Somoy TV
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বর্তমান সীমানা ছাড়িয়ে নগরীকে আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো পার্শ্ববর্তী ছয়টি উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন মাস্টারপ্ল্যান বা মহাপরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত করে এনেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এর আওতায় কর্ণফুলী নদীর দুই পাড়েই গড়ে তোলা হবে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ এবং উন্নত নাগরিক সুবিধা সংবলিত একাধিক স্যাটেলাইট শহর।২০২২ সাল থেকে শুরু হওয়া এই মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। এতে সিটি করপোরেশনের বর্তমান ১৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকার বাইরে গিয়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া, হাটহাজারীর ফতেয়াবাদ ও কাটিরহাট, রাঙ্গুনিয়ার কাপ্তাই গোডাউন, দক্ষিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, পটিয়া এবং আনোয়ারাকে সিডিএ তাদের সীমানায় যুক্ত করছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নূরুল করিম বলেন, ‘মাস্টারপ্ল্যানে আমরা প্রায় ১২৫৫ বর্গ কিলোমিটারের জায়গাকে নিয়ে পরিকল্পনা করছি; যেখানে স্যাটেলাইট শহরের প্রভিশন রাখা হয়েছে। যেমন আনোয়ারা, পটিয়া এরপর ফতেয়াবাদ; এই সমস্ত অঞ্চলে আমরা স্যাটেলাইট শহর গড়ে তোলার চিন্তা করছি। কর্ণফুলী নদীর দুই পাড়েই শহর হবে। পৃথিবীর অনেক দেশে যেভাবে আছে, দুই পাড়েই শহর গড়ে উঠবে। মূল শহরটা যদি কর্ণফুলীর এপারে থাকে, ওই পারেও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে একটি দ্বিতীয় নগর হবে; যেটা ওয়ান সিটি টু টাউন।’ জনবল সংকট সবশেষ ১৯৯৫ সালে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে চট্টগ্রামের ডিটেইল মাস্টারপ্ল্যান করেছিল সিডিএ। কিন্তু অংশীজন হিসেবে চিহ্নিত সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, পিডিবি কিংবা সরকারি-বেসরকারি কোনো সংস্থাই সেই মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেনি। তাই নতুন মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অংশীজন সংস্থাগুলোকে এই প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম বলেন, ‘সিডিএর লোকবল নেই। সেই ৩০ বছর আগের লোকজন আর লোকবল নিয়ে বর্তমানে চলছে। নতুন করে অর্গানোগ্রাম সাজানো, লোকজন বাড়ানো এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তারা সেটা করতে পারে; কিন্তু এতদিন যাবত করে নাই। শুধু যদি এমনি এরিয়া বাড়ায় আর এদিকে যদি জনবল না বাড়ায়, তাহলে সেটা কোনো ফলপ্রসূ ব্যবস্থা হবে না।’ আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ঘষামাজা করে ৪০ কোটি টাকার ট্যাক্স ফাঁকি পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মাস্টারপ্ল্যানের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, উত্তর এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত দুটি স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তোলা হবে। একইসঙ্গে থাকবে শিল্পকারখানা গড়ে তোলার আলাদা প্রকল্প। তবে পাহাড়-নদীর এই চট্টগ্রামে পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তোলাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য স্থপতি ফারুক আহমেদ বলেন, ‘প্ল্যানড ওয়েতে যদি ওখানে আগায়, শিল্পকারখানা থাকা মানে ওখানে কিন্তু আবাসিক প্রকল্প গড়ে উঠবে এবং বিনোদন পার্কসহ যে সমস্ত ফ্যাসিলিটিজ আছে ওগুলোও ওখানে তৈরি করতে হবে। শুধুমাত্র চট্টগ্রামের শহরকেন্দ্রিক যদি হয় তাহলে কিন্তু হবে না। ওই সমস্ত জায়গার মানুষ এ জায়গায় আসবে না। সুতরাং তাদেরকেও সেই সমস্ত ফ্যাসিলিটিজ ওই সমস্ত জায়গায় তৈরি করে দিতে হবে।’ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নূরুল করিম আরও বলেন, ‘চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানীর আদলে যদি গড়ে উঠতে হয়, তাহলে চট্টগ্রামের একটা ব্যাপক এলাকা নিয়ে পর্যটন এবং বাণিজ্যিক- দুই সুবিধাই গড়ে তোলা দরকার। সিডিএর কিছু ইনফ্রাস্ট্রাকচারের পরিকল্পনা আছে; যেমন কিছু রাস্তাঘাট সিডিএ করে দেবে এবং জোনিংটা সিডিএ করে দেবে- কোথায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হবে, কোথায় আবাসিক প্রতিষ্ঠান হবে, কোথায় পার্ক হবে, কোথায় খেলার মাঠ হবে। এক্সিস্টিং যে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ওখানে আছে তার সাথে সিডিএ কিছু অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান করে দেবে, যেটাতে ভবিষ্যতে ডেভেলপমেন্টগুলো ওভাবেই হবে।’ আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে কর ফাঁকি ঠেকাবে ডিজিটাল হোল্ডিং ট্যাক্স, দেয়া যাবে ঘরে বসেই বাধা হতে পারে টোল চট্টগ্রাম শহরের অভ্যন্তরে চলাচলের জন্য যেমন শহীদ ওয়াসিম ফ্লাইওভারে টোল দিতে হয়, তেমনি জেলার আনোয়ারা যেতে পতেঙ্গা টানেল, পটিয়ায় যেতে শাহ আমানত সেতু এবং বোয়ালখালীতে যেতে কালুরঘাট সেতুর টোল দিতে হয়। অথচ এই উপজেলাগুলোও সংযুক্ত হচ্ছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নতুন মাস্টারপ্ল্যানে। পরিবেশকর্মী অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান বলেন, ‘চট্টগ্রাম শহর এক্সপান্ড কীভাবে হবে? এত টোল! এদিকে ফ্লাইওভারের টোল, কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতুর টোল, আবার টানেলের টোল। এদিকে কালুরঘাটের টোল; এই টোলে টোলে তো শহর এক্সপান্ড হতে পারছে না। এখন শহর যদি এক্সপান্ড করতে হয়, তাহলে নগরায়নের স্বার্থে এই টোল তুলে দিতে হবে। কারণ, এই যে কর্ণফুলী নদী, ওদিকে হচ্ছে কর্ণফুলী থানা সিএমপি, এদিকে হচ্ছে বাকলিয়া থানা সিএমপি। শহরের মাঝখানে যদি নদী থাকে, তাহলে দুপারের জনসাধারণের কাছ থেকে টোল নেয়ার কোনো আইন বা বিধান নেই।’ গত চার বছর ধরে ৭০ জন সদস্যের সমন্বয়ে চলা এই মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ অনেকটা শেষের পথে। চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) থেকে ভেটিং চূড়ান্ত হলেই চলতি বছরের ডিসেম্বরের আগেই অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে এই মাস্টারপ্ল্যান।
Go to News Site