Collector
যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় শেয়ারবাজারে বড় উত্থান, হাজার কোটির কাছাকাছি লেনদেন | Collector
যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় শেয়ারবাজারে বড় উত্থান, হাজার কোটির কাছাকাছি লেনদেন
Jagonews24

যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় শেয়ারবাজারে বড় উত্থান, হাজার কোটির কাছাকাছি লেনদেন

ইরান যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর বুধবার (৮ এপ্রিল) ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের শেয়ারবাজারে। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক বেড়েছে দেড়’শ পয়েন্টের বেশি। সেই সঙ্গে লেনদেন বেড়ে হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি চলে এসেছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও পড়েছিল। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ছিল সতর্কতা, অনেকেই নতুন বিনিয়োগ থেকে বিরত ছিলেন। তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসায় বাজারে ক্রয়চাপ বেড়েছে। তাদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি ও আমদানি ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা থাকে, যা দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু যুদ্ধবিরতির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় স্থানীয় বিনিয়োগকারীরাও আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। একটি শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউসের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাজারে যে মন্থরতা ছিল, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর তা কাটতে শুরু করেছে। বিনিয়োগকারীরা এখন ধীরে ধীরে বাজারে ফিরবেন বলে আশা করছি। ডিএসইর এক সদস্য বলেন, এই ঊর্ধ্বগতি ধরে রাখতে হলে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আস্থার পরিবেশ জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সূচক যেমন- মুদ্রাস্ফীতি, সুদের হার ও বৈদেশিক মুদ্রার পরিস্থিতিও বাজারের গতি প্রকৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বুধবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। এতে লেনদেনের শুরুতেই সূচকের বড় উত্থান হয়। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকে। ফলে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচকের বড় উত্থান দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ৩৬৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১৫টির। আর ১১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৯১টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১০টির দাম কমেছে এবং ৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৭৪টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২টির এবং ৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১০২টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩টির এবং ২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩০টির দাম বেড়েছে এবং ৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। কোনো মিউচুয়াল ফান্ডের দাম কমেনি। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৬১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩১৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৫৪ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ২৬ পয়েন্টে উঠে এসেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৭৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সবকটি মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৯৯১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫৯৭ কোটি ১ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৩৯৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগের শেয়ার। কোম্পানিটির ৪৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সামিট এলায়েন্স পোর্টের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩০ কোটি ১৫ লাখ টাকার। ২৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সিটি ব্যাংক। এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- একমি পেস্টিসাইড, ব্র্যাক ব্যাংক, ওরিয়ন ইনফিউশন, লাভেলো আইসক্রিম, টেকনো ড্রাগস, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ এবং কেডিএস এক্সসরিজ। অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৩২৮ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২০২ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭৭টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৯টির এবং ৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৩১ কোটি ২৬ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এমএএস/এমআইএইচএস/

Go to News Site