Somoy TV
প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো। বাংলাদেশের অর্থনীতি বহুমুখী সংকটে - দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত সংবাদ এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাংক বলেছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে বহুমুখী সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। টানা ৩ বছর ধরে প্রবৃদ্ধির হারে ধীর গতি, দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, কর্মসংস্থানের গতি বাড়ছে না, চড়া মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিয়েছে, ব্যাংকিং খাতে সংকট প্রকট হয়েছে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আদায়ে দুর্বলতাও প্রকট হচ্ছে। অর্থনীতির ওইসব সূচকে নেতিবাচকতার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এতে চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত এসব সংকটকে আরও নাজুক করে তুলছে।লেভেলক্রসিংয়ে অবরুদ্ধ ঢাকা - দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একের পর এক লেভেলক্রসিংয়ে দফায় দফায় সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখতে হয়। আর তাতে রাজধানী ঢাকায় যানজটের তীব্রতা বাড়ছেই। এসব স্থানে তীব্র যানজটের দরুন ঢাকা যেন অবরুদ্ধ মহানগরীর রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগরীর রেলপথে বৈধ ও অবৈধ লেভেলক্রসিং আছে ৬১টি। প্রতিদিন ট্রেন চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে এসব ১৬৪ বার প্রতিবন্ধক বা ব্যারিয়ার ফেলতে হয়। কোথাও আবার অন্য উপায়ে সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। বিভিন্ন লেভেলক্রসিংয়ের কর্মচারী, ট্রেনচালকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে জানা গেছে, প্রতিটি ক্ষেত্রে গড়ে প্রায় ৭ মিনিট সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখতে হচ্ছে। সে হিসাবে এসব লেভেলক্রসিংয়ে সব মিলিয়ে প্রায় ১৯ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ রাখতে হচ্ছে।বিদ্যুতে বকেয়া ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে - দৈনিক বণিকবার্তার প্রধান শিরোনাম এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, সরকারের কাছে দেশী-বিদেশী কোম্পানিগুলোর বিদ্যুৎ বিক্রির বকেয়া বিল ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। কোম্পানিভেদে বর্তমানে সর্বনিম্ন ছয় থেকে সর্বোচ্চ ১৪ মাস পর্যন্ত বিল বকেয়া পড়েছে। বিশেষ করে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এ বকেয়া অর্থের কারণে বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছে। একদিকে তারা জ্বালানি আমদানি করতে পারছে না, অন্যদিকে ব্যাংক ঋণের চাপও বেড়ে চলেছে।তেলের জন্য রাত-দিন একাকার - দৈনিক মানবজমিনে প্রকাশিত সংবাদ এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, টানা ৪০ দিন যুদ্ধ চলার পর উত্তেজনা কমেছে মধ্যপ্রাচ্যে। দরপতন হয়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। কিন্তু এই যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে দেশে দেশে। জ্বালানি নিয়ে চরম অস্থিরতা চলছে। দেশে সরকারের তরফে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুতের কথা বলা হলেও আতঙ্ক থেকে মানুষ ছুটছেন পাম্প থেকে পাম্পে। সরবরাহ কম থাকায় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। জ্বালানি নিতে দিন-রাত একাকার হয়ে যাচ্ছে যানবাহন চালক ও মালিকদের। কেউ ৮ ঘণ্টা, কেউ আবার জ্বালানি ভরতে গাড়ি নিয়ে পাম্পের সামনে অপেক্ষা করছেন ২৪ থেকে ২৮ ঘণ্টা। এই দীর্ঘ অপেক্ষার পর কোনো পাম্পে দিচ্ছে ৫ শ’ টাকার, কোনো পাম্পে আবার ৩ শ’ টাকার। অনেক পাম্পেই আবার ঝোলানো রয়েছে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড। তাই কাঙ্ক্ষিত তেল পেতে অনেকেই ঘুরছেন একাধিক পাম্পের লাইনে। আবার বখরা দিয়ে অধিক তেল দেয়ার অভিযোগও রয়েছে কোনো পাম্প কর্মীদের বিরুদ্ধে। রাজধানীর ব্যস্ততম বিভিন্ন রাস্তার পাশে তেল নিতে অপেক্ষমাণ এমন একাধিক যানবাহনের সারিতে যানজটসহ ভোগান্তিতেও পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও অনিশ্চয়তা - দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধের আপাতত অবসান হয়েছে। দুই সপ্তাহ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। এ সময়ে তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি চালু থাকবে। একই সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনায় বসবে দুই দেশ। তবে যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।কৃষিপণ্য পরিবহন সংকটে - দৈনিক সমকালের শেষ পাতায় প্রকাশিত সংবাদ এটি। কৃষি খাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাস এপ্রিল-মে। এ দুই মাস ঘিরে কৃষক স্বপ্ন বোনেন। মাঠে মাঠে এখন পাকা বোরো ধানের সোনালি আভা। বোরো ঘরে তোলার পরই শুরু হবে আউশ, আমন ও পাট মৌসুমের প্রস্তুতি। একই সময়ে তরমুজ, বাঙ্গি, আনারস, লিচু ও ফলের বাজারে সুবাস ছড়াবে। মে মাসের শেষ দিকে বাজারে ঢুকতে শুরু করবে আম, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার বড় রসদ। তবে কৃষি খাতের এই প্রাচুর্যের সময়ে জমেছে সংকটের মেঘ! বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা দেশের পুরো কৃষি ব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। মাঠভরা ফসল থাকার পরও কৃষকের মুখে হাসি ফিকে। অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়েছে গ্রাম-গ্রামান্তরে। কৃষকের এখন সবচেয়ে বড় সংকট উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে না পারা। তেলের অভাবে যানবাহন চললে ঠিকমতো কৃষিপণ্য বাজারে যাচ্ছে না, মাঠেই পচে যাচ্ছে। অনেকে উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে পণ্য বিক্রি করছেন। এতে একদিকে যেমন কৃষকের আর্থিক ক্ষতি বাড়ছে, অন্যদিকে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
Go to News Site