Jagonews24
চলতি বছরের মার্চে বৈশ্বিক রেমিট্যান্স প্রবাহ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ওই মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে একক কোনো মাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। এর আগে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২৫ সালের মার্চে ৩ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার এবং একই বছরের ডিসেম্বরে ৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার। রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে চলতি এপ্রিল মাসেও। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, এপ্রিলের প্রথম সাতদিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৮৩ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী (প্রতি ডলার ১২০ টাকা ধরে) যার পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৬৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার। সে হিসাবে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ১৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার বা ২ হাজার ২৮১ কোটি ৪০ লাখ টাকা বেশি এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, এর আগে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এসেছিল গত বছরের মার্চে। ওই সময় প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার। সে হিসাবে চলতি বছরের মার্চে রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি। এছাড়া তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে, যখন দেশে আসে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। আর চতুর্থ সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে চলতি বছরের জানুয়ারিতে, ওই মাসে প্রবাসী আয় ছিল ৩১৭ কোটি মার্কিন ডলার। এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও অস্থিরতার প্রভাব বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও পড়তে শুরু করেছে। সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের চাহিদা বেড়েছে এবং স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হারও বেড়েছে। ফলে প্রবাসীরা দেশে পাঠানো ডলারের বিপরীতে তুলনামূলক বেশি টাকা পাচ্ছেন। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্ত অবস্থানে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। ইএআর/এমকেআর
Go to News Site