Somoy TV
পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) না করেই কক্সবাজারের মহেশখালী চ্যানেল ও মহেশখালী উপকূলে দেয়া ৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫৯ হাজার ১৮২ ঘনফুট বালু উত্তোলনের অনুমতি বাতিলের দাবিতে জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দিয়েছে তিনটি পরিবেশবাদী সংগঠন।মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটি (ইয়েস), কক্সবাজার সিভিল সোসাইটি ও নদী পরিব্রাজক দল কক্সবাজারের জেলা প্রশাসককে এ স্মারকলিপি দেন।এ সময় জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসাইন সজীব।সংগঠনগুলোর পক্ষে কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট রমিজ আহমেদ, ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির (ইয়েস) চেয়ারম্যান এডভোকেট মুজিবুল হক, প্রধান নির্বাহী ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ মামুন এবং নদী পরিব্রাজক দল সহসম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হেনা মোস্তফা কামাল।স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের (সওজ অংশ) মাতারবাড়ী পোর্ট এক্সেস রোড নির্মাণের জন্য নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টোকিও-এমআইএলকে (জেভি) মহেশখালী চ্যানেলে-মহেশখালী উপকূলের হামিদারদিয়া ও ঠাকুরতলা মৌজা থেকে ৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫৯ হাজার ১৮২ ঘনফুট বালু উত্তোলনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। অথচ প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে এ রোড নির্মাণের জন্য তিনটি প্যাকেজে ৫০ কোটির অধিক ঘনফুট বালুর চাহিদা রয়েছে।আর বালু উত্তোলনের ক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এর ধারা ১২ অনুযায়ী এবং পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩ অনুযায়ী EIA (Environment Imapct Assessment) করার বাধ্যবাধকতা আছে।আরও পড়ুন: অবৈধ বালু উত্তোলনে বাঁধা দেয়ায় হামলা, অর্ধশত গাছ কাটার অভিযোগদেশের প্রচলিত আইন উপেক্ষা এবং তথ্যগোপন করে গত ২ এপ্রিল জেলা বালু মহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি কতিপয় শর্ত সাপেক্ষে উপরোক্ত প্রতিষ্ঠানকে বালু উত্তোলনের অনুমোদন দিয়েছে।স্মারকলিপিতে পরিবেশবাদীরা অভিযোগ করেন, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন না করে এভাবে নির্বিচারে বালু উত্তোলন করলে ওই এলাকায় নদী ভাঙন বাড়বে, নষ্ট হবে জলপ্রবাহ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য। ধ্বংস হবে জীববৈচিত্র্য, ক্ষয় হয়ে যাবে সমুদ্র উপকূল। যার ফলে এসব এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ-প্রতিবেশ ব্যাপক সংকটে পড়বে। পাশাপাশি অপরপ্রান্তে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত রানওয়ে বিশদভাবে ক্ষতিরমুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।তাই বালু উত্তোলনের জন্য এরইমধ্যে দেয়া অনুমোদন বাতিল করে দেশের প্রচলিত আইন, পরিবেশ সংগঠন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামতকে আমলে নিয়ে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) করেই বালু উত্তোলনের জন্য নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে স্মারকলিপিতে।এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসাইন সজীব বলেন, ‘স্মারকলিপিটি গুরুত্ব দিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।’
Go to News Site