Jagonews24
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ‘নতুন চা-বাগান’ এ চা-শ্রমিকদের জন্য নবনির্মিত ঘরের চাবি হস্তান্তর, উপহার সামগ্রী প্রদান এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, চা-শ্রমিকরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ, তাদের জীবনমান উন্নয়ন জরুরি। জেলা প্রশাসক বলেন, প্রবাসী আয় ও তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি চা রপ্তানিও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই খাতে চা-শ্রমিকদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই কারণেই সরকার আপনাদের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এবং সেই বিবেচনা থেকেই ঘরের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে আটটি নবনির্মিত ঘরের চাবি শ্রমিক পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি শ্রমিকদের মধ্যে উপহার সামগ্রী বিতরণ এবং ৩০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মধ্যে শিক্ষা উপকরণ দেওয়া হয়। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০০ জন শ্রমিকের মধ্যে পোশাক বিতরণ করা হয়। জেলা প্রশাসক বলেন, একটি নিরাপদ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সরকার চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে, তবে ব্যক্তিগত সচেতনতারও প্রয়োজন রয়েছে। চা-শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পূর্বপুরুষদের অভিজ্ঞতা থেকে তারা দক্ষতা অর্জন করেছেন, তবে সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য আরও উদ্যোগ দরকার। আমরা বিশ্বাস করি, আপনারা নিজেদের উন্নয়নে মনোযোগ দেবেন, সুস্থ থাকবেন এবং আরও দক্ষ হয়ে উঠবেন, বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ জনগণ। তাই প্রতিটি মানুষকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি। সরকার এ লক্ষ্যে বিভিন্ন ভাতা ও সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। তিনি জানান, নতুন ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি পরিবার মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবে, যা জীবনমান উন্নয়ন ও সন্তানের শিক্ষায় ব্যয় করা যাবে। অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসক কৃষ্ণচূড়া ও রাধাচূড়া গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এছাড়া চা-শ্রমিকদের যাতায়াত সুবিধার জন্য ৭০০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি সড়ক নির্মাণ কাজেরও উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম, নেপচুন চা-বাগানের ব্যবস্থাপক রিয়াজ উদ্দীন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাজিব আচার্য্য এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আব্দুল মমিনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এমআরএএইচ/এমআরএম
Go to News Site