Collector
নেত্রকোনায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা | Collector
নেত্রকোনায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা
Somoy TV

নেত্রকোনায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় সালেহা আক্তার (১৮) নামে এক কিশোরী গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোররাতে উপজেলার ফকিরের বাজার বালুচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের স্বজনদের দাবি, যৌতুকের দাবিতে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। তবে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি, তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন।নিহত সালেহা আক্তার গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকার আলাউদ্দিনের মেয়ে। অভিযুক্ত স্বামী নাইম মিয়া বর্তমানে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।সালেহার ভাই আরিফ ও শাহিন অভিযোগ করেন, প্রায় আট মাস আগে নাইম ও সালেহা প্রেম করে বিয়ে করেন। নাইম আগে গাজীপুরে তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। বিয়ের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন সময় সালেহার পরিবারের কাছে টাকা দাবি করতেন। গত ঈদুল ফিতরের আগে ৩০ হাজার টাকা এবং পরে আরও ২০ হাজার টাকা তাকে দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি তিনি আবারও টাকার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল।নিহতের ভাই আরিফ বলেন, ‘গত রাতে নাইমের পরিবার ফোন দিয়ে জানায় নাইম বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছে, তাকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ভোরে পুলিশের কাছে খবর পাই আমার বোন মারা গেছে। এটা নিশ্চিত পরিকল্পিত হত্যা। যৌতুকের জন্য আমার বোনকে মেরে এখন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার নাটক সাজানো হচ্ছে।’অন্যদিকে, নাইমের স্বজনদের দাবি, বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী একাই ছিলেন। রাতে হঠাৎ তারা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার খবর পান। সেখানে গিয়ে দেখেন একজন আরেকজনের ওপর পড়ে আছেন। দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক সালেহাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং নাইমকে ভর্তির পরামর্শ দেন।আরও পড়ুন: সাভারে নারীর মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি ডেকে নিয়ে হত্যাবুধবার সকালে সালেহার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে তার স্বজনরা ভিড় জমান। এসময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাইমকে দেখে নিহতের পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করে। স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হাসান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, ‘যেহেতু ঘটনাটি রাতে ঘটেছে এবং ঘরে শুধু তারা দুজনই ছিল, তাই ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বলা সম্ভব হচ্ছে না। রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। এটি হত্যা হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

Go to News Site