Jagonews24
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাকিস্তানের একটি সূত্র বিবিসিকে জানায়, আলোচনা দ্রুতগতিতে চলছিল এবং এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছিল। সূত্রটি জানায়, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আলোচনায় যুক্ত ছিল ‘খুব ছোট একটি দল’। তাদের মনোভাব ছিল ‘গম্ভীর ও সতর্ক’, তবে তখনো সংঘর্ষ বন্ধের ব্যাপারে আশাবাদী ছিল তারা। হাতে সময় ছিল মাত্র কয়েক ঘণ্টা। তবে সূত্রটি নিজে সেই ছোট দলের অংশ ছিলেন না। মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় পাকিস্তান গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, যৌথ সীমান্ত এবং ‘ভ্রাতৃত্বপূর্ণ’ সম্পর্কের উল্লেখ প্রায়ই করা হয়। আরও পড়ুন>>ইরান: বিশ্বের বুকে নতুন পরাশক্তির উত্থান?হরমুজ প্রণালিতেই ডুবতে পারে মার্কিন ডলারের ‘দাদাগিরি’‘ইসরায়েলের ইতিহাসে এমন কূটনৈতিক বিপর্যয় আর ঘটেনি’ অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসিম মুনিরকে তার ‘পছন্দের ফিল্ড মার্শাল’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং দাবি করেছেন, তিনি ইরানকে ‘অন্যদের চেয়ে বেশি ভালো বোঝেন’। অনিশ্চয়তার মধ্যে আলোচনা চুক্তি হওয়া একেবারেই নিশ্চিত ছিল না। মঙ্গলবার রাতে পার্লামেন্টের বক্তব্যে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, ‘গতকাল পর্যন্ত আমরা আশাবাদী ছিলাম যে পরিস্থিতি ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে।’ তবে সোমবার ইসরায়েলের ইরানে হামলা এবং ইরানের সৌদি আরবে পাল্টা হামলার পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। তিনি জানান, পাকিস্তান ‘সম্ভাব্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পরিস্থিতি সামাল দিতে’। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসিম মুনির আরও কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, সৌদি আরবে হামলা ‘শান্তিপূর্ণ সমাধানের আন্তরিক প্রচেষ্টাকে নষ্ট করছে’। সংঘাত শুরুর পর ইরানের প্রতি পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এটি ছিল সবচেয়ে কড়া বক্তব্যগুলোর একটি। বিশ্লেষকদের মতে, এতে ইরানের ওপর চাপ আরও বাড়ে। কারণ সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তি থাকলেও বারবার হামলার পরও তা এখনো কার্যকর করা হয়নি। শেষ মুহূর্তের কূটনীতি পাকিস্তানের সময় অনুযায়ী মধ্যরাতের পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানান, ‘কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শক্তভাবে এগোচ্ছে’ এবং তা দ্রুত ফল দিতে পারে। তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দুই সপ্তাহ সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ জানান এবং একই সময়ের জন্য ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান। পাকিস্তানে ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদাম রাত ৩টার দিকে এক পোস্টে জানান, ‘সংবেদনশীল পর্যায় থেকে এক ধাপ অগ্রগতি হয়েছে।’ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ভোর ৫টার কিছু আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন এবং দুই পক্ষকে ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানান, যাতে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো যায়। এখনো রয়েছে অনিশ্চয়তা তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। পাকিস্তানের ওই সূত্র বিবিসিকে জানায়, ‘পরিস্থিতি এখনো ভঙ্গুর’ এবং দুই পক্ষের মধ্যে বিশ্বাসের ঘাটতি রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান হয়তো উভয় পক্ষকে এক টেবিলে বসাতে পারবে, কিন্তু তারা একমত হওয়ার পথ খুঁজে পাবে কি না—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। সূত্র: বিবিসিকেএএ/
Go to News Site