Collector
৮ পাম্প ঘুরেও গাড়ির তেল পাননি এমপি, সংসদে এলেন লোকাল বাসে | Collector
৮ পাম্প ঘুরেও গাড়ির তেল পাননি এমপি, সংসদে এলেন লোকাল বাসে
Jagonews24

৮ পাম্প ঘুরেও গাড়ির তেল পাননি এমপি, সংসদে এলেন লোকাল বাসে

জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে সংসদে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) সালাহ উদ্দিন আইউবী। গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনের এই এমপি জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, নিজে আটটি পাম্প ঘুরেও তেল পাননি, গাড়ি রেখে লোকাল পরিবহনে সংসদে আসতে হয়েছে। অথচ সরকারিভাবে বলা হচ্ছে তেলের সংকট নেই। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন সালাহ উদ্দিন আইউবী। তিনি বলেন, তেল সংকটের জন্য ভাড়া করা গাড়ি ব্যবহার করতাম এ সংসদে আসার জন্য। ভেবেছিলাম ঢাকায় এসে তেল পাবো। আটটি পাম্প ঘুরেও তেল না পেয়ে গাড়ি রেখে সংসদে এসেছি। সেদিন জ্বালানিমন্ত্রী সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলেছিলেন, বাংলাদেশে তেলের সংকট নেই। আমি আশ্চর্য হয়েছি, কী দেখলাম, আর কী শুনলাম। তিনি আরও বলেন, কাপাসিয়ার ওপর দিয়ে গ্যাস গেলেও এলাকায় গ্যাসের সংযোগ নেই। তাই শিল্প গড়ে ওঠেনি, কর্মসংস্থান সংকট থেকে যুবকেরা মাদকের দিকে ঝুঁকছেন। মাদক দমন অভিযানের আহ্বান জানান তিনি। সালাহ উদ্দিন আইউবী আরও বলেন, ১৭৪২ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে প্রায় ১১৬০ কিলোমিটারই কাঁচা। বর্ষায় এতে জনদুর্ভোগ বাড়ে। শীতলক্ষা নদীর ওপর কাপাসিয়ার একমাত্র সেতুতে নির্মাণ ব্যয়ের চার গুণের বেশি টাকা উঠে গেলেও টোল বন্ধ হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এরপর ঝালকাঠি-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, আইলা, সিডর ও জলোচ্ছ্বাসে তার এলাকার মানুষ বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হন। নদীর পানির সঙ্গে লবণাক্ততা বাড়ে, ঘরবাড়ি ভাঙে, মানুষ নিঃস্ব হয়। এ অবস্থায় ঝালকাঠিতে নদীভাঙন রোধে বিশেষ প্রকল্প নেওয়ার দাবি জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, তার এলাকায় বড় কোনো শিল্পকারখানা নেই। নদী ও খালনির্ভর এই অঞ্চলের বহু খাল ভরাট হয়ে গেছে। সরকার নতুন উদ্যোগে খাল কাটার কাজ শুরু করায় মানুষ আশাবাদী বলেও উল্লেখ করেন তিনি। চাঁদপুর-২ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, দেশে এখন মুদ্রাস্ফীতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সাধারণ মানুষ সরাসরি তার চাপ অনুভব করছে। এতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে, টাকার মান পড়ছে, স্বল্প ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জীবন কঠিন হয়ে উঠছে। তার ভাষায়, মূল্যস্ফীতি বাড়লে আয়ের বৈষম্য বাড়ে, সঞ্চয়ের মূল্য কমে যায়, মানুষ সঞ্চয়ে আগ্রহ হারায়, উৎপাদন খরচ ও আমদানি ব্যয় বাড়ে, বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ে এবং খাদ্যনিরাপত্তাও হুমকিতে পড়ে। অতিরিক্ত টাকা ছাপানোর অভিযোগ তোলেন তিনি। তার দাবি, ৬০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত মুদ্রণ করা হয়েছিল এবং তার প্রভাব এখনকার মূল্যস্ফীতিতে পড়েছে। এ কাজে জড়িত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনারও দাবি জানান তিনি। সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, রাষ্ট্রপতির পদে যিনি থাকবেন, তিনি সব দল, মত ও সম্প্রদায়ের আস্থার প্রতীক হওয়া উচিত। কিন্তু বর্তমান রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ক্ষমতাকেন্দ্রের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এমওএস/এএমএ

Go to News Site