Somoy TV
গোডাউনে পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার। মাদারীপুরের হাটবাজারগুলোতে ক্রেতাদের ১২ কেজি ওজনের প্রতিটি সিলিন্ডারে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি গুনতে হচ্ছে।বোতলের গায়ে নির্ধারিত মূল্য লেখা না থাকার সুযোগ নিচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। এদিকে, দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসন। সরেজমিনে মাদারীপুরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শহরের সবচেয়ে বড় গ্যাস সিলিন্ডার ডিলার সৈয়দ মনিরের গোডাউনে শত শত বোতল মজুত রয়েছে। ট্রাক ও ভ্যানযোগে সেখানে আনা হচ্ছে আরও সিলিন্ডার। একই এলাকার মুফতি ফায়েকুজ্জামান নামের আরেক ডিলারের গোডাউনেও পর্যাপ্ত সিলিন্ডার মজুত থাকতে দেখা যায়। অথচ বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তি দাম আদায় করা হচ্ছে। শহরের লেকের দক্ষিণপাড়ের হোটেল ব্যবসায়ী খোকন তালুকদার জানান, সিলিন্ডারের গায়ে সরকার নির্ধারিত দাম না থাকায় ডিলাররা ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন। ব্যবসা চালাতে প্রতি মাসে তার ৬৫-৭০টি সিলিন্ডার প্রয়োজন হয়। ১২ কেজি ওজনের সিলিন্ডারের সরকারি মূল্য ১ হাজার ৭২৮ টাকা হলেও তাকে আরও ২০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকটাই অসহায় এই হোটেল ব্যবসায়ী। আরও পড়ুন: মাদারীপুরে বিনামূল্যের টিফিন খেয়ে ২০ শিক্ষার্থী অসুস্থ, তদন্ত কমিটি গঠন একই অভিযোগ শহর থেকে গ্রাম পর্যায়ের সাধারণ ক্রেতাদেরও। জেলার অধিকাংশ বাসাবাড়ি ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয়। বাজারে পাওয়া বিভিন্ন কোম্পানির গ্যাস সিলিন্ডারে সরকার নির্ধারিত মূল্য লেখা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে অসাধু ব্যবসায়ী ও ডিলাররা ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন। শহরের শকুনি এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, ‘শহরের অধিকাংশ মানুষ বাসাবাড়িতে রান্নার জন্য গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করে। কিন্তু লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়ানো হচ্ছে। আমরা ক্রেতারা অনেকটাই অসহায়। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নেবে, এটাই আমাদের চাওয়া।’ মাইশা খাবার ঘরের মালিক খোকন তালুকদার বলেন, ‘প্রতিনিয়তই গ্যাস সিলিন্ডারের বাড়তি দাম রাখা হচ্ছে। প্রশাসন এর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয় না। আমরা চাই, সরকার নির্ধারিত দামেই এই সিলিন্ডার বিক্রি করা হোক। তা না হলে খাবারের দোকান চালানো বন্ধ করে দিতে হবে।’ বাড়তি দাম নেয়ার পেছনে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি ও সরবরাহ কমে যাওয়ার অজুহাত দেখাচ্ছেন ডিলাররা। জেলার সবচেয়ে বড় ডিলার সৈয়দ মনির বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় গ্যাস সিলিন্ডার অর্ধেক পাওয়া যাচ্ছে। সরকার যে দাম নির্ধারণ করে দেয়, তার চেয়েও বেশি দামে আমাদের পাইকারি কিনে আনতে হয়। এছাড়া জ্বালানি খরচও বেড়েছে। তাই বোতলে কিছুটা বাড়তি দাম রাখতে হয়।’ জানা যায়, মাদারীপুর জেলায় অর্ধশতাধিক ডিলার পাইকারিভাবে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করেন। খুচরা দোকানের সংখ্যাও শত শত। প্রশাসন মাঝে মাঝে ছোটখাটো দুই-একটি অভিযান চালালেও পরে তা কার্যত অকার্যকর হয়ে যায়। এ বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আল নোমান বলেন, ‘গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতারা বেশি দাম নিচ্ছে, এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলার সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। যারা কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে বাড়তি দাম নিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে এর আগেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং আগামীতেও নেয়া হবে।’
Go to News Site