Collector
হাসপাতাল নয়, এ যেন ভুতুড়ে বাড়ি | Collector
হাসপাতাল নয়, এ যেন ভুতুড়ে বাড়ি
Somoy TV

হাসপাতাল নয়, এ যেন ভুতুড়ে বাড়ি

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর ১০ শয্যার পল্লী স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি আজ কেবলই একটি কঙ্কালসার স্থাপনা। ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালটি একসময় আধুনিক চিকিৎসার একমাত্র ভরসা হলেও দীর্ঘ চার দশকের অবহেলা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকলে বন্দি হয়ে এটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।৫.৫ একর জমির ওপর নির্মিত এই বিশাল প্রতিষ্ঠানটির ইনডোর সেবা বন্ধ রয়েছে ১৯৮৪ সাল থেকে। বর্তমানে পরিত্যক্ত ভবনগুলো পরিণত হয়েছে মাদকসেবী ও অপরাধীদের অভয়ারণ্যে। তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী ও প্রভাবশালী নেতা অহিদুজ্জামান এই হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। একসময় এই অঞ্চলের ৫-৬টি ইউনিয়নের লাখো মানুষের শেষ ঠিকানা ছিল এটি। কিন্তু সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের ৯টি ভবনের সবকটিই এখন পরিত্যক্ত ও চরম ঝুঁকিপূর্ণ। ঝোপঝাড় আর ঘন জঙ্গলে ঢাকা পড়েছে ভবনের দেয়াল। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে, খসে পড়ছে পলেস্তারা। নেই কোনো স্থায়ী চিকিৎসক; মাত্র ৪ জন নার্স আর ২ জন অফিস সহকারী দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে চলছে শুধু ওষুধ সরবরাহের কাজ। স্থানীয় বাসিন্দা মো. শহিদ খন্দকার বলেন, ‘আমাদের এখানে হাসপাতালটি পুনর্নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি। আগে এখানে ৩১ শয্যার বেড চালু ছিল, যা পরে ১০ শয্যায় নামিয়ে আনা হয়। আমরা চাই এখানে অন্তত ৫০ শয্যার একটি আধুনিক হাসপাতাল হোক। গোপীনাথপুর, নিজামকান্দি, ফুকরা, শুকতাইল, দিঘলিয়া ও জালালাবাদ এই ছয়টি ইউনিয়নের মানুষ এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল।’ রোগী আলেয়া বেগম বলেন, ‘আমরা শুধু এখান থেকে ওষুধটুকুই পাই। এর বাইরে আর কোনো সেবা বা সুযোগ-সুবিধা এখানে নেই।’ গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শুকুর আলী মোল্যা বলেন, ‘গোপালগঞ্জ শহর এখান থেকে ১৭ কিলোমিটার আর কাশিয়ানী ১৯ কিলোমিটার দূরে। এর মাঝে কোনো বড় হাসপাতাল নেই। বিশ্বরোডে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে, কিন্তু রোগীদের এখানে আনলে কোনো চিকিৎসা পাওয়া যায় না। তাদের গোপালগঞ্জ বা খুলনা পাঠানোর পথে অনেক রোগী মারা যান। আমরা চাই এই হাসপাতালটি আগের সেই ঐতিহ্যের মতো আবারও পূর্ণাঙ্গ রূপে চালু হোক। এছাড়া ঝোপঝাড়ে ঢাকা এই এলাকা এখন নেশাখোর আর চোর-কারবারিদের আড্ডাখানা। আমরা চাই পুলিশ সুপার মহোদয় এখানে হস্তক্ষেপ করুন যেন মাদক নিয়ন্ত্রণ করা যায়।’ আরও পড়ুন: অজানা পকেটে যাচ্ছে পানির বিলের টাকা, হদিস নেই ২৪ লাখের হাসপাতালটির এমএলএসএস মো. শরিফুল ইসলাম জানান, গত আগস্টের পর থেকে এখানে চুরির উৎপাত আরও বেড়েছে। আগে কোয়ার্টারে লোক থাকত বলে চোররা ভয় পেত। কিন্তু এখানে যারা কর্মরত ছিলেন, তাদের সিভিল সার্জন অফিস ও ট্রমা সেন্টারে বদলি করা হয়েছে। বর্তমানে কোনো নিরাপত্তাপ্রহরী না থাকায় হাসপাতালটি অরক্ষিত অবস্থায় আছে। গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক জানান, দীর্ঘ সময় সংস্কার না হওয়ায় ভবনগুলো এখন পরিত্যক্ত। বর্তমানে শুধু বহির্বিভাগ চালু আছে। তিনি বলেন, ‘ভবনগুলো এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে এগুলো সংস্কার করা সম্ভব নয়। আমরা ঈদের পরেই কিছু জরুরি সংস্কার কাজের জন্য টেন্ডার দিয়েছি। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য পুরাতন ভবনগুলো অপসারণ করে নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করা প্রয়োজন। আমরা চিকিৎসক নিয়োগের জন্য আবেদন করেছি।’ গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর হাসপাতালটি নিয়ে নিজের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘গোপীনাথপুর হাসপাতালটি অনেক পুরোনো। রাজনৈতিক কারণে বিগত সরকারগুলোর আমলে এটি অবহেলিত ছিল। আমি এরই মধ্যে সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলেছি। আমার লক্ষ্য ১০ শয্যার এই হাসপাতালকে আধুনিকায়ন করে আরও বড় করা। নতুন ভবন ও প্রয়োজনীয় লোকবল নিশ্চিত করে দ্রুতই এটি সাধারণ মানুষের সেবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।’

Go to News Site