Somoy TV
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ঘিরে উত্তপ্ত রাজনীতির মাঠ। সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন বনাম বিএনপির বিশেষ কমিটির প্রস্তাব—এই দ্বন্দ্বে রাজপথ থেকে সংসদ, সবখানেই এখন অস্বস্তির ছায়া। উভয়পক্ষের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এ সংকটের উত্তরণ সম্ভব বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। বিরোধীদের রাজপথের পরিবর্তে সংসদে নিষ্পত্তির চেষ্টা এবং সরকারকে জনপ্রত্যাশা পূরণে জোর দেয়ার তাগিদ তাদের।রাজপথ থেকে সংসদ ভবন সবখানেই এখন আলোচনার তুঙ্গে 'জুলাই সনদ'। ঐকমত্য কমিশনের দীর্ঘ বৈঠক, বর্ণাঢ্য আয়োজনে স্বাক্ষর অনুষ্ঠান কিংবা সবশেষ গণভোট জুলাই সনদ ঘিরে চলা এ কর্মযজ্ঞের কোনোটিই যেন সমাধান দিতে পারছে না চলমান রাজনৈতিক বিতর্কের। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এই সংস্কারমালা। এর বাস্তবায়নে এরইমধ্যে 'সংস্কার পরিষদের' সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছে জামায়াত ও এনসিপিসহ অন্যান্য বিরোধী দল। তবে এ প্রক্রিয়াকে অসাংবিধানিক দাবি করে শপথ নেয়নি ক্ষমতাসীন বিএনপি। তারা সংস্কার পরিষদের পরিবর্তে একটি 'বিশেষ কমিটি' গঠনের মাধ্যমে এর সুরাহা করতে চায়। কিন্তু বিএনপির এ প্রস্তাবে সায় দেয়নি বিরোধীরা। আরও পড়ুন: অন্তর্বর্তী সরকারের ১৪ অধ্যাদেশ সংসদে পাস বিতর্কের এই উত্তাপ সংসদ ছাড়িয়ে এখন রাজপথে। কর্মসূচিতে উত্তপ্ত হচ্ছে রাজনীতির মাঠ। জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের অনেকগুলোতেই বিএনপিসহ কয়েকটি দলের 'নোট অব ডিসেন্ট' বা ভিন্নমত রয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, কোন প্রক্রিয়ায় মিলবে এ জটিল সংকটের সমাধান? পারস্পরিক দোষারোপ নয় জুলাই সনদের টেকসই বাস্তবায়নে ঐক্যমতের ভিত্তিতে রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর ওপর জোর দিচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ শাহান। অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ শাহান বলেন, প্রশ্নটা হচ্ছে আপনি সমাধানে আসতে চান কিনা এবং এই সমাধানটা মূলত রাজনৈতিকভাবে সমাধান হওয়া লাগবে। আমরা যদি সাধারণ সংশোধনী করি, পরিশোধ করে গাঠনিক ক্ষমতা না দেই, তাহলে এই মূল্যায়নটা থাকছে না। মূল্যায়নটা শনাক্ত করবেন কিভাবে, বিএনপির কাছ থেকে এটার কোনো উত্তর আসছে না। যদি বাস্তবায়ন করা হয় মূলত বাংলাদেশে রিফর্মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকটর ঐতিহাসিকভাবে বিএনপি। এই যে আপনার আইডেন্টিটিটা তৈরি হবে সেইটা অ্যামব্রেস করাটা আপনার জন্য বেশি লাভজনক না। উভয়পক্ষের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এ সংকটের উত্তরণ সম্ভব বলে মনে করেন এ শিক্ষাবিদ। বিরোধীদের রাজপথের পরিবর্তে সংসদে নিষ্পত্তির চেষ্টা এবং সরকারকে জনপ্রত্যাশা পূরণে জোর দেয়ার পরামর্শ তার। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, সরকার এবং বিরোধীদলের মধ্যে রাজনৈতিক সদিচ্ছা যদি তাদের মধ্যে তৈরি হয় যে, তারা এ বিষয় পরিবর্তন করবেন তাহলে সংবিধান সংস্কার পরিষদ ছাড়াও এটি করা সম্ভব। তাদের (বর্তমান সরকার) সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে জনগণের ম্যান্ডেট, কিন্তু সেই ম্যান্ডেটের চেয়েও তারা বিবেচনা করবেন জন প্রত্যাশাটা কী, জনগণের কল্যাণের জন্য কী সেইটা। অন্যদিকে বিরোধীদলের কাছে প্রত্যাশা থাকবে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করবেন মাঠে, কিন্তু তার আগে সেটি সংসদে নিষ্পত্তি করার জন্য তাদের পক্ষ থেকে সর্বাত্বক চেষ্টাটা থাকতে হবে। সংস্কারের ৮৪ দফা নিয়ে শুরু হওয়া এই রশি টানাটানি শেষ পর্যন্ত কোন পথে মোড় নেয় তা নির্ধারণ করবে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই। জনভোগান্তি তৈরি না করে সমাধানে যাওয়ার তাগিদ বিশ্লেষকদের।
Go to News Site