Collector
ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে অ্যানিমেশন ভিডিও, নেট দুনিয়ায় তোলপাড় | Collector
ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে অ্যানিমেশন ভিডিও, নেট দুনিয়ায় তোলপাড়
Somoy TV

ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে অ্যানিমেশন ভিডিও, নেট দুনিয়ায় তোলপাড়

ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে ইরানি অ্যানিমেশন ভিডিও তোলপাড় সৃষ্টি করেছে নেট দুনিয়ায়। কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি এ ধরনের ভিডিওগুলো যুদ্ধের ময়দানের খবরের চেয়েও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের মুঠোফোনে। এদিকে, পাল্টাপাল্টি হামলার উত্তেজনার মধ্যেই প্রযুক্তির এই নতুন লড়াই ভাবিয়ে তুলছে সাইবার বিশেষজ্ঞদের।যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক যুদ্ধাবস্থায় যুক্ত হয়েছে প্রচারণার এক নতুন মাত্রা। লেগো চরিত্রের আদলে তৈরি করা বিভিন্ন অ্যানিমেশন ভিডিওতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে চরমভাবে উপহাস করা হচ্ছে। বিশেষ করে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরপরই ‘এক্সপ্লোসিভ মিডিয়া’ নামক একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে এমন কিছু ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, যা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লাখ লাখ মানুষের নজরে এসেছে।   View this post on Instagram A post shared by Times Now (@timesnow)  সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কেবল সাধারণ কোনো ব্যঙ্গচিত্র নয়, বরং একে আধুনিক অনলাইন যুদ্ধের একটি নতুন রূপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এসব ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে।  আরও পড়ুন: ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ কী? যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো ঘটনা ঘটার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হচ্ছে এসব উন্নত মানের স্যাটায়ার, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। ওয়্যারড-এর অনলাইন চরমপন্থা ও অপপ্রচার-বিষয়ক প্রতিবেদক ডেভিড গিলবার্ট বলেন, আমরা এক নতুন ধরনের অনলাইন যুদ্ধ দেখতে পাচ্ছি যেখানে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট দুনিয়ায় দক্ষ তরুণ অ্যাক্টিভিস্টরা এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এমন সব টুল ব্যবহার করছে যা আগে কখনও সম্ভব ছিল না। এর মাধ্যমে তারা অত্যন্ত তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গাত্মক কন্টেন্ট তৈরি করতে পারছে, যা বিশাল সংখ্যক মানুষের মনে জায়গা করে নিচ্ছে। সত্যি বলতে, এত বড় পরিসরে এমন কিছু আমরা আগে কখনো দেখিনি। ‘এক্সপ্লোসিভ মিডিয়া’ নিজেদের একটি স্বাধীন দল দাবি করলেও, তাদের তৈরি কন্টেন্টগুলো নিয়মিত শেয়ার করছে ইরানের সরকারি অ্যাকাউন্টগুলো। এর ফলে ধারণা করা হচ্ছে, সরকারের সরাসরি মদদ বা সমর্থন রয়েছে এই প্রচারণার পেছনে। এই কৌশল ব্যবহার করে ইরান মূলত পশ্চিমা বিশ্বের তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছাতে চাইছে, যারা প্রথাগত সংবাদমাধ্যমের চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতি বেশি আকৃষ্ট। ডেভিড গিলবার্ট এর মতে, আমি মনে করি এর গতিই হলো আসল বিষয়। তারা যুদ্ধের ময়দানে যা ঘটছে, তার সাথে তাল মিলিয়ে রিয়েল-টাইমে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর সেই রাতের ভিডিও এবং ১০ দফা পরিকল্পনার বিস্তারিতসহ কন্টেন্ট প্রকাশ করতে সময় লেগেছে মাত্র কয়েক ঘণ্টা। দিনের পর দিন নয়, বরং মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তারা সবকিছু তৈরি করে অনলাইনে ছড়িয়ে দিচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ইন্টারনেটের এই নতুন ধরনের প্রচারণার মুখে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো শক্ত পাল্টা জবাব দিতে পারেনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভিডিওগুলোর নান্দনিকতা এবং কৌতুক উপস্থাপনার ভঙ্গি এতটাই নিখুঁত যে এটি সাধারণ মানুষের চিন্তাধারায় প্রভাব ফেলতে সক্ষম।  আরও পড়ুন: ইরানে যুদ্ধবিরতি /মধ্যস্থতায় পাকিস্তান কি নিজ থেকে গেছে, নাকি যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য করেছে? প্রযুক্তির এই লড়াই শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের মোড় কোন দিকে ঘুরিয়ে দেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। প্রযুক্তির ডানায় ভর করে শুরু হওয়া এই ডিজিটাল প্রচারণা বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণে এক নতুন দুশ্চিন্তার জন্ম দিয়েছে বলেও মনে করেন কেউ কেউ।

Go to News Site