Somoy TV
ইরানের সঙ্গে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত থামলেও বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সংকট সহসাই কাটছে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ৪০ দিনের এই যুদ্ধে থেমে গিয়েছিল বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি পরিবহনের রুট হরমুজ প্রণালী। এই যুদ্ধে শুধু রক্ত ঝরেনি, দিনের পর দিন জাহাজ আটকে থাকায় ভেঙে পড়েছে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি।যুদ্ধের অজুহাতে হঠাৎ করে বাংলাদেশেও বেড়ে যায় জ্বালানি তেলের হাহাকার। ডিপো আর পাম্প মালিকদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মাঝে অপেক্ষা শেষ হয় না সাধারণ মানুষের। রাজধানীতে জ্বালানি তেলের জন্য ভোগান্তি নিত্যদিনের। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আগারগাঁও, শাহবাগসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, তেলের জন্য পাম্পে পাম্পে দীর্ঘ লাইনে যানবাহন চালকরা। ভোগান্তি পৌঁছেছে চরম পর্যায়ে। শুধু রাজধানীতে নয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় জ্বালানি তেল নিতে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। শৃঙ্খলা ফেরাতে অ্যাপসের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে পাম্প কর্তৃপক্ষের দাবি, পর্যাপ্ত তেল পাওয়ায় সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা নেই। তবে গ্রাহকের চাপ অনেক বেশি। এদিকে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, প্রতি মাসে জ্বালানি তেলে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার। আরও পড়ুন: দেশে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রলের মজুত কত? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধবিরতির মধ্যে দফায় দফায় হরমুজ প্রণালী খোলা আর বন্ধ থাকার প্রভাব পড়ছে বিশ্বের বাজারে। যার ভুক্তভোগী বাংলাদেশেও। যেসব দেশ থেকে বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানি করে তাদের জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকলে সংকট বাড়বে। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক গবেষক ড. আনিসুর রহমান জানান, যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার কারণে ১৫ দিনের মধ্যে বিভিন্ন জাহাজ রফতানি করা দেশগুলোতে গিয়ে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে আমদানিকারক দেশে ফিরবে। যখন সরবরাহ বাড়বে তখন সংকটটা ধীরে ধীরে দূর হয়ে যাবে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তাই। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে জ্বালানি তেলের সংকট হয়েছে। কিন্তু একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। যুদ্ধবিরতি হলে বাংলাদেশের জন্য ভালো দিক। আমাদের নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর অনেকগুলো সমস্যায় পড়ে গেছে। তেলের সংকট কেটে গেলে কিছু সমস্যাও দূর হবে।’ আরও পড়ুন: বেশি দামে বিক্রির আশায় পেট্রোল মজুত, যুবকের কারাদণ্ড তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি হয়েছে কিন্তু জাহাজ চলাচলের আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালী খোলেনি। তাই যুদ্ধবিরতি থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে হরমুজ প্রণালীটা। এই পথ খুলতে গেলে যতগুলো যুদ্ধ হচ্ছে সব বন্ধ করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দুই-চার সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সংকট থেকে বাংলাদেশ রেহাই পাবে না। যেসব তেল আটকে রয়েছে, সেগুলো যদি চলে আসে তাহলে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসবে।’ চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে পারস্য উপসাগর অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এবং ২৫ শতাংশের বেশি এলএনজি হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
Go to News Site