Collector
চুরির অপবাদে ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা, বিচার না করে বৃদ্ধ বাবাকে আপসের চাপ | Collector
চুরির অপবাদে ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা, বিচার না করে বৃদ্ধ বাবাকে আপসের চাপ
Somoy TV

চুরির অপবাদে ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা, বিচার না করে বৃদ্ধ বাবাকে আপসের চাপ

'আমার ছেলেকে ওরা গরু চোরের অপবাদ দিয়ে মেরেছে। আমি কি সন্তান হারানোর বিচার পাব না? পুলিশ এখন উল্টো আপস করার জন্য চাপ দিচ্ছে।' এভাবেই ডুকরে কেঁদে নিজের অসহায়ত্বের কথা বলছিলেন জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মোজ্জাম্মেল হোসেন।গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর উপজেলার রেহাই পলাশতলা গ্রামে মোজ্জাম্মেল হোসেনের ছেলে ট্রাকচালক রিপন মিয়াকে (৩৫) পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্তে গাফিলতি, আসামিদের সঙ্গে গোপন বৈঠক এবং নিহতের পরিবারকে মামলা তুলে নিতে চাপের অভিযোগ উঠেছে।নিহতের পরিবার জানায়, রিপন চট্টগ্রামে ট্রাক চালাতেন। ৫ সেপ্টেম্বর ভোরে তাঁর কর্মস্থলে ফেরার কথা ছিল। এর তিন দিন আগে তিনি মায়ের জন্য খরচ দিতে বাড়িতে আসেন। ঘটনার রাতে বড় ভাই ফরিদের অটোরিকশায় করে বাজার থেকে ফেরার পথে পাওনা টাকা আদায়ের কথা বলে বাড়ির সামনে নেমে যান রিপন। এরপর তিনি আর রাতে ফেরেননি। সকালে জানা যায়, প্রতিবেশী বোরহানের বাড়ির সামনে মেহগনি গাছের সঙ্গে বেঁধে তাঁকে গরু চুরির অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।রিপনের ভাই ফরিদের অভিযোগ, এলাকায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে রিপনের পূর্ববিরোধ ছিল। সেই আক্রোশ থেকেই পরিকল্পিতভাবে তাকে ডেকে নিয়ে চুরির অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে মারা হয়েছে।নিহতের বাবা মোজ্জাম্মেল হোসেনের অভিযোগ, ঘটনার পর তারা থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ তা নেয়নি। উল্টো গ্রাম পুলিশকে বাদী করে একটি ‘দুর্বল’ মামলা নথিভুক্ত করা হয়, যেখানে রিপনকে চোর হিসেবে দেখানো হয়েছে। পরবর্তীতে পরিবার আদালতে ১৪ জনকে আসামি করে মামলা করলে তার তদন্তভার পান মেলান্দহ থানার এসআই মো. তারিকুল ইসলাম হিমন।আরও পড়ুন: খুলনায় চোর সন্দেহে গণপিটুনি, নিহত ১মোজাম্মেল হক আরও বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম আসামিদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেন। আমার অন্য ছেলে সেই দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও করতে গেলে তিনি মোবাইলটি কেড়ে নেন এবং সব তথ্য মুছে পরদিন ফেরত দেন। এখন তিনি মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখতে আদালতে আবেদন করেছেন এবং আমাদের ওপর আপসের চাপ দিচ্ছেন।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই মো. তারিকুল ইসলাম হিমন বলেন, তদন্ত চলমান রয়েছে। নিহতের নামে আগে থেকেই একাধিক মামলা ছিল। মোবাইল কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, “মামলার বাদী বা নিহতের পরিবার এখন পর্যন্ত আমার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Go to News Site