Collector
বিসিবির নতুন অ্যাডহক কমিটিকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে বুলবুলের বিবৃতি | Collector
বিসিবির নতুন অ্যাডহক কমিটিকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে বুলবুলের বিবৃতি
Somoy TV

বিসিবির নতুন অ্যাডহক কমিটিকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে বুলবুলের বিবৃতি

আমিনুল ইসলাম বুলবুল-এর নেতৃত্বাধীন বিসিবির আগের বোর্ড বাতিল করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। এর পরিবর্তে নতুন করে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাবেক জাতীয় দলের অধিনায়ক তামিম ইকবালকে।নতুন গঠিত অ্যাডহক কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন ফাহিম সিনহা, রফিকুল ইসলাম বাবু, সালমান ইস্পাহানি, তানজিল চৌধুরী, আতহার আলি খান, মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, ইসরাফিল খসরু, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, মির্জা ইয়াসির আব্বাস এবং রাশনা ইমাম।  এদিকে সদ্য সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল নতুন এই অ্যাডহক কমিটিকে ‘অবৈধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেছেন। পুরো বিবৃতিটি নিম্নে তুলে ধরা হলো।  বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বিবৃতি তারিখ: ৭ এপ্রিল ২০২৬ বিষয়: তথাকথিত ‘প্রোব রিপোর্ট’ প্রত্যাখ্যান এবং ৬ অক্টোবর ২০২৫ সালের বিসিবি নির্বাচনে কোনো অনিয়মের অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার।   আমি, আমিনুল ইসলাম বুলবুল, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর যথাযথভাবে নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) পরিচালিত সাম্প্রতিক বিদ্বেষপ্রসূত তথাকথিত ‘তদন্ত’ প্রসঙ্গে বক্তব্য প্রদান করছি। আমি স্পষ্টভাবে জানাচ্ছি যে, ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জমা দেওয়া প্রতিবেদনটি একটি ত্রুটিপূর্ণ, খামখেয়ালি এবং আইনগতভাবে অগ্রহণযোগ্য দলিল, যার আইন কিংবা বিসিবি সংবিধানের দৃষ্টিতে কোনো বৈধতা নেই।  আরও পড়ুন: বাংলাদেশের ক্রিকেটের হারানো সম্মান ফিরিয়ে আনতে চান বিসিবির নতুন সভাপতি ১. নির্বাচন দুর্নীতির অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান: আমি ৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনে দুর্নীতি, কারসাজি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের সব অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করছি।  এই নির্বাচন সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে বিসিবি কর্তৃক ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে গঠিত বৈধ তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়। কমিশনের সদস্যরা ছিলেন— অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার।  সিবগত উল্লাহ, বিপিএম, পিপিএম- অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পুলিশ ও সিআইডি প্রধান, নির্বাচন কমিশনার। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক (যুগ্মসচিব)— নির্বাচন কমিশনারপুরো প্রক্রিয়া বিসিবি সংবিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করে পরিচালিত হয়েছে।  ১৫টি ক্লাব এবং মি. তামিম ইকবালের কাউন্সিলরশিপ সংক্রান্ত আপত্তিসহ সব অভিযোগ ২৪-২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে কোয়াসি-জুডিশিয়াল শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়। কিছু সাবেক খেলোয়াড়ের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে ছড়ানো ‘নির্বাচন কারচুপি’র অভিযোগ সম্পূর্ণ মনগড়া এবং বোর্ডকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা। নির্বাচন পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখেই অনুষ্ঠিত হয়। ২. এনএসসি তদন্ত ক্ষমতাবহির্ভূত এবং এখতিয়ারবিহীন: জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) কোনোভাবেই একটি স্বায়ত্তশাসিত, স্বশাসিত সংস্থা যেমন বিসিবির সমাপ্ত নির্বাচনি প্রক্রিয়া তদন্ত করার ক্ষমতা নেই। আইসিসির সংবিধান অনুযায়ী সদস্য বোর্ডগুলোকে সরকারি হস্তক্ষেপমুক্ত থাকতে হয়।  রাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই তদন্ত একটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, কোনো বৈধ আইনি প্রক্রিয়া নয়। এই রিপোর্ট quo non judicibus— অর্থাৎ বিচারিক এখতিয়ার না থাকায় এটি বাতিলযোগ্য।  ৩. বোর্ড ভেঙে দেওয়া এবং অ্যাড-হক কমিটি অবৈধ: নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া এবং মি. তামিম ইকবালের নেতৃত্বে তথাকথিত ‘অ্যাডহক কমিটি’ গঠন সংবিধানবিরোধী।এটি— · বিসিবি সংবিধানের লঙ্ঘন · আইসিসির সরকারি হস্তক্ষেপ বিরোধী নীতির সরাসরি বিরোধী।  এনএসসি শুধুমাত্র চরম বিশেষ পরিস্থিতিতে নির্বাচিত বোর্ড ভাঙতে পারে— এখানে সেই ধরনের কোনো পরিস্থিতি নেই। এই ‘অ্যাডহক কমিটি’ একটি ভুয়া কাঠামো। আমরা এর কোনো বৈধতা স্বীকার করি না এবং আইসিসির প্রতি আহ্বান জানাই যাতে এই অবৈধ সংস্থাকে কার্যকর হতে না দেওয়া হয়।  আরও পড়ুন: যেসব অনিয়মের কারণে বাতিল হলো বুলবুলের বিসিবি কমিটি ৪. বৈশ্বিক ক্রীড়াক্ষেত্রে বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত: যখন একটি সরকারি সংস্থা জনগণের ভোটকে অগ্রাহ্য করে, আইনের শাসন উপেক্ষা করে এবং সমাপ্ত নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে অস্থিতিশীল করে, তখন তা বাংলাদেশ ক্রিকেটকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়।  এটি শাসনব্যবস্থায় এমন এক বিশ্বাসহীনতার কৃষ্ণগহ্বর তৈরি করে, যেখান থেকে আস্থা ফিরে আসা কঠিন। এ ধরনের বেপরোয়া পদক্ষেপ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। প্রশ্ন হলো— · আমাদের লিগে কে বিনিয়োগ করবে? · কে আমাদের আয়োজক সক্ষমতার ওপর আস্থা রাখবে? আন্তর্জাতিক মহলকে বুঝতে হবে যে, সরকারের এই পদক্ষেপ আমাদের ক্রিকেটের স্বায়ত্তশাসনের গলায় ছুরি ধরার সামিল। ৫. ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ: এই অস্থিরতা খেলোয়াড় তৈরির জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর। সরকার যখন রাজনৈতিক খেলায় ব্যস্ত, তখন অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। আমরা ইতোমধ্যে দেখেছি জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩%-এ নেমে এসেছে এবং শিল্পোৎপাদন কমেছে— এ অবস্থায় খেলাধুলায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ অর্থনীতি বা যুবসমাজের কী উপকার করবে?  উপসংহার ও আহ্বান: আমরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-এর প্রতি অবিলম্বে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানাই, যাতে নির্বাচিত বোর্ডের বৈধতা রক্ষা পায়। · অ্যাডহক কমিটি অবৈধ · তদন্ত রিপোর্ট অবৈধ  ৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখের নির্বাচন, যা একটি নিরপেক্ষ তিন সদস্যের কমিশনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে— যেখানে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সিনিয়র সিআইডি কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তা পরবর্তীতে কোনো সরকারি সংস্থা প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে না। উচ্চ আদালত ভিন্ন নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আমিনুল ইসলাম বুলবুলই বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি।

Go to News Site