Somoy TV
পাকিস্তানের বক্তব্য অনুযায়ী ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির মধ্যে লেবানন অন্তর্ভূক্ত হলেও তা মানতে চাইছে না ইসরাইল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দফতর বলছে, তারা ইরানে মার্কি হামলা বাতিলের সিদ্ধান্ত সমর্থন করলেও এটা লেবাননের ওপর কার্যকর হবে না। খবর আল জাজিরার।পাকিস্তানের মধ্যস্থাতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। যা ইরান ও মার্কিন উভয় পক্ষই নিশ্চিত করেছে। আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এক এক্স পোস্টে জানান, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এবং তাদের মিত্ররা যুদ্ধবিরতিতে একমত হয়েছে। যা লেবানন ও অন্যসব রণাঙ্গনে কার্যকর হবে।’ শরিফ জানান, যুদ্ধবিরতির এই পদক্ষেপ ‘তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।’ কিন্তু পাক প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়।’ গত ২ মার্চ অর্থাৎ ইরানে ইসরাইল ও আমেরিকার সামরিক আগ্রাসনের তিনদিন পর ইসরাইলে হামলার মধ্যদিয়ে এই লড়াইয়ে যোগ লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটি তখন জানায়, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে লেবাননে ইসরাইলের অব্যাহত হামলার ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নিতে এই হামলা চালানো হচ্ছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলের গণহত্যামূলক যুদ্ধ শুরুর পর ইসরাইলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের মধ্যে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা গোলাগুলির পর ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। কিন্তু হিজবুল্লাহ সেই চুক্তি মানলেও ইসরাইল তা কখনও মানেনি। আরও পড়ুন: ১০ দফা পরিকল্পনা / ইরানের শর্ত মেনেই কি শেষ হচ্ছে যুদ্ধ, কী কী আছে প্রস্তাবে? নতুন করে ইরানে আগ্রাসন শুরু হলে লেবাননে বিমান হামলা জোরদার করে ইসরাইল। শুধু তাই নয়, দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযানও শুরু করে দেশটির বাহিনী। এতে ওই অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বহু বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছে। লেবানন কর্তৃপক্ষের মতে, গত ২ মার্চ থেকে লেবাননে ইসরাইলি হামলায় ১৫০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ১২ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান নিয়ে প্রকাশ্যেই বলেছে যে, তারা ওই অঞ্চলে একটি ‘বাফার জোনের’ জন্য আরও ভূখণ্ড দখল করতে চায়। কিন্তু যুদ্ধবিরতি হলেও তা মানতে চাইছে না ইসরাইল। যাকে দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান এবং বৈরুতে বিমান হামলা চালিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট বার্তা বলে মনে করা হচ্ছে। টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইল ট্রাম্পের এই সাময়িক হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে। তবে তা কিছু নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে। শর্তগুলো হলো—ইরানকে অবিলম্বে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ওই অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর সব ধরনের হামলা বন্ধ করতে হবে। তবে যুদ্ধবিরতি লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরাইলের যুদ্ধের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না। আরও পড়ুন: যুদ্ধবিরতিতে ‘সমর্থন’ দিয়েও ইরানে ইসরাইলের হামলা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দফতর আরও জানিয়েছে, ওয়াশিংটন জেরুজালেমকে আশ্বস্ত করেছে যে তারা এই আলোচনার মাধ্যমে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি এবং সন্ত্রাসী তৎপরতা চিরতরে বন্ধ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে জানিয়েছে, তারা আসন্ন আলোচনার মাধ্যমে এই লক্ষ্যগুলো অর্জনে অঙ্গীকারবদ্ধ, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একটি যৌথ লক্ষ্য।’ এদিকে লেবাননভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল মায়াদিন জানিয়েছে, দুই সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে ‘লেবাননসহ সর্বত্র অবিলম্বে কার্যকর যুদ্ধবিরতি’র কথা উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও ইসরাইল লেবাননের বিরুদ্ধে আগ্রাসন অব্যাহত রেখেছে। সংবাদমাধ্যমটি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের রাস আল-আইন এলাকায় একটি গাড়ির ওপর ইসরাইলি আগ্রাসনের ফলে দুজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ইসরাইলি দখলদার বিমান পূর্ব লেবাননের পশ্চিম বেকায় অবস্থিত সোহমোর ও ইয়োহমোর শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে। আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালী থেকে টোল নেবে ইরান ও ওমান: রিপোর্ট লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, গত রাতভর ইসরাইলি দখলদারি আগ্রাসনের ফলে টায়ারের হীরাম হাসপাতালের ভবনটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও ঘোষণা করেছে যে, দক্ষিণ লেবাননের সিডনে একটি ক্যাফেতে ইসরাইলি আগ্রাসনের ফলে আটজন নিহত এবং আরও ২৮ জন আহত হয়েছেন।
Go to News Site