Collector
তিস্তা সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নে উচ্ছেদ আতঙ্ক স্থানীয়দের | Collector
তিস্তা সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নে উচ্ছেদ আতঙ্ক স্থানীয়দের
Somoy TV

তিস্তা সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নে উচ্ছেদ আতঙ্ক স্থানীয়দের

প্রায় ৩৫ বছর আগের সমীক্ষার ভিত্তিতে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিস্তা সেচ ক্যানেল সংস্কার ও সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। দীর্ঘ সময় পর এ প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ায় অনেক বসতবাড়ি, আবাদি জমি ও সড়ক উচ্ছেদের মুখে পড়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উচ্ছেদ আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।পাউবোর দাবি, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট জমি আশির দশকেই অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, জমি অধিগ্রহণ সম্পর্কে তারা আগে কোনো তথ্য জানতেন না এবং কোনো ক্ষতিপূরণও পাননি। উচ্ছেদ আতঙ্কে স্থানীয়রা রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের ব্রহ্মোত্তর পাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এই জনপদে শতাধিক পরিবারের বসবাস। কয়েক প্রজন্ম ধরে গড়ে ওঠা এসব বসতি এখন উচ্ছেদের মুখে পড়েছে। তিস্তা সেচ ক্যানেলের সম্প্রসারিত অংশ নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে সীমানা নির্ধারণ করে বাড়িঘর সরানোর নোটিশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম বলেন, 'আমাদের পূর্বপুরুষরা শত বছরের বেশি সময় ধরে এখানে বসবাস করছেন। হঠাৎ করে এসে বাড়ি ভাঙার নোটিশ দেয়া হয়েছে।' স্থানীয়দের দাবি, অনেকেই পৈতৃক সম্পত্তিতে বসবাস করছেন, আবার কেউ কষ্টের টাকায় জমি কিনেছেন। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ বা ক্ষতিপূরণের বিষয়ে তারা আগে কোনো নোটিশ পাননি। আরও পড়ুন: রমেকে আইসিইউ সংকট, একমাসে ৩১ জনের মৃত্যু যা বলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, '১৯৮৩ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যে প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে অনেকেই এসব জমিতে অবৈধভাবে বসবাস করছেন।' তিনি আরও বলেন, 'সেচ ক্যানেলের কাজ শেষ হলে ওই এলাকার মানুষ সহজেই সেচ সুবিধা পাবে। এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের কোনো স্বার্থ নেই।' তবে তিন দশক আগের সমীক্ষার ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং দীর্ঘদিন ধরে অধিগ্রহণ করা জমি রক্ষণাবেক্ষণ না করার বিষয়ে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। আরও পড়ুন: রংপুরে হাম-রুবেলায় আক্রান্ত ১১, উপসর্গ শনাক্ত ১১৬ জনের পানির প্রবাহ না থাকলে প্রকল্প অর্থহীন জানা গেছে, ২০২২ সালে দ্বিতীয় ধাপে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের সমীক্ষা করা হয়েছিল প্রায় ৩৫ বছর আগে। অধিকারকর্মীদের মতে, তিস্তা নদীতে পর্যাপ্ত পানির প্রবাহ নিশ্চিত না করে এমন বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন অর্থের অপচয় ছাড়া কিছু নয়। ‘তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ’-এর সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানি বলেন, 'পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত না করে শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন করলে কাঙ্ক্ষিত সুফল আসবে না। এই প্রকল্প সময়োপযোগী নয়। এই প্রকল্পের চেয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।' সেচের লক্ষ্যমাত্রা ও বাস্তবতা তথ্য অনুযায়ী, নব্বইয়ের দশকে চালু হওয়া তিস্তা সেচ প্রকল্প কখনোই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সেচ সুবিধা দিতে পারেনি। ২০১৬ সালে ৮৪ হাজার ৩৭৮ হেক্টর জমিতে সেচের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বাস্তবে সেচ দেয়া হয় মাত্র ১০ হাজার হেক্টরে। পরবর্তী বছরগুলোতেও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় সেচের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল। সর্বশেষ ২০২৬ সালে সেচের আওতা দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার হেক্টরে, যা এখনও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার অনেক নিচে।

Go to News Site