Somoy TV
চাঁদপুরের হাইমচরে মেঘনা নদীর তীরবর্তী একটি বিশাল খেলার মাঠ রাতের আঁধারে গিলে খেয়েছে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা। উপজেলার চরভৈরবী ইউনিয়নের গাজীনগর এলাকায় নদী রক্ষা বাঁধ সংলগ্ন কয়েক একর বালিচর ড্রেজার দিয়ে কেটে নেওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মূল বাঁধ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গাজীনগর এলাকায় মেঘনার তীরে জেগে ওঠা বিশাল বালুচরে এলাকার শিশু-কিশোররা নিয়মিত খেলাধুলা করত। গত সোমবার বিকালেও সেখানে ফুটবল খেলা হয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে এসে দেখা যায়, প্রভাবশালী একটি চক্র রাতের আঁধারে ড্রেজার দিয়ে বালু কেটে নেওয়ায় মাঠের কোনো অস্তিত্ব নেই। মাঠের জায়গায় এখন কেবল অথৈ পানি।স্থানীয় বাসিন্দা দুলু মুন্সি ও রাকিব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গতকাল বিকেলে এখানে ছেলেরা ফুটবল খেলল, আর সকালে দেখি মাঠটাই নেই! এভাবে বালু কাটার ফলে নদী রক্ষা বাঁধটি এখন চরম ঝুঁকিতে। বাঁধ ভেঙে গেলে আমাদের ঘরবাড়ি সব নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।’হাইমচর থানা সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় ৭ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিরা হলেন- আব্দুল কাদের (২২), মো. আইয়ুব আলী (২০), আমান উল্যাহ (১৯), মোরশালিন (১৯), শফিকুল ইসলাম (২৩), দেলোয়ার মিজি (৪৪) ও মনির হোসেন জুয়েল (৩৫)।হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, মামলার প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া ‘এমবি মিম এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি বাল্কহেড ও ‘মা-বাবার দোয়া’ নামের একটি আনলোডিং জাহাজ স্থানীয় জনতা ও নৌ-পুলিশের সহায়তায় আটক করা হয়েছে।আরও পড়ুন: মেঘনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, ১৪ ড্রেজারের নথিপত্র জব্দখবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা প্রশাসন, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা। হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায় বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থান মেরামতের নির্দেশনা দিয়েছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে স্টকে থাকা ব্লক এনে প্রাথমিকভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে।এদিকে হাইমচর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শফিক বলেন, ‘যারা এই বালু কেটে নদী রক্ষা বাঁধকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে, তারা যে দলেরই হোক না কেন, তাদের কঠিন বিচার করতে হবে। বিচার না হলে অচিরেই হাইমচর নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে।’
Go to News Site