Collector
শখের বসে সাপ ধরার কৌশল শিখে মনির এখন সবার আস্থা | Collector
শখের বসে সাপ ধরার কৌশল শিখে মনির এখন সবার আস্থা
Somoy TV

শখের বসে সাপ ধরার কৌশল শিখে মনির এখন সবার আস্থা

ছোটবেলা থেকে সাপুড়ের সাপের খেলা দেখেই মনে জাগে সাপ ধরার কৌশল। এরপর ইন্টারনেট থেকে জ্ঞান আহরণ, আর বইপুস্তক পড়ে সাপ সম্পর্কে নেন পর্যাপ্ত ধারণা। একে একে শিখে ফেলেন কিভাবে ধরতে হয় এই প্রাণি। কারো বাসাবাড়িতে সাপ ঢুকেছে এমন খবরে ছুটে যান সেখানে। মনির হোসেন গত দুই বছরের ধরেছেন একশোরও বেশি সাপ। এরমধ্যে কাল নাগিনি, কোবরা, শঙ্খিনী, গোখরা, বেত আঁচড়া, দাঁড়াশও রয়েছে।কোনো সাপ আক্রান্ত বা অসুস্থ হলে দেন সাধ্যমতো চিকিৎসাও। সুস্থ হলেই বনবিভাগের সহযোগিতায় তা করেন অবমুক্ত। সাপ সম্পর্কে সঠিক তথ্য না জানার কারইে মানুষ ভয় পায় বলেও ধারণা মনিরের। কাউকে সাপে কাটলে কোনো ওঝা-ফকিরের কাছে না গিয়ে তাৎক্ষণিক সরকারি হাসপাতাল ছুটে আসার পরামর্শও দেন এই সাপ গবেষক। সাপের বন্ধু হয়েই সারাজীবন কাটিয়ে দিতে চান এই সাপ প্রেমী। মাদারীপুর, শরিয়তপুর, চাঁদপুর, গোপালগঞ্জ, খুলনা, ফরিদপুর, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলায় গিয়ে ধরে এনেছেন বিষধর সাপ। এই সাপ ধরার কৌশল ও সাপ সর্ম্পকে মানুষকে সাধারণ ধারণা দিতে প্রতি শুক্রবার বিকেলে মাদারীপুর সরকারি কলেজ মাঠে আসেন ২৮ বছর বয়সী যুবক মনির হোসেন। আগ্রহীরা শুনেন তার প্রত্যাশা ও সফলতার গল্প। অনেকেই আবার সাপের সঙ্গে সেলফিও তুলেন সময় কাটান। দিন-রাত কিংবা ঝড়-বৃষ্টি উপেষ্টা করেই সাপ ধরতে মানুষের পাশে দাঁড়ান মনির। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে মনির অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে বলে আশা এলাকাবাসীর। জানা যায়, কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারি উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের ধনারচর পূর্বপাড়া এলাকার আব্দুল জলিল ও ফুলমতি বেগমের ছেলে মনির হোসেন। ২০১৭ সাল থেকে মাদারীপুর শহরের ২নং শকুনি এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থাকছেন। মাদারীপুর সরকারি কলেজ থেকে গত বছর পদার্থ বিজ্ঞানে মার্স্টাস শেষ করেছেন। আরও পড়ুন: বাংলাদেশ সীমান্তে সাপ-কুমির মোতায়েন করবে ভারত! সাপ উদ্ধারকারী মনির হোসেন বলেন, সাপ কখনই কারোই ক্ষতি করে না। মানুষকে বেশি ভয় পায় এই প্রাণি। কিন্তু আমরা না বুঝেই এই সাপ দেখলে অনেকেই পিটিয়ে হত্যা করি। তাই, সাপ দেখলে ভয় না পেয়ে আর পিটিয়ে হত্যা না করে তাৎক্ষণিক খবর দিলে উদ্ধার করতে বদ্ধপরিকর আমরা। এটি আমার নেশার মতো হয়ে গেছে। গৃহীনি সিগ্ধা আক্তার বলেন, ‘মনিরের এই সাপ ধরার কৌশল জানতে কলেজ মাঠে চলে আসি। এখানে এসে সাপের সঙ্গে সেলফিও তুললাম। বেশ ভাল লাগছে। আসলে সাপ মানুষের ক্ষতি করেনা, সেটা বুঝতেও পেরেছি।’ ইমরান আহম্মেদ নামে অর্নাস পড়ুয়া শিক্ষার্থী বলেন, ‘মনির ভাই এতো সাহসী আগে জানা ছিল না। আমাদের কলেজেই সে পড়ালেখা করেছে। কারো বাসায় সাপন ঢুকেছে এমন খবর পেলেই সে ছুটে যায়। তার এই সাহতিকতার জন্য সরকারিভাবে পুরস্কার দেয়া উচিত।’ আরও পড়ুন: শ্রীমঙ্গলে বসতঘর থেকে কালনাগিনী সাপ উদ্ধার মাদারীপুর সামাজিক বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (পরিদর্শক) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘মনির প্রায়ই সাপ উদ্ধার করে। পরে সেই সাপগুলো বনবিভাগের মাধ্যমে অবমুক্ত করা হয়। মনিরের বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে জানানো হবে। তাকে বন্যপ্রাণী রক্ষায় কাজে লাগানো যেতে পারে।’

Go to News Site