Somoy TV
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে বাড়ছে নিরাপত্তা ঝুঁকি। নাইক্ষ্যংছড়িতে উদ্ধার হয়েছে অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন ও সম্ভাব্য আইইডি এবং জব্দ করা হয়েছে ক্ষতিকারক দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ। বিজিবি বলছে, সীমান্ত এলাকায় কোনো সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দেয়া হচ্ছে না, খুব শিগগিরই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত ব্যবহার করে কোনো অপরাধমূলক কার্যক্রম কাউকে চালাতে দেয়া হবে না।বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। তবে সীমান্ত এলাকায় আইইডি ও অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন এবং দাহ্য রাসায়নিক চোরাচালানের প্রবণতা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।বিজিবি জানায়, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত সড়ক সংলগ্ন শূন্য লাইনের কাছাকাছি ছায়াপাড়া সীমান্ত পিলার ৫৩ ও ৫৪ এর মধ্যবর্তী এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায় বিজিবি। এ সময় সন্দেহভাজন কয়েকজন বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে ব্যাগ ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় ৫টি অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন, ৫টি সম্ভাব্য আইইডি, একটি মেটাল ডিটেক্টর এবং সোলার প্যানেলসহ নানা সরঞ্জাম।বিজিবি আরও জানায়, জননিরাপত্তার স্বার্থে উদ্ধার বিস্ফোরকসমূহ বালুর বস্তা দিয়ে সুরক্ষিত করা হয়েছে এবং এলাকা চিহ্নিত করে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বোমা নিষ্ক্রিয় করতে সেনাবাহিনীর বিশেষ টিম মোতায়েনের প্রক্রিয়া চলছে।শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে রামুস্থ বিজিবির সেক্টর সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলনে নাইক্ষ্যংছড়িস্থ ১১ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল ফয়েজুল কবীর বলেন, উদ্ধার সম্ভাব্য মাইন ও আইইডিগুলো বালুর বস্তা দিয়ে সুরক্ষিত করে লাল পতাকা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকায় সাময়িকভাবে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকাতে টহল জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নাইক্যংছড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।আরও পড়ুন: মুরগির খামারে প্লাস্টিকের বস্তায় মিলল ৫ লাখ পিস ইয়াবালে. কর্নেল ফয়েজুল কবীর বলেন, ‘বিজিবি সদর দফতরের মাধ্যমে এরইমধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে, যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সেনাবাহিনীর বিশেষ বোম্ব ডিসপোজাল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উদ্ধার বিস্ফোরকগুলো অপসারণ ও নিষ্ক্রিয় করা হবে। তবে তাদের আগমনের আগে সেখানে ঠিক কী কী রয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।’তিনি জানান, বিষয়টি উদঘাটনে বিজিবি ড্রোনসহ আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে। পাশাপাশি এনএসআই ও ডিজিএফআইসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই এর পেছনের উদ্দেশ্য ও সংশ্লিষ্টদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।অঅধিনায়ক বলেন, ‘তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকায় এ মুহূর্তে সন্দেহভাজন বস্তুগুলোর উদ্দেশ্য সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না; পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।’এদিকে, একইদিনে নাইক্ষ্যংছড়ি বাইশফাঁড়ি সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায় কক্সবাজারস্থ ৩৪ বিজিবির সদস্যরা। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ। যার মধ্যে রয়েছে মেপোক্স, দাহ্য পাউডার ও তরল পদার্থ। এসব রাসায়নিকগুলো পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে চট্টগ্রামের পরীক্ষাগারে।শুক্রবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি জানায়, সীমান্ত এলাকায় কোনো সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দেয়া হচ্ছে না, খুব শিগগিরই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হবে।কক্সবাজারস্থ ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় কোনো সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দেয়া হচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সন্দেহভাজন বস্তুটি মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে থাকতে পারে এবং ভবিষ্যতে পুনরায় ব্যবহারের উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তবে এটি কারা ব্যবহার করবে বা এর পেছনের উদ্দেশ্য কী— তা এখনও নিশ্চিত নয়।’তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের বস্তু উদ্ধার হওয়ার পর সীমান্তে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এবং তাদের উদ্দেশ্য শনাক্তে কাজ চলছে।’বিজিবির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সীমান্ত ব্যবহার করে কোনো অপরাধমূলক কার্যক্রম চালাতে দেয়া হবে না এবং এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।আরও পড়ুন: কক্সবাজারে ৫০ হাজার ইয়াবাসহ দুই যুবক আটকএদিকে কক্সবাজারে উখিয়ার বালুখালী সীমান্তের শূন্যরেখায় মাইন বিস্ফোরণে শুক্রবার এক রোহিঙ্গা যুবকের বাম পা ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে। বিজিবি বলছে, ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় না যাওয়ার জন্য জনগণকে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে।রামুস্থ বিজিবি সেক্টর সদর দফতরের অতিরিক্ত পরিচালক (প্রশাসন) মেজর মো. নাজমুস সাকীব খান বলেন, ‘নিয়মিত মাইকিং, মোটিভেশন ও সতর্কতামূলক সাইনবোর্ডের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় না যাওয়ার জন্য জনগণকে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে। তবুও কেউ কেউ অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করছে এবং এতে মাইন বিস্ফোরণে আক্রান্ত হচ্ছে। তাই এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে।’বিজিবি জানায়, সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি যে কোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে সমন্বিতভাবে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
Go to News Site