Collector
উৎপাদনে ফিরেছে পটুয়াখালীর আরএনপিএল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র | Collector
উৎপাদনে ফিরেছে পটুয়াখালীর আরএনপিএল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র
Somoy TV

উৎপাদনে ফিরেছে পটুয়াখালীর আরএনপিএল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

প্রায় তিন মাস বন্ধ থাকার পর আবারও উৎপাদনে ফিরেছে পটুয়াখালীর আরএনপিএল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট। গত রাতে কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিট চালু হয়ে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে প্রায় ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এতে দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।কয়লা সংকটের কারণে গত ১১ জানুয়ারি কেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘমেয়াদি কয়লা সরবরাহ চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। ফলে দেশের অন্যতম বৃহৎ কয়লাভিত্তিক এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সক্ষমতা দীর্ঘ সময় অব্যবহৃত থাকে।বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক তৌফিক ইসলাম জানান, কয়লা সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় আপাতত একটি ইউনিট চালু করা সম্ভব হয়েছে। ইতোমধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে ৪০০ মেগাওয়াট। ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হবে।  গ্রীষ্ম এবং সেচ মৌসুমের চাহিদা বিবেচনায় আগামী মে মাসের মধ্যে অন্য ইউনিটটিও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।তিনি আরও জানান, দীর্ঘমেয়াদি কয়লা সরবরাহ চুক্তি সম্পন্ন না হওয়ায় আপাতত অস্থায়ী ব্যবস্থায় ইন্দোনেশিয়া থেকে ১২ লাখ মেট্রিক টন কয়লা আমদানি করা হচ্ছে। এই কয়লা দিয়ে কেন্দ্রটি প্রায়  চার মাস সচল রাখা সম্ভব হবে। এরই মধ্যে একটি কয়লাবাহী জাহাজ পৌঁছেছে, আরও কয়েকটি জাহাজ আসার পথে রয়েছে।এদিকে গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রটির গুরুত্বও বেড়েছে। বিশেষ করে তাপপ্রবাহ এবং সেচ মৌসুমের  সময় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় চাপ বাড়লে বড় উৎপাদন কেন্দ্রগুলো সচল রাখা জরুরি হয়ে পড়ে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিদ্যমান কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালু রাখা গেলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি অনেকটাই স্থিতিশীল রাখা সম্ভব।আরও পড়ুন: ডিজেল সংকটে সমুদ্রে যেতে পারছেন না ৮০ শতাংশ জেলে, কমছে মাছের সরবরাহবিদ্যুৎকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবদুল হালিম বলেন, কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এতে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতের ওপর চাপ কমবে এবং তেলভিত্তিক ব্যয়বহুল উৎপাদন হ্রাস পাবে। এককভাবে কেন্দ্রটি দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম।প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি প্রথম ইউনিট এবং ৯ এপ্রিল দ্বিতীয় ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে। তবে পর্যাপ্ত কয়লা সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় চালুর অল্প সময়ের মধ্যেই উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।বর্তমান প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার মধ্যে কেন্দ্রটি দ্রুত পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করা গেলে তা বিদ্যুৎ খাতে স্বস্তি আনতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Go to News Site