Somoy TV
সুন্দরবনে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা বনদস্যু ও ডাকাত দমনে নজিরবিহীন কঠোর অবস্থানে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে নৌবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী বনের গহীন অঞ্চলে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে।বুধবার থেকেই এই সাঁড়াশি অভিযান সুন্দরবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।সম্প্রতি সুন্দরবনের চাঁদপাই, শরণখোলা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে বনদস্যুদের তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে ‘ছোট সুমন’, ‘জাহাঙ্গীর’ ‘করিম শরীফ’, আসাবুর ও জোনাব বাহিনীর মতো নতুন ও পুরনো বেশ কয়েকটি দস্যু দল জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় এবং বনজ সম্পদ লুণ্ঠনের মাধ্যমে এক অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করেছে। এর ফলে একদিকে যেমন বনজীবীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছিল, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আদায়েও বড় ধরনের ধস নামার উপক্রম হয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় গঠিত হয় এই সমন্বিত বাহিনী।কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা জানান, দস্যু নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে। আজ বুধবার সকাল থেকে হারবাড়িয়া, পরাপশুর, জোংড়া ও নন্দোবালা সহ বেশ কয়েকটি নদী-খালে অভিযান চালানো হয়। এতে কোন দস্যু আটক না হলেও তারা কোণঠাসা হয়ে পরেছে বলে দাবী যৌথ বাহিনীর। আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি, দ্রুতগামী স্পিডবোট এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সুন্দরবনের নদী, খাঁড়ি ও বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে যৌথ বাহিনীর তৎপরতায় বেশ কিছু দস্যু আস্তানা ধ্বংস করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে অস্ত্রসহ আটক করতে সক্ষম হয়েছে বাহিনী।পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম এই অভিযানের বিষয়ে বলেন, ‘সুন্দরবন আমাদের জাতীয় সম্পদ। এখানে কোনো ধরনের দস্যুতা বা সন্ত্রাসবাদ বরদাশত করা হবে না। বনজীবী ও পর্যটকদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দস্যুদের শিকড় উপড়ে ফেলতে এই সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যা পুনরায় দস্যু দমন সুন্দরবন ঘোষনা না হবে, ততদিন দিন পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’আরও পড়ুন: জ্বালানি সংকটেও সচল মোংলা বন্দর, ৯ মাসে কোটি টন পণ্য খালাসযৌথ বাহিনীর এই কঠোর অবস্থানের ফলে বনজীবী ও স্থানীয় জেলেদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। জেলেরা নির্বিঘ্নে বনে মাছ ধরা ও মধু আহরণের পরিবেশ ফিরে পাওয়ার আশা করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সুন্দরবনের প্রতিটি প্রবেশপথে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং বনদস্যুদের পৃষ্ঠপোষকদেরও আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
Go to News Site