Somoy TV
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ইট দিয়ে মাথা থেতলে সাত বছরের শিশু সৈকত ইসলামকে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। বলাৎকারের পর পাশবিক নির্যাতন করে শিশুটিকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে জীবন মিয়া (১৫) নামে এক কিশোরকে গ্রেফতারের পর তার স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে এসেছে হত্যাকাণ্ডের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য।এ ঘটনায় নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন আসামি জীবন মিয়া। বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী। এর আগে শিশু সৈকতের লাশ উদ্ধারের পর চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারী জীবন মিয়াকে গ্রেফতার করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। বুধবার দুপুরে ফতুল্লা থানাধিন নরসিংপুর এলাকা থেকে জীবন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। আরও পড়ুন: মাদ্রাসায় ভয় দেখিয়ে ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ, শিক্ষককে গণপিটুনি জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে জীবন মিয়া জানান গত ৫ এপ্রিল বিকেলে ফতুল্লা থানাধীন উত্তর নরসিংহপুর এলাকায় হাজী হাশেম স্পিনিং মিলের পাশে একটি পরিত্যক্ত বাড়ির ভেতরে নিয়ে সাত বছরের শিশু সৈকত ইসলামকে জোরপূর্বক বলাৎকার করেন তিনি। পরে ভুক্তভোগি শিশু সৈকত ঘটনাস্থলে খুব কান্নাকাটি করে বিষয়টি তার বাবাকে জানিয়ে দেবে বললে জীবন মিয়া ইট দিয়ে তার মাথায় বেশ কয়েকটি আঘাত করে হত্যা করে। এরপর শিশুটির মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ পরিত্যক্ত স্থানে ফেলে রেখে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী আরও জানান, পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামি জীবন মিয়াকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন। পরে আদালতের নির্দেশে আসামি জীবন মিয়াকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। আরও পড়ুন: সহপাঠীকে বলাৎকার, অভিযুক্ত ছাত্রকে পালাতে সহায়তা করেন ২ শিক্ষক এর আগে গত রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরের পর থেকে নিখোঁজ হয় ফতুল্লার উত্তর নরসিংপুর এলাকার ভাঙ্গারি ব্যবসায়ি রঞ্জু মিয়ার সাথ বছর বয়সের শিশু ছেলে সৈকত ইসলাম। পরদিন সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে ওই এলাকারই একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে সৈকতের লাশ উদ্ধার করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। এসময় সৈকতের মাথায় ভারী বস্তু দিয়ে একাধিক আঘাতের থেতলানোর ক্ষত চিহ্ন পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ওইদিনই নিহত শিশুটির বাবা মো. রঞ্জু মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী করে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
Go to News Site