Somoy TV
টানা আট মাস ধরে বিদেশি বায়ারদের অর্ডার কমার সঙ্গে সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে জাহাজ ও কনটেইনার ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় চতুর্মুখী সংকটে পড়েছে দেশের তৈরি পোশাক খাত। ব্যবসায়ীদের দাবি, চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে আমদানি করা কাঁচামাল ঢাকার কারখানায় নিয়ে যাওয়া এবং রফতানিযোগ্য তৈরি পোশাক বন্দরে পৌঁছে দেয়ার পরিবহন খরচও প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মার্চ মাসে ২ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ শতাংশ কম। অর্থবছরের শুরুতে জুলাই মাসে ৩৯ দশমিক ৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানির মাধ্যমে ২৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও পরবর্তী আট মাসে তা ধারাবাহিকভাবে কমে এসেছে। ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরামের চেয়ারম্যান এস এম আবু তৈয়ব বলেন, কাঁচামালের দাম বেড়েছে। ব্যাংক খরচও আগের তুলনায় বেড়েছে। এতে প্রতিটি খাতেই ব্যয় বেড়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে তৈরি পোশাক শিল্পের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে, কিন্তু অর্ডার কমে গেছে। সব মিলিয়ে খাতটি এখন একটি কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আরও পড়ুন: ২০২৫-২৬ অর্থবছর / ৯ মাসে তৈরি পোশাক রফতানি আয় কমলো ৫.৫১ শতাংশ এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকায় বেড়েছে জাহাজ ও কনটেইনার পরিবহন ভাড়াও। যুদ্ধের এই এক মাসে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন রুটে প্রতিটি কনটেইনার পরিবহনে ভাড়া ৬০০ থেকে এক হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বাড়িয়েছে মেইন লাইন অপারেটররা। বাফার সাবেক প্রেসিডেন্ট কবীর আহমেদ বলেন, ইউরোপ রুটে আগে যেখানে ভাড়া ছিল ১৬০০ থেকে ১৮০০ ডলার, এখন তা বেড়ে ২২০০ থেকে ২৮০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধের আগে ভাড়া ছিল ২৬০০ থেকে ২৮০০ ডলার, যা এখন বেড়ে প্রায় ৩৮০০ ডলারে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালির প্রভাব এবং তেল পরিবহনে প্রায় ২৫ শতাংশ ব্যাঘাত তৈরি হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান বাজার ইউরোপ ও আমেরিকা হওয়ায় কনটেইনারবাহী জাহাজগুলো এখন হরমুজ প্রণালির পরিবর্তে লোহিত সাগর হয়ে চলাচল করছে। অন্যদিকে দেশে জ্বালানি তেলের দাম না বাড়লেও তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন খরচ বেড়েছে বলে দাবি করছেন গার্মেন্টস মালিকরা। বিজিএমইএর পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, আরএমজি খাত একসঙ্গে আমদানি ও রফতানি নির্ভর। কাঁচামাল ঢাকায় আনার পরিবহন খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। একইভাবে ঢাকার কারখানা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য পৌঁছানোর খরচও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, জাহাজ পরিচালনা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি বীমা কোম্পানিগুলোর প্রিমিয়ামও বেড়েছে। ফলে জাহাজ ভাড়া বা ফ্রেইট খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এই অতিরিক্ত ব্যয় শেষ পর্যন্ত ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার, শিপিং লাইন এবং আমদানি-রফতানিকারক; সবার ওপরই চাপ তৈরি করছে। আরও পড়ুন: অপ্রচলিত বাজারে কমছে দেশের পোশাক রফতানি, নেপথ্যে কী? গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, জ্বালানি তেলের সংকটের অজুহাতে পরিবহন খরচ প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের ভাড়া সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এতে আমদানি করা কাঁচামাল কারখানায় নেয়া এবং রফতানিযোগ্য পণ্য বন্দরে পৌঁছানো; দুই ক্ষেত্রেই তৈরি হচ্ছে নানামুখী সংকট। বিজিএমইএর পরিচালক এমডি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, তেলের সংকটের কারণে দেশে পরিবহন খরচ দ্বিগুণ হয়ে গেছে। কনটেইনার ভাড়াও এখন প্রায় দ্বিগুণ। এছাড়া আমদানি করা কাঁচামালের ক্ষেত্রে সময় বাড়ানোর আবেদন জানাচ্ছেন সরবরাহকারীরা। সব মিলিয়ে আগামী দিনে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দ্রুত জ্বালানি সংকটের সমাধান করা প্রয়োজন। এদিকে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে পণ্য রফতানি হয়েছে ৩০ দশমিক ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা কিছুটা কমে ২৮ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
Go to News Site