Somoy TV
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার বিষয়টিকে একটি কৌশলগত ও কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির সিনিয়র কূটনীতিক এবং প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনওয়ার গারগাশ বলেছেন, এই যুদ্ধে জড়াতে না চাইলেও শেষ পর্যন্ত আমিরাত আরও শক্তিশালী হয়ে বেরিয়ে এসেছে।দীর্ঘদিনের হুমকি-ধামকির পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ সামরিক আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। আরব দেশগুলোও তাদের সঙ্গে এই যুদ্ধে যোগ দিয়েছে বলে অভিযোগ ইরানের। জবাবে ইসরাইলের পাশাপাশি উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও সেনা অবস্থান লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। প্রায় পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। যুদ্ধবিরতির পর উভয় পক্ষই নিজেদের ‘বিজয়ী’ বলে দাবি করছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসলামাবাদ। একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতও একে নিজেদের ‘বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করছে। গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দেশটির সিনিয়র কূটনীতিক আনওয়ার গারগাশ এক বিবৃতিতে বলেন, এই যুদ্ধবিরতি দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফল। এর মাধ্যমে আমিরাত নিজেকে বড় আঞ্চলিক যুদ্ধে সরাসরি জড়ানো থেকে রক্ষা করতে পেরেছে। আরও পড়ুন: ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকে কারা থাকছেন? তিনি বলেন, ‘আমরা এমন এক যুদ্ধে জয়ী হয়েছি, যেটা আমরা এড়াতে চেয়েছিলাম। আমরা আমাদের সার্বভৌমত্ব, সম্মান এবং অর্জনগুলো রক্ষা করেছি।’ তার বক্তব্য অনুযায়ী, আবুধাবি মনে করছে তারা শুধু নিজেদের নিরাপত্তাই বজায় রাখেনি, বরং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতিতে তাদের কূটনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। গারগাশের মতে, এই সংকটের সময় আমিরাত খুব হিসাব করে পররাষ্ট্রনীতি চালিয়েছে। তারা একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গেও যোগাযোগের পথ খোলা রেখেছে। এর ফলে তারা সরাসরি যুদ্ধে জড়ানো থেকে বাঁচতে পেরেছে এবং একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে পেরেছে। গারগাশ আরও বলেন, এখন তারা আরও বেশি প্রভাব, অভিজ্ঞতা এবং সক্ষমতা নিয়ে জটিল আঞ্চলিক পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে। এটি শুধু সন্তুষ্টির কথা নয়, বরং একটি বড় কৌশলও। আমিরাত এখন ভবিষ্যতে উপসাগরীয় নিরাপত্তা, সমুদ্রপথের স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির বিষয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চায়। আরও পড়ুন: যুদ্ধবিরতি আলোচকদের অন-অ্যারাইভাল ভিসা দেবে পাকিস্তান তার মতে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথের নিরাপত্তা আমিরাতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধবিরতির ফলে তারা এখন নিরাপদ পরিবেশে বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং জ্বালানি নিরাপত্তার দিকে মনোযোগ দিতে পারবে।
Go to News Site