Collector
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ কী? | Collector
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ কী?
Somoy TV

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ কী?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে চলছে শর্ত আর পাল্টা শর্তের খেলা। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচল নিশ্চিতের পাশাপাশি পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করবে তেহরান। অন্যদিকে, ইরান চায় নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। দু’পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানের অনঢ়। এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি আদৌ টিকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকরা। তবে কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলেও মনে করা হচ্ছে।ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা এখন অনেকটাই নির্ভর করছে পারস্পরিক শর্তের ওপর। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ১০ দফা শর্ত পুরোপুরি মেনে নেয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রায় অসম্ভব। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেয়ার প্রস্তাবকে ‘অত্যন্ত অস্বস্তিকর’ হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন। কারণ এটি শুধু সামরিক উপস্থিতি কমানো নয়, বরং কয়েক দশকের ভূরাজনৈতিক প্রভাব হারানোর ঝুঁকি তৈরি করবে। একইভাবে ইরানকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রস্তাবও বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে আংশিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা ধাপে ধাপে সমঝোতার মতো বিষয়গুলো আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।  আরও পড়ুন: ইরানে যুদ্ধবিরতি /মধ্যস্থতায় পাকিস্তান কি নিজ থেকে গেছে, নাকি যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য করেছে? হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ইস্যুকে এই আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদি যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে ছাড় দেয়, তাহলে তা হবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে ইরানের প্রভাব স্বীকার করে নেয়া। এতে শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্লেষকরা বলছেন, উভয় পক্ষই বর্তমানে কৌশলগত অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক উইলিয়াম ইয়াং-এর মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি একাধিক ফ্রন্টে ব্যস্ত থাকে, তাহলে ইরান আলোচনায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চাইবে। অন্যদিকে, ডেভিড বেকারসহ একাধিক বিশ্লেষক বলছেন, উভয় পক্ষই বর্তমানে কঠোর অবস্থানে রয়েছে, যা আলোচনাকে জটিল করে তুলছে।  আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলতে যে ‘শর্ত’ দিলো ইরান এ পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর সক্রিয় ভূমিকার কথা বলা হচ্ছে। বিশেষ করে পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্ক এই অচলাবস্থা ভাঙতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আলোচনার স্থান হিসেবে পাকিস্তানের ইসলামাবাদকে বেছে নেয়া নিয়েও চলছে বিশ্লেষণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই পক্ষের সঙ্গেই কাজের অভিজ্ঞতা থাকায় পাকিস্তান একটি ‘নিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে যুদ্ধবিরতির বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে পারস্পরিক অবিশ্বাসকে। অতীতের ভেঙে যাওয়া চুক্তি এবং সামরিক উত্তেজনা উভয় পক্ষকেই সতর্ক করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধবিরতি সম্ভব হলেও তা হবে সীমিত সময়ের এবং শর্তসাপেক্ষ। স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক আস্থার পুনর্গঠন।  আরও পড়ুন: ‘যেখানে প্রয়োজন’ সেখানেই হিজবুল্লাহর ওপর হামলার হুমকি নেতানিয়াহুর

Go to News Site