Jagonews24
চাঁদের বেদনা অমাবস্যার পেট ছিঁড়ে লোকালয় হাসাবে বলেই পথ চেয়ে থাকাবেদনাসিক্ত ধমনী, শিরা-উপশিরায় ক্ষণিক স্বস্তি কিংবা ফাঁকাক’টা দিনের—বলে দীপ্ত প্রহসন আড়ালে উঁকি দেয়ভয় দেখিয়ে লাভ কি বলো—বসত যার দেনায়। **** সুষম আদর জন্মের আগে একবার পেয়েছিলামঅজান্তে অনিচ্ছায় প্রাচুর্যের ডোরসোনামাখা তৃষ্ণায় অধর সেই নেশা আজও কাটেনিনির্বাক প্রণয়ে সব আয়োজনউন্মাদ প্রমত্তা ঘোর সেই থেকে কোনো আদরই আমাকে আড়ষ্ট করেনিরৌদ্র কিংবা জোছনা স্নানঅপ্রকৃত ঠোঁট কিংবা ললাটকরতে পারেনি কিঞ্চিৎ লোভাতুর আমায় পূর্ণ পৃথিবীর সব কোলাহলঅযতনের প্রতিটি করুণ স্পর্শভেলকিবাজি চাতুর অপেক্ষায় আছি, নিয়ে পৃথিবীর সব অনাদরপেরিয়ে অযাচিত সব প্রহরহোক-না অস্তমিত পৃথিবী হেলিয়ে পড়ার পরএকরাশ আদর...সুষম আদর। **** তন্দ্রাবিহীন স্বপ্নলোক অন্তিম শয্যায় জলকণার মালা গেঁথে অপেক্ষায়অথচগোচরে—অগোচরেসকল আয়োজন, রূপ প্লাবন ফুরিয়ে যায় পৃথিবীর তরে সোনালি অন্তিম শয্যায়। তন্দ্রাবিহীন স্বপ্নলোক চলে যায় আজীবন তন্দ্রায়কংকাল দেহসার আর শব্দসুর ছুঁয়েঅপলক চেয়ে থাকে যেখানে অভিজ্ঞান হেসে ওঠে বেসুরা স্বরে। বিধ্বস্ত নিলীমা, বিষণ্ন নিমগ্ন প্রহর, আর ঝরে পড়া পরাগরেণু মজেছে শেষ আড্ডায় নীল পাখার প্রজাপতি পথ হারিয়ে অমোঘ অমাবস্যায়ক্লান্ত সে পথ থেমে যায় এক ইশারায়অজানা যে পথ, পৃথিবীর পথ ভুলে যায়আপন ঠিকানায় একা একা... **** শূন্য চরাচর শুনেছি অনেকে টাকা জমাচ্ছেমানে অগণিত, অজস্রজন;এ খবরে ছেয়ে গেছে দিক থেকে দিগন্তপত্রিকার পাতায় পোস্টার সেঁটেছে অলিতে-গলিতে।কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সুইস ব্যাংক সর্বত্র তুচ্ছে নেমেছে টার্গেটএবার ইনসেন্টিভ হয়েছে কয়েকগুণমুখে হাসি আর চোখে সহস্র অজানা প্রশ্নে বিভোরটাকা জমাচ্ছে সবাই,নিয়মিত প্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে শুধু টাকা জমাচ্ছে। টাকা জমাচ্ছে সময় কিনবে বলে ব্যস্ততায় বিভোর প্রিয় চোখ, ব্যস্ত চাহনিআরও ব্যস্ত কোমল ঠোঁটের একদা তুমুল কাঁপনটাকা জমাচ্ছে প্রথম দেখা মনহরিণীর কামনাসিক্ত চাহনির জন্য,টাকা জমাচ্ছে প্রিয়র ব্যস্ততাকে পরাজিত করতেসময় কিনবে বলে,আর টাকা জমাচ্ছে ব্যস্ত পৃথিবীকে তুচ্ছ করে প্রথম দেখার নিঃস্বার্থ শব্দস্বরের কোমলতায় ফেরার জন্যআরও তথাকথিত সুশীল সমাজে রটে যাওয়া কিছু অযাচিত শব্দ শোনার জন্য,টাকা জমাচ্ছে লাল সবুজের অম্বর শোভিত পতাকায় খচিত শহীদের বজ্র প্রতিধ্বনি আর সোনার বাংলার সমস্বরে গান শুনতে। আর আমার?আমার তো টাকা নেইনেই কোন ব্যাংক-ব্যালেন্সডাক্তার জানালো চোখগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে দিনে দিনেআর যাই বলুক এটা নিশ্চিত যে শুকনো পাতার মত তো নয়,ভাববেন না যে টাকা নেই বলে আমি শূন্য চরাচরআমার আছে অক্ষত সাত সাগর তেরো নদীর জল। এক বিস্তৃত গোধূলি কানে ফিসফিসে বললোসাগরের বুকে ভেসে থাকা অস্তমিত সূর্যের চোখ জুড়ানো সব রং লুটপাট করে নিয়ে ধন্য করো,চোখ তুলে চাইতেই আলো-আঁধারির মেলায় হারিয়ে যায় সব কোমল স্বর। তবুও আমি জমাচ্ছি নীলিমার সব নীলবিশাল আকাশের কালোমেঘঝরে পড়া নক্ষত্রসমগ্রতিমির গগণের অসমাপ্ত প্রহর,জমাচ্ছি ঝড়ের রাতে অগণিত ভরা পূর্ণিমার ফাঁসির দৃশ্য, আরও জমাচ্ছি থুবড়ে পড়া বিনাশী ঢেউসমুদ্র ব্যাকুলতার গর্জনমনে হতে পারে এ তো সামান্যই অর্জন! যারা পারেনি কিনতে সময় তাদেরই একজন আমিসময় হলে কখনো বিপরীত মেরুতে যদি পড়ে অবিনাশী চোখতব দৃষ্টি নিও নীল কুয়াশার মিশে যাওয়া শিশির বিন্দুর তরেনিমগ্ন স্বপ্নচাষিরা যুগে যুগে মিশেছে যেথায়। এসইউ
Go to News Site