Somoy TV
লেবানন হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘বোঝাপড়া’ রয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরাইল। দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে এমন একটি বোঝাপড়ায় পৌঁছেছে যে, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত হামলা চালিয়ে যাবে।একই সঙ্গে তারা স্বীকার করেছে, এই গোষ্ঠীর সক্ষমতাকে তারা আগে ঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারেনি। ইসরাইল যেসব ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে উদ্বিগ্ন, তার কিছু মাঝারি পাল্লার, যা দেশটির মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। পাকিস্তানের মধ্যস্থাতায় গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। যা ইরান ও মার্কিন উভয় পক্ষই নিশ্চিত করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এবং তাদের মিত্ররা যুদ্ধবিরতিতে একমত হয়েছে। যা লেবানন ও অন্যসব রণাঙ্গনে কার্যকর হবে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থেকে পাকিস্তানে শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধবিরতি মেনে নিলেও মানতে চাইছে না ইসরাইল। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দফতর বলছে, তারা ইরানে মার্কি হামলা বাতিলের সিদ্ধান্ত সমর্থন করলেও এটা লেবাননের ওপর কার্যকর হবে না। নেতানিয়াহু হুঙ্কার দিয়ে বলেন, লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকবে। ইসরাইলের সঙ্গে সুর মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও দাবি করেছে, ইরানের সঙ্গে হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। হাঙ্গেরি সফররত মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মনে হয় ইরানিরা ভেবেছিলেন যুদ্ধবিরতির মধ্যে লেবাননও রয়েছে, কিন্তু আসলে তা নয়।’ আরও পড়ুন: সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন আরাঘচি: ইরান ফলে যুদ্ধবিরতির পর গত বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোর থেকে লেবাননে বিমান হামলা আরও তীব্র হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, হামলার ধরন দেখে অনেকটা এমন মনে হচ্ছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে তাদের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়ে ইসরাইল এখন হিজবুল্লাহর ওপর আরও বেশি জোরে হামলা চালাচ্ছে। রাজধানী বৈরুতসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। ইসরাইলি বিমান বাহিনী জানায়, মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে লেবাননজুড়ে প্রায় ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে তারা। হামলায় ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন এক হাজারেরও বেশি। ইসরাইল বারবার বলছে, ইরানকে ঘিরে সংঘাত এক বিষয়, আর লেবাননের যুদ্ধ আরেকটি। সেনাবাহিনী স্বীকার করেছে, হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি নিরস্ত্র করতে হলে পুরো লেবানন দখল করতে হবে, যা তাদের মতে সম্ভব নয়। আরও পড়ুন: লেবাননে ইসরাইলি হামলার পর শান্তি আলোচনা ‘অযৌক্তিক’: ইরান তাদের মতে, একমাত্র সমাধান হতে পারে রাজনৈতিক—যেখানে লেবানন সরকার ও সেনাবাহিনী নিরস্ত্রীকরণের দায়িত্ব নেবে। এদিকে ইসরাইলের বিরোধী রাজনীতিকরা খোলাখুলিভাবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন যে, তিনি ইরান ইস্যুতে তার যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন। ইসরাইলের হামলায় বিপর্যস্ত লেবানন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই ইসরাইলের হামলায় লেবানন, বিশেষ করে রাজধানী বৈরুতের ঘনবসতিপূর্ণ বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকায় বড় ধরনের আঘাত হানে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই শহরের বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে আবাসিক এলাকায়, ডজনখানেক স্থানে বোমা হামলা চালানো হয়। কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই চালানো এসব হামলায় বহু মানুষ নিহত ও আরও অনেক আহত হয়েছেন। হাসপাতালগুলো রোগীতে উপচে পড়ছে। আহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় জরুরি ভিত্তিতে ডাক্তার ও নার্সের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে অনেক এলাকা, ফলে বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে এবং কোথায় যাবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছে। আরও পড়ুন: লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলার নিন্দা সিরিয়া-ওমানের উদ্ধারকর্মীরা সারারাত ধরে ধ্বংসস্তূপ থেকে আহত ও নিহতদের বের করার চেষ্টা চালিয়ে গেছে। এদিকে হিজবুল্লাহ বলেছে, লেবাননকেও এই যুদ্ধবিরতির আওতায় আনা উচিত। নাহলে চলমান এসব হামলা চুক্তিটিকে দুর্বল করে দিতে পারে। তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
Go to News Site