Collector
কাজ ছাড়াই বেতন পাচ্ছেন পাবনা চিনিকলের কর্মীরা | Collector
কাজ ছাড়াই বেতন পাচ্ছেন পাবনা চিনিকলের কর্মীরা
Somoy TV

কাজ ছাড়াই বেতন পাচ্ছেন পাবনা চিনিকলের কর্মীরা

দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে পাবনা চিনিকল। উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ থাকলেও এই সময়ে মিলটির শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন বাবদ সরকারের ব্যয় হয়েছে আট কোটি টাকার বেশি। এদিকে দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় অযত্নে-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে মিলের আখ মাড়াই যন্ত্রসহ কোটি টাকার সম্পদ। পাশাপাশি মিল বন্ধ থাকায় চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় আখ চাষিরা।পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়ায় ৬০ একর জমির ওপর অবস্থিত পাবনা চিনিকলটি একসময় শ্রমিক-কর্মচারী ও চাষিদের কোলাহলে মুখর থাকত। কিন্তু এখন সেখানে সুনসান নীরবতা, তৈরি হয়েছে এক ভুতুড়ে পরিবেশ। জানা গেছে, দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন পাবনা চিনিকলটি ১৯৯৬-৯৭ মাড়াই মৌসুমে পরীক্ষামূলকভাবে চিনি উৎপাদন শুরু করে। পরের বছর ১৯৯৭-৯৮ মৌসুম থেকে বাণিজ্যিকভাবে এর কার্যক্রম চালু হয়। তবে উৎপাদন শুরুর পর থেকেই ক্রমাগত লোকসান গুনতে থাকে মিলটি। পরে ২০২০ সালে শিল্প মন্ত্রণালয় দেশের আরও কয়েকটি চিনিকলের সঙ্গে পাবনা চিনিকলের আখ মাড়াইও বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকেই মূলত এ অঞ্চলে আখ চাষ বন্ধ হয়ে যায়। চিনিকল কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যমতে, কারখানাটি বন্ধ হওয়ার পরও পাবনা চিনিকলের ২৭ জন স্থায়ী ও ৩০ জন অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রতিমাসে প্রায় ১২ লাখ টাকা বেতন দেয়া হয়। সে হিসাবে গত ছয় বছরেরও বেশি সময়ে তাদের পেছনে সরকারের আট কোটির বেশি টাকা খরচ হয়েছে। একদিকে বেতন বাবদ বিশাল অংকের টাকা ব্যয় হচ্ছে, অন্যদিকে মাড়াই বন্ধ থাকায় আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় আখ চাষিরা। তবে মিলের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, দেশজুড়ে বন্ধ হওয়া মিলগুলো শিগগিরই চালুর বিষয়ে তারা আশাবাদী। আরও পড়ুন: পাবনায় ছাত্রদল নেতা হত্যার চারদিন পর মামলা, আসামি ৭ চিনিকল এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম বলেন, 'পাবনা চিনিকলটি সারাদেশের মধ্যে অন্যতম বড় একটি চিনিকল। এ চিনিকলটির ধারণক্ষমতা অন্যান্য মিলের চেয়ে অনেক বেশি। ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে চিনিকলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এই এলাকায় আর আখ চাষ হয় না। অন্যান্য ফসলের চেয়ে আখ চাষে ভালো লাভবান হওয়া সম্ভব ছিল। তাই দ্রুত এই মিলটি চালুর দাবি জানাচ্ছি।' জনি হোসেন নামের স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বলেন, 'চিনিকলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার কোটি টাকার মেশিনপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চিনিকলটি দ্বিতীয় ধাপে চালু করার কথা ছিল। যেহেতু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আর নেই, তাই বর্তমান সরকারের কাছে বিশেষ অনুরোধ করে বলছি, চিনিকলটি যেন চালু করা হয়।' রাসেল তালুকদার নামের অপর একজন জানান, চিনিকলটি যখন চালু ছিল, তখন আশপাশের এলাকার দোকানপাটগুলোও চালু ছিল। শত শত মানুষের কর্মসংস্থান ছিল। এখন সেগুলো আর নেই। তাই দ্রুত চিনিকলটি চালুর দাবি জানান তিনি। এ বিষয়ে পাবনা চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, 'চিনিকলটি চালু করে চিনির পাশাপাশি অন্যান্য ব্যবসায়িক পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব। তাহলে চিনিকল থেকে লাভ আসবে। বর্তমানে মেশিনপত্র ও চিনিকল দেখাশোনা করার জন্য দিনরাতে তিন শিফটে ১০ জন করে মোট ৩০ জন পাহারাদার রয়েছেন। মালামাল চুরি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।' তিনি আরও জানান, পাবনা চিনিকল যেহেতু বন্ধ রয়েছে, তাই কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এই মিলের কিছু যন্ত্রাংশ কয়েকটি সচল মিলে পাঠানো হয়েছে।

Go to News Site