Somoy TV
পঞ্চাশ বছর আগেও গাইবান্ধা শহরবাসীর সুপেয় পানি ও গৃহস্থালি কাজের প্রধান ভরসা ছিল বিশাল আকৃতির সব কূপ বা ইন্দারা। সময়ের বিবর্তনে এবং আধুনিক পাম্পের প্রসারে সেই অমূল্য পানির উৎসগুলো এখন বিলুপ্তির পথে। অধিকাংশ কূপই প্রভাবশালীরা ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন, ফলে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে শতবর্ষী এই ঐতিহ্যের স্মারকগুলো।শহরের প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, ব্রিটিশ আমলে খনন করা এসব কূপ গাইবান্ধা পৌরসভার বিভিন্ন মোড়ে ও পাড়া-মহল্লায় একসময় ২০ থেকে ২৫টি ছিল। বিশেষ করে মধ্যপাড়া, খন্দকার মোড়, মাস্টারপাড়া, ব্রিজ রোড ও সবুজপাড়ার মতো এলাকায় পৌরসভার জায়গায় এসব কূপের অবস্থান ছিল। তবে বর্তমানে এসব জায়গায় কূপের বদলে দেখা যাচ্ছে বাণিজ্যিক ভবন বা ব্যক্তিগত ঘরবাড়ি।সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের সার্কুলার রোডে ১৫ বছর আগেও সচল থাকা একটি বড় ইন্দারা এখন বাণিজ্যিক স্থাপনার নিচে চাপা পড়েছে। রমেশ সুইটস ও ফুড ভিলেজ সংলগ্ন এলাকায় থাকা সেই কূপটির এখন আর কোনো চিহ্ন নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালীরা অনেক কূপ মাটি দিয়ে ভরাট করে ফেলেছেন। কেউ কেউ আবার পৌরসভার মালিকানাধীন এসব কূপকে ব্যক্তিগত ‘সোকওয়েল’ (ময়লা পানি নিষ্কাশনের আধার) হিসেবে ব্যবহার করছেন।শহরের মুন্সিপাড়ার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট শাহাদত হোসেন লাকু ও থানাপাড়ার আব্দুল কাদের নেওয়াজ বলেন, একসময় এই ইন্দারাগুলো ছিল শহরের প্রাণ। আজ সেগুলো দখল হয়ে যাওয়ায় ইতিহাসের পাশাপাশি পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।আরও পড়ুন: সুপেয় পানির দাবিতে কালিগঞ্জে মানববন্ধনপরিবেশবিদ মির্জা শামীম আহসান হাবীব বলেন, ‘এই কূপগুলো ছিল টেকসই পানির উৎসের চমৎকার উদাহরণ। বিদ্যুৎ বা জ্বালানি ছাড়াই এখান থেকে সারা বছর সুপেয় পানি পাওয়া যেত। এগুলো হারিয়ে যাওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের ওপর চাপ বাড়ছে এবং জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প পানির উৎস সংকুচিত হয়ে পড়ছে।’পৌরসভার নথিতে বর্তমানে মাত্র পাঁচটি কূপের অস্তিত্ব থাকলেও বাস্তবে সেগুলোর কোনোটিই এখন সাধারণ মানুষের ব্যবহারের অবস্থায় নেই। সবগুলোই কোনো না কোনোভাবে বেদখল হয়ে গেছে। পৌরসভার মূল্যবান জমি ও এসব সম্পদ উদ্ধারে কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নাগরিক সমাজ।এ বিষয়ে গাইবান্ধা পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হানিফ সরদার বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে কূপগুলোর তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছি। দখল হওয়া জায়গা ও কূপ উদ্ধারে আগামী দিনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’১৮৭৫ সালে গোড়াপত্তন হওয়া গাইবান্ধা শহরের ঐতিহ্য ও পরিবেশ রক্ষায় এই পানির উৎসগুলো দ্রুত উদ্ধার ও সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
Go to News Site