Collector
দেশে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রলের মজুত কত? | Collector
দেশে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রলের মজুত কত?
Somoy TV

দেশে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রলের মজুত কত?

পেট্রল ও অকটেনে আগামী দুই মাসে কোনো সংকট হবে না উল্লেখ করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫২৪ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে।বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী এ তথ্য জানান। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫২৪ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে। এর মধ্যে ডিজেল রয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ১৪৩ মেট্রিক টন, অকটেন ৯ হাজার ৫৬৯ মেট্রিক টন এবং পেট্রল ১৬ হাজার ৮১২ মেট্রিক টন। মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, এ মজুত দিয়ে স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব। বিশেষ করে অকটেন ও পেট্রলের ক্ষেত্রে আগামী দুই মাসেও কোনো সংকট হবে না। নিয়মিত আমদানি ও জাহাজ খালাস কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই।আরও পড়ুন: ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের পাইলটিং কার্যক্রম শুরু আন্তর্জাতিক বাজারে চলমান অস্থিরতার কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের প্রায় ৮০-৮৫টি দেশে জ্বালানির দাম বেড়েছে। আমদানি ব্যয় বাড়লেও বাংলাদেশে এর সরাসরি প্রভাব পড়েনি। সরকার ভর্তুকি দিয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখছে। বর্তমানে জ্বালানি খাতে সরকার প্রতি মাসে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি প্রকৃত সংকটের কারণে নয়, বরং মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও অতিরিক্ত মজুতের প্রবণতার ফল। ফলে কোথাও কোথাও সাময়িক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, তবে বাস্তবে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই।মনির হোসেন আরও জানান, অবৈধ মজুত রোধে সরকার অভিযান জোরদার করেছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ডিজেল, অকটেন ও পেট্রল জব্দ করা হচ্ছে। পাশাপাশি জরিমানা ও কারাদণ্ডের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।এ ছাড়া জ্বালানি ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।আরও পড়ুন: আগামী দুই মাস পেট্রল-অকটেনে সংকট হবে না: জ্বালানি বিভাগ ইতোমধ্যে ঢাকার দুটি ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিদিন বা মাসিক নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যবহারকারী নিবন্ধন করেছেন এবং ধাপে ধাপে এটি সারা দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও মার্কিন-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে জ্বালানি তেলের দামের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক নৌপথে জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তাঝুঁকি বেড়ে গেছে। এ কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য সব উৎস খুঁজে, দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে সরকার। দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে উল্লেখ করে জ্বালানিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৪৪ টন ডিজেল মজুত আছে। আরও ১ লাখ ৩৮ হাজার টন ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আসবে। অকটেন মজুত আছে ১০ হাজার ৫০০ টন। ৭১ হাজার ৫৪৩ টন ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আসবে। পেট্রল মজুত আছে ১৬ হাজার টন। আরও ৩৬ হাজার টন ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আসবে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশ জ্বালানি তেলের সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে জানিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পাকিস্তান ৫০ শতাংশ দাম বাড়িয়েছে। শ্রীলঙ্কা রেশনিং ও কর্মঘণ্টা কমিয়ে দিয়েছে। ভারত, আফগানিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ ও নেপাল এরই মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে বাংলাদেশ দাম বাড়ায়নি। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়লেও দেশে শিল্প কার্যক্রম ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার কথা বিবেচনা করে এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে সরকার। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এ সংঘাতের জেরে পারস্য উপসাগর অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এবং ২৫ শতাংশের বেশি এলএনজি হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

Go to News Site