Collector
ফ্যামিলি কার্ডের এক মাস: স্বস্তির টাকায় প্রশান্তির ঝিলিক | Collector
ফ্যামিলি কার্ডের এক মাস: স্বস্তির টাকায় প্রশান্তির ঝিলিক
Somoy TV

ফ্যামিলি কার্ডের এক মাস: স্বস্তির টাকায় প্রশান্তির ঝিলিক

রাজধানীর কড়াইল বস্তির বাসিন্দা কল্পনা বেগমের চোখেমুখে এখন কিছুটা প্রশান্তির ঝিলিক। মেয়ে ইতি সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর সংসারে মেয়ের পড়ার খরচ চালানোই ছিল দায়। গত মার্চ থেকে শুরু হওয়া ‘ফ্যামিলি কার্ডের’ টাকা কল্পনার সংসারে ছোটখাটো এক আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।কল্পনা বেগম বলেন, ‘মেয়ের স্কুলের বেতন আর খাতা-কলম কিনতেই হিমশিম খাইতাম। এহন কার্ডের টাকাটা পাওয়ায় অন্তত ওর পড়ালেখার চিন্তাটা একটু কমছে। সময়মতো টাকাটা পাইলে আমাগো মতো গরিবের অনেক উপকার হয়।’ ফ্যামিলি কার্ড চালুর এক মাস পূর্ণ হলো আজ। সরেজমিন কড়াইল বস্তিতে গিয়ে দেখা গেল মিশ্র চিত্র। কেউ টাকা পেয়ে বাজারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কেউবা মোবাইলের ইনবক্সের দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছেন। আবার একদল আছেন, যারা সঠিক সময়ে আবেদন করতে না পেরে এখন আফসোস করছেন।বস্তি এলাকার একটি ছোট দোকানে বসে শারমিন সুলতানা বারবার মোবাইলে মেসেজ চেক করছিলেন। গত ১০ মার্চ প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছিলেন তিনি। আজ এক মাস পূর্ণ হওয়ায় দ্বিতীয় কিস্তির অপেক্ষায় তার এই প্রহর গোনা। শারমিন বলেন, ‘বাজারে যে জিনিসের দাম, তাতে দুই হাজার টাকা দিয়াও এহন অনেক কিছু হয় না। তাও এই টাকাটা হাতে পাইলে সংসারের চালে-ডালে একটু টান কম পড়ে। গতবার ১০ তারিখ আইছিল, আজকেও ১০ তারিখ, দেহি কখন আসে।’তবে সবার ভাগ্য শারমিনের মতো সুপ্রসন্ন নয়। কড়াইল বস্তিরই তফুরা বেগম সব কাগজপত্র জমা দিয়েও এখনও কোনো মেসেজ পাননি। হতাশ কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘নাম দিছি, বিকাশের কাগজ দিছি, সব ঠিকঠাক জমা দিছি। আমার সঙ্গে আরও দুইজন জমা দিছিল, তারা পাইছে কিন্তু আমার মোবাইল এখনও খালি। ডরে আছি আদৌ পামু কি না।’ আরও পড়ুন: উদ্বোধনের দিনেই ফ্যামিলি কার্ডে এসেছে অর্থ, আনন্দে আত্মহারা তারাতফুরার মতো এমন অভিযোগ আরও অনেকের। আবেদন করেও টাকা না পাওয়ার তালিকায় থাকা বাসিন্দারা চান দ্রুত স্বচ্ছতার মাধ্যমে তাদের পাওনা নিশ্চিত করা হোক।অন্যদিকে, যারা কাজের চাপে বা তথ্যের অভাবে আবেদন করতে পারেননি, তারা এখন হন্যে হয়ে খুঁজছেন নতুন করে আবেদনের সুযোগ। রিকশাচালক রহিম মিঞা বলেন, ‘আবেদন যখন শুরু হইছে তখন গ্রামে আছিলাম। আইসা দেখি সব শেষ। এহন কি আর আবেদন করার কোনো সুযোগ নাই? আমাগো মতো মানুষের জন্য যদি সরকার আরেকবার সুযোগ দিত, খুব উপকার হইত।’উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। সরকারি তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত দেশের ১৪টি উপজেলায় ৪০ হাজার পরিবার এই সুবিধার আওতায় এসেছে। তবে সরকারের লক্ষ্য আরও বড়; মোট চার কোটি পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় এনে অভাবী মানুষের সংসারে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনা।সংকট আর স্বস্তির এই দোলাচলেই কাটছে ফ্যামিলি কার্ডের প্রথম মাস। আবেদনকারীরা যেমন দ্রুত টাকা পাওয়ার দাবি জানাচ্ছেন, তেমনি বঞ্চিতরা চাইছেন নতুন করে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ।

Go to News Site