ইতালি পাঠিয়েছে। তবে এই ঘটনার ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, জহিরুল আকন নিহতের ঘটনায় তার পরিবার মামলা দিলে তা নেওয়া হবে। পরে এই ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অবস্) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘটনাটির কথা আমরা জেনেছি। পরিবার থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অবৈধভাবে ইতালী যাবার প্রবণতা বন্ধে সবার সচেতন হতে হবে। আয়শা সিদ্দিকা আকাশী/কেএইচকে/এমএস

Go to News Site