Somoy TV
তীব্র গরম উপেক্ষা করেই পর্যটকদের ঢল নেমেছে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পর্যটকের উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠেছে সমুদ্রসৈকত। নোনাজলে স্নান আর নানা বিনোদনে মেতে উঠেছেন ভ্রমণপিপাসুরা। পর্যটকদের ভিড়ে খুশি সৈকতপাড়ের ব্যবসায়ীরাও। একই সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সক্রিয় রয়েছে লাইফ গার্ড কর্মীরা।প্রখর রোদ আর দাবদাহের মাঝেও কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে কমেনি পর্যটকদের ভিড়। বরং সাপ্তাহিক ছুটি ঘিরে বেড়েছে মানুষের উপস্থিতি। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভ্রমণপিপাসুরা সমুদ্রের নোনাজলে স্নান করে খুঁজে নিচ্ছেন স্বস্তি।শুধু সাগরস্নানেই সীমাবদ্ধ নয় আনন্দ। জেট স্কি, টিউবে ভেসে থাকা, বালুচরে ঘোড়ার পিঠে চড়া কিংবা বিচ বাইকে ছুটে চলা; সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে সৈকতজুড়ে।কুমিল্লা থেকে আসা পর্যটক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বাচ্চারা সবসময় সমুদ্রে আসতে খুব পছন্দ করে। সমুদ্রের ঠান্ডা বাতাস, খোলা পরিবেশ আর মানুষের ভিড়, সবকিছু মিলিয়ে তারা এখানে সময় কাটাতে আনন্দ পায়।’পর্যটক সাব্বির আহমদ বলেন, ‘পরিবার নিয়ে সমুদ্রসৈকতে আসাটা সত্যিই দারুণ একটি অনুভূতি। বাচ্চাদের ঘোড়ায় চড়া, ঘুরে বেড়ানো- সবকিছুতেই আলাদা এক আনন্দ রয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলো তাই উপভোগের জন্য খুবই উপযুক্ত, সুযোগ পেলেই পরিবার নিয়ে এখানে চলে আসি।’পর্যটক ফয়সাল কবির বলেন, ‘সমুদ্রসৈকতে এলে ছোটবেলার স্মৃতিগুলো নতুন করে মনে পড়ে। বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো সেই সময়গুলোর কথা মনে হলে এখনকার মুহূর্তগুলোও আরও আনন্দময় হয়ে ওঠে। মনে হয় যেন আবার সেই শৈশবেই ফিরে গেছি।’পর্যটকের চাপ বাড়ায় খুশি সৈকতপাড়ের ব্যবসায়ীরাও। ফটোগ্রাফার থেকে শুরু করে ছোটখাটো দোকান- সবখানেই বেড়েছে বেচাকেনা।আরও পড়ুন: পর্যটকদের কাছে হার মানছে তীব্র গরম-তপ্ত বালু!জেড স্কি চালক সাদ্দাম বলেন, ‘শুক্রবার হওয়ায় সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায় পর্যটকের উপস্থিতি কিছুটা বেশি দেখা যাচ্ছে। ঈদের পর যে পর্যটকের চাপ বেড়েছিল, তা কয়েকদিন পর কমে গেলেও এখন আবার ধীরে ধীরে পর্যটক বাড়তে শুরু করেছে।’ফটোগ্রাফার রমজান আলী বলেন, ‘বর্তমানে পর্যটকরা আসছেন, ঘুরে দেখছেন, ছবি তুলছেন। ফলে কিছুটা হলেও আয় হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই পর্যটক প্রবাহ আগামী ১৪ তারিখ পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।’এদিকে, পর্যটকদের নিরাপত্তায় তৎপর রয়েছে লাইফগার্ড কর্মীরা। সমুদ্রস্নানে সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া শিশুদের দ্রুত খুঁজে বের করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিচ্ছেন তারা।সী সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার সিনিয়র লাইফ গার্ড কর্মী জয়নাল আবেদীন ভূট্টো বলেন, ‘সমুদ্রসৈকতে পরিবারসহ অনেক পর্যটক আসায় মাঝেমধ্যে বাচ্চারা হারিয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে লাইফগার্ডরা মাইকিংসহ বিভিন্নভাবে দ্রুত বাচ্চাদের খুঁজে বের করতে সহায়তা করে। টুরিস্ট পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের তথ্যকেন্দ্রও এ কাজে যুক্ত থাকলেও, লাইফগার্ডরা সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকায় অভিভাবকরা প্রথমেই তাদের কাছেই সহযোগিতা চান। এক্ষেত্রে বাচ্চাদের খুঁজে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’জয়নাল আবেদীন ভূট্টো আরও বলেন, ‘সমুদ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লাল-হলুদ পতাকা দিয়ে নির্ধারিত নিরাপদ এলাকায় পর্যটকদের গোসল করতে নির্দেশনা দেয়া হয়। লাইফগার্ড টাওয়ার থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি, পেট্রোল টিম এবং উত্তাল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রেসকিউ বোর্ডসহ টহল পরিচালনার মাধ্যমে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।’তীব্র গরমের মধ্যেও কক্সবাজার সৈকতের এই প্রাণচাঞ্চল্য যেন জানিয়ে দিচ্ছে- ভ্রমণপিপাসুদের আনন্দে কোনো বাধা নেই। পর্যটকের এ আগমন পহেলা বৈশাখ পর্যন্ত থাকবে বলে জানিয়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
Go to News Site