Collector
প্রতিদিনি ১০০-১৫০ ছক্কা মারার অনুশীলন করি: মুকুল চৌধরি | Collector
প্রতিদিনি ১০০-১৫০ ছক্কা মারার অনুশীলন করি: মুকুল চৌধরি
Somoy TV

প্রতিদিনি ১০০-১৫০ ছক্কা মারার অনুশীলন করি: মুকুল চৌধরি

ছক্কা মারার নেশা, সঙ্গে মহেন্দ্র সিং ধোনির অনুপ্রেরণা; এই দুইয়ের মিশেলে চলমান আইপিএলে রাতারাতি আলোচনায় উঠে এলেন তরুণ ব্যাটার মুকুল চৌধরি।কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে যেন রূপকথার গল্প লিখলেন মুকুল চৌধরি। কলকাতা নাইট রাইডার্সের  বিপক্ষে মাত্র ২৭ বলে ৫৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসকে এনে দেন অবিশ্বাস্য এক জয়। ১৭তম ওভারে বৈভব অরোরার ইয়র্কার লেংথের বলকে হেলিকপ্টার শটে ছক্কায় পাঠানোর দৃশ্যটি ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মুকুল বলেন, ছোটবেলা থেকেই এই শট অনুশীলন করে আসছেন তিনি। ধোনি ভক্ত ২১ বছর বয়সী এ তরুণ বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই এই শট প্র্যাকটিস করি। ধোনির ব্যাটিং, বিশেষ করে ইনিংস শেষ করার ধরনটা আমার খুব পছন্দ। তিনি ইয়র্কার বলকেও ছক্কা মারতে পারতেন।’ ম্যাচের সমীকরণ ছিল কঠিন। ২৪ বলে দরকার ৫৪ রান, হাতে মাত্র তিন উইকেট। শুরুটা ভালো হয়নি, প্রথম পাঁচ বলে আসে মাত্র ১ রান। কিন্তু এরপর যেন গিয়ার বদলে ফেলেন মুকুল। পরের ২২ বলে করেন ৫৩ রান, হাঁকান ৭টি ছক্কা ও ২টি চার। নিজের ছক্কা মারার ক্ষমতা নিয়ে মুকুলের ব্যাখ্যা, ‘আমার শরীরটা স্বাভাবিকভাবেই একটু শক্তিশালী। তবে প্রতিদিন ১০০-১৫০টি ছক্কা মারার অনুশীলন করি। এতে ব্যাটের গতি বাড়ে। গত পাঁচ-ছয় মাস ধরে কঠোর পরিশ্রম করছি, সেটার ফল পাচ্ছি এখন।’ আরও পড়ুন: শেষ ওভারের নাটকে মুকুল ঝড়ে কলকাতাকে হারাল লখনৌ আইপিএলের আগে সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতেও নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছিলেন চৌধরি। রাজস্থানের হয়ে দিল্লির বিপক্ষে ২৬ বলে অপরাজিত ৬২ রানের ইনিংসে ৭টি ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জিতিয়েছিলেন। পুরো টুর্নামেন্টে ১৭৩ রান করেন ৫৭.৬৬ গড়ে ও ১৯৮.৮৫ স্ট্রাইক রেটে। এমন পারফরম্যান্সই নজরে পড়ে লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের। আইপিএল নিলামে ২.৬ কোটি রুপিতে তাকে দলে ভেড়ায় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। দলের কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার আগেই বলেছিলেন, চার মাসের মধ্যে মুকুলকে ভারতের ‘সবচেয়ে ভয়ংকর ৬ বা ৭ নম্বর ব্যাটার’ বানাতে পারেন। ল্যাঙ্গারের সেই আস্থাই প্রেরণা জুগিয়েছে বলে জানালেন মুকুল। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এত বড় কোচ যখন আপনার ওপর বিশ্বাস রাখেন, তখন বুঝতে হবে তিনি কিছু দেখেছেন। অনুশীলনে তিনি প্রতিদিন আলাদা করে সময় দেন। তার পরামর্শগুলোই কাজে লেগেছে।’ ম্যাচ শেষে সম্প্রচারকারীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ল্যাঙ্গারও প্রশংসায় ভাসান তরুণ শিষ্যকে। তিনি বলেন, ‘ও খুবই তরুণ, চোখে ক্ষুধা আছে। ক্যারিয়ারের শুরুতে এমন একটি জয় তার জীবনে বড় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।’ আরও পড়ুন: গিলকে বড় অঙ্কের জরিমানা করল আইপিএল কর্তৃপক্ষ আইপিএলের মতো বড় মঞ্চে এমন পারফরম্যান্সের পর মুকুলকে ঘিরে এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা বেড়েছে। তবে নিজের ছন্দ ধরে রাখতে হলে যে কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যেতে হবে, সেটিও ভালো করেই জানেন এই উদীয়মান তারকা।

Go to News Site