Collector
ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি তরুণ নিহত, মরদেহ দেশে আনতে সরকারের সহযোগিতা চায় পরিবার | Collector
ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি তরুণ নিহত, মরদেহ দেশে আনতে সরকারের সহযোগিতা চায় পরিবার
Somoy TV

ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি তরুণ নিহত, মরদেহ দেশে আনতে সরকারের সহযোগিতা চায় পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের জ্যাকসনভিলে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সিফাত আমিন (২৩) নামে এক বাংলাদেশি তরুণ প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় সময় বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোরে জ্যাকসনভিলের লরেটো এলাকার পাইন একরস রোডে এই দুর্ঘটনা ঘটে।স্থানীয় পুলিশ ও সংবাদমাধ্যম ‘নিউজ৪জ্যাক্স’ (News4JAX) সূত্রে জানা গেছে, সিফাত আমিন তার গাড়ি নিয়ে পাইন একরস রোড দিয়ে যাওয়ার সময় একটি মেটাল ব্যারিকেড ভেঙে সরাসরি কংক্রিটের দেয়ালে আঘাত হানে। রাস্তাটি আই-২৯৫ এর দক্ষিণ প্রান্তে শেষ হয়ে গিয়েছিল।  পুলিশ কর্মকর্তা সার্জেন্ট রবার্ট হাঙ্গারফোর্ড জানিয়েছেন, অন্ধকার এবং বৃষ্টির কারণে রাস্তা পিচ্ছিল থাকায় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ধাক্কার তীব্রতায় দেয়ালের ওপরের অংশ ধসে গাড়ির সামনের দিকে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই সিফাতের মৃত্যু হয়। নিহত সিফাত আমিন ঢাকার মিরপুর-১ এলাকার বাসিন্দা, তার গ্রামের বাড়ি শরিয়তপুর। তিনি পড়াশোনার উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। ২৩ বছর বয়সি এই তরুণের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের মাতম চলছে। তার বড় ভাই-বোন এবং বন্ধুরা বর্তমানে জ্যাকসনভিলে মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, সিফাত আমিন কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিল এবং পড়াশোনার পাশাপাশি উবার ও ‘পাপা জনস্’-এ এ কাজ করতো। ধারণা করা হচ্ছে, সে রাত ২টার উবারে রাইড দিতেই বের হয়েছিল এবং বের হয়েই এমন দুর্ঘটনা ঘটে।  আরও পড়ুন: নিউইয়র্কে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশিসহ নিহত ৪ সিফাতের পরিবার বর্তমানে এক ভয়াবহ শোকের মধ্য দিয়ে সময় পার করছে। তাদের এখন একমাত্র আর্তি, সিফাতের মরদেহ যেন অন্তত শেষবারের মতো নিজ দেশে একবার দেখার সুযোগ হয়। মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক যে সকল আইনি, প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজ রয়েছে, তা সম্পন্ন করতে তারা সময়ক্ষেপণ এবং বড় ধরনের জটিলতার আশঙ্কা করছেন। ​বিশেষ করে স্থানীয় প্রশাসন থেকে ‘ডেথ সার্টিফিকেট’ সংগ্রহ, ফিউনারেল হোমের মাধ্যমে ‘এম্বামিং সার্টিফিকেট’ এবং ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে দ্রুততম সময়ে ‘অনাপত্তিপত্র’ (NOC) সংগ্রহের জন্য তারা বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। এছাড়াও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে মরদেহ পরিবহনের জন্য আনুষঙ্গিক কার্গো ক্লিয়ারেন্স যেন কোনো রকম আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রিতা ছাড়াই সম্পন্ন হয়, সেজন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। ​পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একজন পরিশ্রমী ছাত্র হিসেবে সিফাত বিদেশের মাটিতে অসুস্থ শরীরেও জীবিকার তাগিদে লড়াই করেছেন। এখন তার শেষ বিদায়ে যেন বিলম্ব না ঘটে, এটাই এখন পরিবারের একমাত্র চাওয়া।

Go to News Site