Jagonews24
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মো. আলী হোসেন (৪৯) নামে বাংলাদেশি এক নাগরিক নিহত হয়েছেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোরে তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) অধীন ধবলগুড়ি বিওপির সীমান্ত পিলার ৮৭৪/৫-এস সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এর আগে, সোমবার (৬ এপ্রিল) ঘাস কাটতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে মো. মিজানুর রহমান নামে বাংলাদেশি এক যুবক আহত হন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আজ বুধবার ভোরে ফের গুলির ঘটনা ঘটলো। নিহত আলী হোসেন পাটগ্রাম উপজেলার সরকারহাট ইউনিয়নের ধবলগুড়ি (পূর্ব পানিয়ারটারী) গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৬১ তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনিম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দিনগত আনুমানিক ২টা ৫০ মিনিটে এবং পরবর্তীতে ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) অধীন ধবলগুড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত পিলার ৮৭৪/৫-এস সংলগ্ন শূন্য লাইন থেকে আনুমানিক ৫০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে পরপর দুই রাউন্ড ফায়ারের শব্দ শোনা যায়। ঘটনাস্থলটি ভারতের ১৫৬ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের সাতগ্রাম ক্যাম্পের আওতাধীন এলাকা। ফায়ারের শব্দের প্রেক্ষিতে সকাল আনুমানিক ৬টা ৩৫ মিনিটে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ে বিএসএফের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। বিজিবিকে দেওয়া বিএসএফের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোররাতে ৭-৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক ভারতীয় সীমান্তে তারকাঁটার বেড়া কাটার উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে। এসময় বিএসএফ সদস্যরা প্রথমে সতর্কতামূলক ফায়ার করে। একপর্যায়ে ওই দলটির সঙ্গে বিএসএফ সদস্যদের ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এসময় বিএসএফের গুলিতে মো. আলী হোসেন ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হন। পরবর্তীতে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ ওই বাংলাদেশিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং তাকে স্থানীয় ভারতীয় হাসপাতালে পাঠান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে ৬১ বিজিবির তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনিম জানান, এ ঘটনার বিস্তারিত যাচাই ও তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাটালিয়ন ও সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। মহসীন ইসলাম শাওন/কেএইচকে/এমএস
Go to News Site