Somoy TV
প্রতিটি মুমিনের একান্ত চাওয়া হজ করা। বিভিন্ন কারণে সবার পক্ষে হজ আদায় করা সম্ভব হয় না। তাই তো প্রিয় নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কিছু আমল বলে দিয়েছেন- যেসব আমলের বিনিময়ে হজ ও ওমরার সাওয়াব পাওয়া যায়।এক. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর তাসবিহ আদায় করা। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, جَاءَ الفُقَرَاءُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالُوا: ذَهَبَ أَهْلُ الدُّثُورِ مِنَ الأَمْوَالِ بِالدَّرَجَاتِ العُلاَ، وَالنَّعِيمِ المُقِيمِ، يُصَلُّونَ كَمَا نُصَلِّي وَيَصُومُونَ كَمَا نَصُومُ، وَلَهُمْ فَضْلٌ مِنْ أَمْوَالٍ يَحُجُّونَ بِهَا، وَيَعْتَمِرُونَ، وَيُجَاهِدُونَ، وَيَتَصَدَّقُونَ، قَالَ: أَلاَ أُحَدِّثُكُمْ إِنْ أَخَذْتُمْ أَدْرَكْتُمْ مَنْ سَبَقَكُمْ وَلَمْ يُدْرِكْكُمْ أَحَدٌ بَعْدَكُمْ، وَكُنْتُمْ خَيْرَ مَنْ أَنْتُمْ بَيْنَ ظَهْرَانَيْهِ إِلَّا مَنْ عَمِلَ مِثْلَهُ تُسَبِّحُونَ وَتَحْمَدُونَ وَتُكَبِّرُونَ خَلْفَ كُلِّ صَلاَةٍ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ দরিদ্র সাহাবিরা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল, ধনাঢ্য সাহাবিরা উচ্চ মর্যাদা এবং চিরস্থায়ী নিয়ামত নিয়ে যাচ্ছেন! আমরা নামাজ পড়ি, তারাও পড়েন! আমরা রোজা রাখি, তারাও রাখেন! তাদের রয়েছে অতিরিক্ত সম্পদ। ফলে তারা হজ করেন, ওমরা করেন, জিহাদ করেন এবং দান-সদকা করেন! (আমরা এসব করতে পারি না।) নবীজি তাদেরকে বললেন, আমি কি তোমাদের এমন একটি আমল শিখিয়ে দেব না, যা করতে পারলে তোমরা অগ্রগামীদের স্তরে পৌঁছে যাবে এবং যারা তোমাদের পেছনে তারা তোমাদের স্তরে পৌঁছতে পারবে না এবং তোমরা হবে বর্তমান পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব। তবে কেউ এই আমল করলে সেটা ভিন্ন বিষয়। তোমরা প্রত্যেক নামাজের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, ৩৩ বার আল্লাহু আকবার পাঠ করবে তাহলেই এ ফজিলত লাভ করবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৮৪৩) একবার পড়বে لَا إِلهَ إِلّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ বি. দ্র. প্রত্যেক নামাজের পর ৩৩বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩বার আলহামদুলিল্লাহ ও ৩৪বার আল্লাহু আকবার পড়ার যে আমলটি প্রসিদ্ধ সেটাও সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত এবং এরও অনেক ফজিলত আছে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস ৫৯৬; জামে তিরমিজি, হাদিস ৩৪১২) আরও পড়ুন : মসজিদে হারাম ও নববিতে আজ জুমার নামাজ পড়াবেন যারা দুই. ফজরের নামাজের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত মসজিদে বসে জিকির করতে থাকা, এরপর দুই রাকাত নামাজ পড়া। হযরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন مَنْ صَلّى صَلَاةَ الْغَدَاةِ فِي جَمَاعَةٍ، ثُمَّ جَلَسَ يَذْكُرُ اللهَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ، ثُمَّ قَامَ فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ، انْقَلَبَ بِأَجْرِ حَجّةٍ وَعُمْرَةٍ যে ব্যক্তি জামাতের সঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় করল, তারপর সূর্যোদয় পর্যন্ত মসজিদে বসে আল্লাহর জিকির করল, এরপর দুই রাকাত নামাজ আদায় করল, সে ব্যক্তি হজ ও ওমরার সওয়াব নিয়ে ফিরল। (মুজামে কাবির, তবারানী, হাদিস ৭৭৪১) আরও পড়ুন: জুমার খুতবা না শুনলে কি গুনাহ হয়?তিন. ফরজ নামাজের জন্য মসজিদের উদ্দেশে বের হওয়া। হযরত আবু উমামা (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,مَنْ خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ مُتَطَهِّرًا إِلَى صَلَاةٍ مَكْتُوبَةٍ فَأَجْرُهُ كَأَجْرِ الْحَاجِّ الْمُحْرِمِ، وَمَنْ خَرَجَ إِلَى تَسْبِيحِ الضُّحَى لَا يَنْصِبُهُ إِلَّا إِيَّاهُ فَأَجْرُهُ كَأَجْرِ الْمُعْتَمِرِ যে ব্যক্তি অজু করে ফরজ নামাজের উদ্দেশ্যে নিজের ঘর থেকে বের হয় সে হজ আদায়কারীর মত সওয়াব লাভ করে। আর যে ব্যক্তি শুধু পূর্বাহ্নের নামাজ (চাশতের নামাজ) আদায়ের উদ্দেশ্যে কষ্ট করে মসজিদে যায়, সে ওমরা আদায়কারীর মত সওয়াব লাভ করে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৫৫৮) চার. ভালো কথা শেখা বা শেখানোর লক্ষ্যে মসজিদে গমন করা। হযরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন مَنْ غَدَا إِلَى الْمَسْجِدِ لَا يُرِيدُ إِلَّا أَنْ يَتَعَلَّمَ خَيْرًا أَوْ يعلمهُ، كَانَ لَهُ كَأَجْرِ حَاجٍّ تَامّا حجّتُهُ যে ব্যক্তি মসজিদে গেল কোনো ভালো কথা শেখা বা শেখানোর উদ্দেশ্যে, সে পরিপূর্ণরূপে হজ আদায়কারীর ন্যায় সওয়াব লাভ করবে। (মুজামে কাবির, তবারানি, হাদিস ৭৪৭৩) পাঁচ. মা-বাবার সেবা করা। হযরত আনাস (রা.) বলেন, এক ব্যক্তি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে এসে বলল, আমার জিহাদ করতে খুব আগ্রহ, কিন্তু সামর্থ্য নেই। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার মা-বাবা দুইজনের কেউ জীবিত আছেন কি? বলল, আমার মা জীবিত আছেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তাহলে মায়ের সেবা করে আল্লাহর সাথে সুন্দর সম্পর্ক স্থাপন কর। এটা যদি করতে পার এবং তোমার মা সন্তুষ্ট থাকেন তবে তুমি হজ, ওমরা ও জিহাদের সওয়াব পেয়ে যাবে। সুতরাং আল্লাহকে ভয় কর এবং মায়ের সেবা কর।’ (মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস : ২৭৬০)
Go to News Site