Collector
আশ্বাসেই আটকে আছে ইবি’র ছাত্রহল উদ্বোধন | Collector
আশ্বাসেই আটকে আছে ইবি’র ছাত্রহল উদ্বোধন
Jagonews24

আশ্বাসেই আটকে আছে ইবি’র ছাত্রহল উদ্বোধন

আর্থিক জটিলতা, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলা এবং প্রশাসনিক অদক্ষতার কারণে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ছাত্রহল-১ ও শহীদ আনাস হলের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে পড়েছে। উপাচার্য নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ছাত্রহল-১ উদ্বোধনের আশ্বাস দিলেও সেটি বাস্তবায়িত হয়নি। ফেব্রুয়ারিতে জাগো নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কর্তৃপক্ষ নতুন করে মার্চ মাসে উদ্বোধনের কথা জানায়। তবে মার্চ পেরিয়ে গেলেও সে আশ্বাসও বাস্তবায়ন হয়নি। পরে ভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ঈদুল আজহার পর শিক্ষার্থীদের জন্য ছাত্রহল-১ এর একটি ভবন এবং শহীদ আনাস হলের নতুন ভবন খুলে দেওয়া হবে। এদিকে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের দাবি, আর্থিক সংকট না থাকলেও নির্ধারিত বাজেট অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রিতা রয়েছে। ফলে একের পর এক সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় এসব আশ্বাস নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ছাত্রহল-১ এর একটি ভবন প্রস্তুত করে হলের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ডাইনিং, লিফট এবং টাইলসের কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে। টাইলস নিয়ে অনিয়ম থাকায় নতুন টাইলসের অপেক্ষায় কাজ আংশিক স্থবির হয়ে আছে। প্রশাসনের দাবি, কাজ চলমান থাকলেও শ্রমিক সংকটের কারণে তা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তেলের নতুন সংকটের কথাও উল্লেখ করা হয়, যা বড় মেশিন পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ঈদুল আজহার পর ছাত্রহল-১ এর একটি ভবন চালু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে গত ফেব্রুয়ারিতে জাগো নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রশাসন জানায়, শহীদ আনাস হলের কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন এবং শেষ মুহূর্তের গোছগাছ চলছে। তবে দুই মাস পেরিয়ে গেলেও বাস্তব অগ্রগতিতে সেই দাবির প্রতিফলন স্পষ্ট নয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, পূর্বনির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী প্রশাসন অর্থ পরিশোধ করলেও নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আর্থিক চাপে পড়ে। ২০১৪ সালের রেট শিডিউলে প্রকল্পটি অনুমোদিত হওয়ায় ব্যয়ের সঙ্গে বিলের অমিল তৈরি হয়েছে। যেখানে দুই কোটি টাকার বিলে ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় দুই কোটি ৭০ লাখ টাকা। এ কারণে লোকসানের আশঙ্কায় ঠিকাদারদের মধ্যে অনীহা দেখা দেয়। তবে এ বিষয়ে ভিন্নমত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। গত ফেব্রুয়ারিতে ফোনালাপে দায়িত্বপ্রাপ্ত কন্ট্রাক্টর হাজী নুরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, আমরা চাই ছাত্রহল-১ এর দুটি অংশ একসঙ্গে হস্তান্তর করতে। আমাদের বাজেট স্বল্পতা নেই। নির্ধারিত বাজেটেই কাজ করা সম্ভব, কিন্তু সরকারিভাবে তা অনুমোদন পাচ্ছে না। ছুটির আগে আমাদের মিটিং হয়েছে। অর্ধেক বাজেট পেলেও হলের একটি অংশের কাজ শেষ করতে পারব। আশা করি তিন মাসের মধ্যে পুরো কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব। তবে হলটির ম্যানেজার মো. আব্দুস সামাদ ভিন্ন বক্তব্য দেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ছাত্রহল-১ এর কাজ খুব শিগগির প্রকৌশল দপ্তরকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। সামান্য কিছু কেবলিং, লিফট সংযোগ এবং টাইলসের আংশিক কাজ বাকি আছে। প্রশাসন চাইলে এখন শিক্ষার্থীদের ওঠানো সম্ভব। খুব বেশি হলে ২ থেকে ১০ দিনের মধ্যে আমরা হ্যান্ডওভার দিতে পারব।’ যদিও এর আগে অফ দ্য রেকর্ডে তিনি কোরবানির পর হল হস্তান্তরের কথা জানিয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলী (সিভিল) মো. আলীমুজ্জামান টুটুল জাগো নিউজকে বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে বর্তমান উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের তৎপরতায় কাজের গতি কিছুটা বেড়েছে। ছাত্রহল-১ এর একটি অংশ চালুর জন্য প্রায় প্রস্তুত। শিগগির তা শিক্ষার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। এছাড়া শহীদ আনাস হলের কাজও প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন, বর্তমানে শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) শরীফ উদ্দিন বলেন, কাজ থেমে থেমে চলছে। ডাইনিং, ক্যাবলিং, টাইলস এবং লিফটের কিছু কাজ বাকি আছে। বর্তমানে শ্রমিক সংকট রয়েছে, ছুটি শেষে অনেকে এখনো কাজে ফেরেনি। এছাড়া বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে তেলের সংকট তৈরি হয়েছে, যা বড় মেশিন পরিচালনায় প্রয়োজন। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি দ্রুত কাজ শেষ করে শিক্ষার্থীদের হলে ওঠানোর। উপাচার্য নকীব মোহাম্মদ নুরুল্লাহ পূর্বের আশ্বাস প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা ডিসেম্বরে (২০২৫) উদ্বোধনের পরিকল্পনা করেছিলাম, কিন্তু বিভিন্ন জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। এ ঠিকাদারের সঙ্গে আগে থেকেও বিভিন্ন বিষয়ে জটিলতা ছিল। অনুমোদিত উপকরণের পরিবর্তে অনুমোদনহীন উপকরণ ব্যবহার করায় কাজ পুনরায় করতে হয়েছে, ফলে সময় লেগেছে বেশি। তবে নতুন ভর্তি কার্যক্রম শেষে শিক্ষার্থীদের এ হলে ওঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ইরফান উল্লাহ/আরএইচ/জেআইএম

Go to News Site