Somoy TV
যশোরের বেনাপোল বন্দরের কাস্টমসে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে ৪টি সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স স্থাগিত করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে বেনাপোল কাস্টম হাউস থেকে এ তথ্য জানা যায়। স্থাগিত লাইসেন্সগুলো হচ্ছে: মেসাস লিংক ইন্টারন্যাশনাল, রয়েল এন্টারপ্রাইজ, করিম অ্যান্ড সন্স এবং হুদা ইন্টারন্যাশনাল। বেনাপোল কাস্টম হাউসসের যুগ্ম কমিশনার সাইদ আহমেদ রুবেল জানান, কয়েক মাসে আমদানি পণ্যে মিথ্যা ঘোষণা ও ঘোষণা বহির্ভূত পণ্য প্রবেশের সময় ১৪টি পণ্য চালান জব্দ করা হয়েছে। এসব পণ্যে প্রায় ২৫ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা চলছিল। রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে চারটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্সির লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও চারটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। আরও পড়ুন: বেনাপোলে ভারতীয় বিস্ফোরক উদ্ধার তিনি জানান, রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে বন্দরের ১৯ নম্বর শেডে কাস্টমস কমিশনার ফাইজুর রহমানের নির্দেশে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ‘সিন্থেটিক ফেব্রিক্স’ ঘোষণার আড়ালে উচ্চ শুল্কের ভারতীয় শাড়ি ও থ্রি-পিসের বড় চালান জব্দ করা হয়। কাগজে ২৬০ প্যাকেট থাকলেও বাস্তবে পাওয়া যায় ২৬৮ প্যাকেট। পণ্যের বাজারমূল্য ২৫ লাখ টাকা। গত ১৪ মার্চ ‘বেকিং পাউডার’ ঘোষণার আড়ালে আনা প্রায় ৬ কোটি টাকার শাড়ি থ্রি-পিস জব্দ করা হয়। ৯ মার্চ ‘ঘাসের বীজ’ ঘোষণা দিয়ে পাট বীজ। ১৮ জানুয়ারি মোটর পার্টসের একটি চালানে অতিরিক্ত তিন টন পণ্য ধরা পড়ে। সর্বমোট ২৫ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি ধরা পড়েছে। বেনাপোল কাস্টমস সূত্র জানায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। এদিকে, সাধারণ ব্যবসায়ীরা জানান, বেনাপোল বন্দরে আধুনিক স্ক্যানিং মেশিন থাকলেও অবাধে ঢুকছে মাদক, আমদানি নিষিদ্ধ ও মিথ্যা ঘোষনার বিভিন্ন পণ্য। এতে সরকার যেমন হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব, তেমনি নিরাপদ বাণিজ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। আরও পড়ুন: বেনাপোল বন্দরে ভারতগামী ব্যক্তির ৩০ হাজার টাকা ছিনতাই, গ্রেফতার ৩ বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার ফাইজুর রহমান বলেন, মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টাকরীদের বিরুদ্ধে কাস্টমস সচেতন রয়েছে। জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করা হচ্ছে। প্রতিটি সন্দেহজনক চালান শতভাগ পরীক্ষা করা হচ্ছে। কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
Go to News Site