Somoy TV
সাতক্ষীরায় শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে গাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আমের গুটি ঝরে পড়েছে। একইসঙ্গে ঘূর্ণিঝড় ও বৈরী আবহাওয়ার পূর্বাভাসে লোকসানের আতঙ্কে উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন জেলার আম চাষিরা। যদিও এবার আমের বাম্পার মুকুল এসেছে, তবুও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে লাভের আশা নিরাশায় পরিণত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।সাতক্ষীরার হিমসাগর, ল্যাংড়া, বোম্বাই, গোবিন্দভোগ, আম্রপালিসহ দেশীয় সুমিষ্ট আমের সুনাম দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও রয়েছে। এবার জেলায় আমের বাম্পার মুকুলও এসেছে। তবে সোমবার (৬ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে আম চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। জেলার বিভিন্ন আমের বাগানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ঝরে পড়া আমের গুটি। এর ওপর আগামীতে ঘূর্ণিঝড়ের আবহাওয়া বার্তায় চরম আতঙ্কে রয়েছেন তারা। লাখ লাখ টাকা দিয়ে আমের বাগান কিনে বাম্পার ফলনে লাভের আশা করেছিলেন আম চাষিরা। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে আমের গুটি ঝরে পড়ায় লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচ তোলাই কঠিন বলে মনে করছেন তারা। এ অবস্থায় যাতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হতে হয়, সেজন্য কৃষি বিভাগসহ সরকারের সুদৃষ্টির দাবি জানিয়েছেন চাষিরা। সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা কামরুন্নাহার জানান, আগামী দুই-তিন দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া আগামী তিন মাস শিলাবৃষ্টি, বজ্রবৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। আরও পড়ুন: লবণ মাঠে কালবৈশাখীর তাণ্ডব চাষিদের জন্য মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা দুর্যোগের মধ্যেও আম চাষিরা যেন লোকসানে না পড়েন, সে বিষয়ে আশাবাদী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মনির হোসেন। তিনি জানান, ঝড়ে আম যাতে ঝরে না পড়ে, সেজন্য চাষিদের গাছে স্প্রে করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এমনকি চাষিদের জন্য বিশেষ তেলেরও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এবারও সাতক্ষীরার সুমিষ্ট ও বিষমুক্ত আম বিদেশে রফতানি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই কর্মকর্তা। এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৪ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে ৫ হাজার ২৯৯টি আমের বাগান রয়েছে। এসব বাগানে কাজ করে যাচ্ছেন ১৩ হাজার ১০০ জন আম চাষি। এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে ২০০ মেট্রিক টন আম দেশের বাইরে রফতানি হবে বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ।
Go to News Site