Collector
পুলিশ পরিচয়ে প্রতিবন্ধীর বাড়িতে অভিযান, পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ | Collector
পুলিশ পরিচয়ে প্রতিবন্ধীর বাড়িতে অভিযান, পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ
Somoy TV

পুলিশ পরিচয়ে প্রতিবন্ধীর বাড়িতে অভিযান, পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

ফরিদপুরে পুলিশ পরিচয়ে রবিউল ইসলাম নামের এক প্রতিবন্ধীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তার অভিযোগ, পুলিশের এক সোর্সের সহযোগিতায় কোতয়ালী থানার এসআই ও কনস্টেবল পরিচয় দিয়ে সিভিল পোশাকে গিয়ে তার ঘরে অভিযান চালিয়ে ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। এ ঘটনায় ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন রবিউল ইসলাম। এছাড়া কোতয়ালী থানায় মামলাও করেছেন।জানা যায়, ফরিদপুর পৌরসভার মধ্য আলীপুর এলাকার বাসিন্দা মৃত লতিফ খন্দকারের ছেলে রবিউল খন্দকার। শহরের কানাই মাতুব্বরের মোড়ে চা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন প্রতিবন্ধী রবিউল ইসলাম। ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য গ্রামের বাড়ির জমি ও শহরের একটি জমি বিক্রি করে টাকাগুলো ঘরে রেখে দেন। গত ৫ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭ টার দিকে তিন ব্যক্তি সিভিল পোশাকে তার বাসায় আসেন। এ সময় রনক নামে পুলিশের একজন সোর্স এবং তার সাথে থাকা অজ্ঞাত একজন কোতয়ালি থানার পুলিশ অফিসার ও অপরজন কনস্টেবল পরিচয় দেন। ঘরের দরজা খুলতেই ঘরে প্রবেশ করে আসবাবপত্র, ওয়ারড্রব ভেঙে তল্লাশি করতে থাকে এবং রবিউলকে মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে ওই তিন ব্যক্তি জমি বিক্রি করা পাঁচ লাখ টাকা ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নেন এবং রবিউলকে হ্যান্ডকাপ পড়ান। ঘর থেকে বের করে পাশ্ববর্তী সরু গলিতে নিয়ে একটি প্যাকেট বের করে এবং বলে তুই এই গাঁজা কোথায় থেকে পেলি, তুই একজন গাঁজা ব্যবসায়ী, ওসি সাহেব তোকে থানায় যেতে বলেছে। এরপর তারা একটি মোটরসাইকেলে উঠিয়ে রবিউলকে থানার ভবনের পেছনে একটি রান্না ঘরের ভেতরে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে বসিয়ে রেখে আত্মীয় স্বজনদের ফোন দিতে বলেন। তারা ফোন দিয়ে রবিউলের খালাতো ভাই সোহাগ মোল্যাকে ডেকে এনে পরবর্তীতে এক লাখ টাকার বিনিময়ে রাতেই ছেড়ে দেয়া হয় রবিউলকে। এ ঘটনায় ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন রবিউল ইসলাম। এছাড়া কোতয়ালী থানায় মামলাও দায়ের করেছেন। আরও পড়ুন: ডিউটিতে থাকা পুলিশ সদস্যের বাসায় ডাকাতি, স্ত্রীর স্বর্ণালংকার লুট এদিকে ওই সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার দিন রাত ৭টা ৫২ মিনিটে হলুদ রংয়ের টিশার্ট পরিহিত পুলিশ পরিচয়ধারী ওই ব্যক্তি তার কোমরের লুঙ্গি আকঁড়ে ধরে রেখেছেন। এছাড়া আরেকটি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ৮টা ৭ মিনিটে তাকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় তাদের পেছনে সাদা ব্যাগ হাতে দেখা যায় অপর আরেকজনকে। যে ব্যাগের মধ্যে টাকাগুলো ছিল বলে দাবি করেন রবিউল ইসলাম। ভুক্তভোগী রবিউল ইসলাম বলেন, আমার গ্রামের বাড়ির জমি ও শহরের একটি জমি বিক্রি করে টাকাগুলো ঘরে রেখেছিলাম। এই টাকা দিয়ে আমার ছেলেকে বিদেশ পাঠাতে চেয়েছিলাম। কোনো ভাবে তারা জেনেই আমার বাড়িতে এসে নাটক সাজিয়ে টাকাগুলো নিয়েছে। আমি একজন প্রতিবন্ধী মানুষ। কোনো রকমে চায়ের দোকান করে সংসার চালাই। ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর জন্য সবকিছু বিক্রি করে টাকাগুলো ঘরে রেখেছিলাম। আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। এঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই। আরও পড়ুন: হারিয়ে যাওয়া ২৬ মোবাইল উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের বুঝিয়ে দিলো পুলিশ ফরিদপুর কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, পুলিশ পরিচয়ে টাকা আনার বিষয়টি আমরা খুব গুরুত্ব সহকারে দেখছি। সিসি ক্যামেরায় অস্পষ্ট রয়েছে, তারা মাথা নিঁচু করে ঘরে ঢুকেছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া পুলিশের কেউ জড়িত থাকলে তাঁ বিরুদ্ধেও প্রতিবেদন করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে। এছাড়া থানার ভেতরের সিসি ক্যামেরায় এমন কোনো ঘটনা দেখা যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।

Go to News Site