Somoy TV
জুলাই অভ্যুত্থানের ২০ মাস পার হলেও গণহত্যা, নির্যাতনের দায় নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই আওয়ামী লীগের; উল্টো নিজেদের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন দলটির শীর্ষ থেকে তৃণমূল স্তরের নেতারা। এমন অবস্থানের কারণে সংশোধনী আকারে সন্ত্রাসবিরোধী বিল পাস হওয়ায়, নিষিদ্ধই থাকছে আওয়ামী লীগের সব ধরনের কার্যক্রম।যে কারণের সব রাজনৈতিক দল তাদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এমনটা মনে করেন রাজনীতিবিদরা। তারা মনে করেন, এর মাধ্যমে অন্যান্য দল ও সরকার এসব ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হবে। গণহত্যার দায়ে অভিযুক্তদের বিচার হতে হবে। তবে, কেউ যেনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার না হন তাও মনে করিয়ে দেন রাজনীতিকরা। বলেন, ব্যক্তির অপরাধে দলকে দায়ী করাও ভবিষ্যৎ গণতন্ত্রের জন্য সুখকর হবে না। ২৪-এর ম্যাসাকার। গণহত্যা, নির্যাতন, অজস্র মানুষের আর্তনাদ। স্বাধীন বাংলায় যা দেখেনি কেউ আগে। ১৪০০ বেশি মানুষকে হত্যা, ৩০ হাজারের ওপরে হতাহত আর হাজারো মায়ের বুক খালি হয়েছে শুধু একটি রাজনৈতিক দলের আক্রশের কারণে।দল হিসেবে সেই আওয়ামী লীগের বিচার ও তাদের নিষিদ্ধের প্রশ্নে বারবার দাবি উঠেছে। অন্তবর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার ১০ মাস পর আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। একই সময় নির্বাচন কমিশনও স্থগিত করে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন।এরই ধারাবাহিকতায় বিএনপি সরকারের প্রথম অধিবেশনে সন্ত্রাসবিরোধী বিলের অধ্যাদেশ সংশোধনী আকারে সন্ত্রাসবিরোধী বিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়।সর্বসম্মতভাবে পাস হওয়া বিলটি নিয়ে রাজনীতিকরা কিভাবে দেখছেন? এমন প্রশ্নে সবাই একমত, বলছেন, জুলাই গণহত্যার দায়ে অভিযুক্তদের বিচার হতে হবে। তবে তা যেনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা না হয়।বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, তৎকালীন সরকারের অপরাধের বিচার হতে হবে। এই বিচার কোনো প্রতিশোধ নয়। অন্যায়-অপরাধ হয়েছে, গণহত্যা হয়েছে। তাই বিচার হওয়া দরকার।বাংলাদেশের কমিউস্টি পার্টির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ন্যয়বিচারের ভিত্তিতে করতে হলে দ্য ক্রিমিনাল ইনভলভ ব্যক্তিগতভাবে তাদের ক্রাইমের পানিসমেন্ট হওয়া উচিত। এখানে কোনো বাচবিচারের ব্যাপার না। কিন্তু কোনো দল যদি প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য ছলচাতুরির মাধ্যমে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে সেটি কোনো ক্রমেই গ্রহণযোগ্য হয় না।আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রশ্নে সরকার যে বিল পাস করেছে তা স্বপ্রণোদিত হয়ে নয় বরং অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ সংসদে সর্বসম্মতিতে পাশ হয়েছে। তা না হলে সরকার সমালোচনার মুখে পড়ত বলেও মত দেন রাজনীতিকরা।আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগ খারাপ, কিন্তু তাদের আইন আজ ভালো হয়ে যাচ্ছে: হান্নান মাসউদসাইফুল হক বলেন, আওয়ামী লীগ প্রশ্নে বিএনপি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে নতুন কোনো প্রস্তাব তারা হাজির করেনি। যে অধ্যাদেশ ছিল বিএনপি সেটাকে পার্লমেন্টে একটা আইনে কাঠামো দিয়েছে। এটা না করলে বিএনপিকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হতো।সেলিম বলেন, সরকার পার্লামেন্টে কি করবে? আমার ধারণা জনগণ আওয়ামী লীগকে তার সামগ্রিক কার্যকলাপের ওপর বিচার। জনগণ আলটিমেটলি হিসটোরিক্যালি ডিসাইড করবে কোন দল থাকবে কোন দল থাকবে না।জুলাই আন্দোলনে হত্যা-নির্যাতনসহ নানা অপরাধের দায়ে এখনও আওয়ামী লীগ দল হিসেবে কিংবা তাদের কোন নেতা অনুশোচনা ও ক্ষমা না চাওয়ায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া আছে রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে। তারা মনে করেন, রাজনীতিতে ফিরতে হলে আওয়ামী লীগকেই তাদের নিজেদের দায়িত্ব বা অবস্থান জনগণকে জানাতে হবে।সাইফুল হক বলেন, এতো বড় গণহত্যার তারা কিভাবে দায় নিচ্ছে। এ ব্যাপারে কোনো রকম কথাবার্তা ছাড়াই হঠাৎ করে তারা আবার কাজ শুরু করবে বাংলাদেশে এ রকম কোনো বাস্তবতা নেই। দেশবাসীর কাছে তারা কি বলতে চান, তা আওয়ামী লীগকে স্পষ্ট করে বলতে হবে।সেলিম আরও বলেন, একটি দলকে সুযোগ দেয়া উচিত দেয়া।ব্যক্তি বা গোষ্ঠির অপরাধের দায়ে দল নিষিদ্ধের সংস্কৃতি ভবিষ্যতে দেশের গণতন্ত্রের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবেনা বলেও মন্তব্য করেন রাজনীতিবিদরা।সাইফুল হক বলেন, দুই এক ব্যতিক্রমের বাইরে সাধারণ ভাবে দল নিষিদ্ধ করার তৎপরতা বুমেরাং হয়েছে।
Go to News Site