Collector
রেলওয়ে ওভারপাসের কাজ বন্ধ, যানজটে নাকাল চুয়াডাঙ্গা শহরবাসী | Collector
রেলওয়ে ওভারপাসের কাজ বন্ধ, যানজটে নাকাল চুয়াডাঙ্গা শহরবাসী
Somoy TV

রেলওয়ে ওভারপাসের কাজ বন্ধ, যানজটে নাকাল চুয়াডাঙ্গা শহরবাসী

চুয়াডাঙ্গা শহরে চলমান রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ কাজ প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানো হলেও অর্থ ছাড় হয়েছে সামান্য। ফলে এখন পর্যন্ত জমি অধিগ্রহণের কাজই শেষ হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ব্যবস্থা করা হোক। অন্যদিকে সড়ক ও জনপথ (সওজ) কর্তৃপক্ষ বলছে, অর্থ ছাড় না পেলে কাজ শুরু করা সম্ভব নয়।জানা যায়, ২০২৩ সালের শনিবার (১২ আগস্ট) চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার রেলবাজারে ওভারপাসটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজ চলমান অবস্থায় র‍্যাম্পের আয়তন বৃদ্ধি, জমির মূল্য বৃদ্ধি এবং রেলগেটের নকশায় ত্রুটি দেখা দেয়। ফলে নকশা সংশোধন করে প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানো হয়। শুরুতে নির্মাণ ব্যয় ৬৪ কোটি টাকা ধরা হলেও সংশোধিত নকশায় তা প্রায় ১১ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৭৫ কোটি টাকা করা হয়। পরে সবশেষ কয়েক দফা ব্যয় বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ১০২ কোটি টাকা এবং প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত করা হয়।  রেলওয়ে ওভারপাসটির দৈর্ঘ্য ৪১৯ মিটার এবং প্রস্থ প্রায় ১০ মিটার। ১৩টি স্প্যান বসানোর কাজ চলমান অবস্থাতেই সটকে পড়ে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং। প্রথমে দুই প্রান্তের র‍্যাম্পের দৈর্ঘ্য ৩৩০ মিটার ধরা হলেও সংশোধিত প্রকল্পে তা ১১২ মিটার বাড়িয়ে ৪৪২ মিটার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ওভারপাসটির মাত্র ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় তীব্র গরমে গলে যাচ্ছে রাস্তার পিচ নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় শহরজুড়ে তীব্র যানজট লেগেই থাকছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলার যোগাযোগ রয়েছে। চুয়াডাঙ্গা হয়ে খুলনা, ঢাকা, রাজশাহী ও পার্বতীপুরে আন্তঃনগর এবং মেইল ট্রেন চলাচল করে। ফলে বারবার রেলগেট বন্ধ রাখতে হয় এবং দীর্ঘ সময় মানুষকে অপেক্ষায় থাকতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহনের চালকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। ছোট-বড় যানবাহনগুলো প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। ওভারপাস নির্মাণের কারণে সড়কের অবস্থাও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তাদের মতে, জমি অধিগ্রহণসহ অন্যান্য কাজ শেষ করেই ওভারপাস নির্মাণে হাত দেয়া উচিত ছিল। তা না করে ইচ্ছামতো কাজ করায় দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। রেলগেট পড়লে জরুরি সেবার ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্সও দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে, অন্যদিকে চাহিদা অনুযায়ী এখনও অর্থ ছাড় পাওয়া যায়নি। ফলে পুনরায় কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। জমি অধিগ্রহণের জটিলতাও রয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ হচ্ছে। কাজ শেষ করতে পারলে এই দুর্ভোগ লাঘব হবে।’

Go to News Site