Collector
ফ্রিজের দরজার রাবার কীভাবে পরিষ্কার করবেন | Collector
ফ্রিজের দরজার রাবার কীভাবে পরিষ্কার করবেন
Jagonews24

ফ্রিজের দরজার রাবার কীভাবে পরিষ্কার করবেন

ফ্রিজ এখন আর শুধু একটি প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি যন্ত্র নয়, বরং আধুনিক অন্দরসজ্জার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ঘরের যে জায়গাতেই ফ্রিজ রাখা হোক না কেন, সেটি সেই জায়গার সৌন্দর্য ও ব্যবহারের সঙ্গে মিশে যায়। তবে আমরা অনেকেই নিয়মিত ফ্রিজ পরিষ্কার করলেও এর ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর যত্ন নিতে ভুলে যাই। ফলে ধীরে ধীরে ফ্রিজের কার্যকারিতা কমে যায় এবং সমস্যা দেখা দেয়। ফ্রিজের দরজার রাবার বা গ্যাসকেট কী? ফ্রিজের দরজার চারপাশে যে রাবার স্ট্রিপ থাকে, সেটিকে বলা হয় গ্যাসকেট। এই গ্যাসকেট ফ্রিজের দরজা ঠিকভাবে বন্ধ রাখতে সাহায্য করে, যাতে ভেতরের ঠান্ডা বাতাস বাইরে বেরিয়ে না যায়। একই সঙ্গে বাইরের গরম বাতাসও ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। দৈনন্দিন ব্যবহারের কারণে গ্যাসকেটের ভেতরে ধুলা, তেল, খাবারের কণা এবং ব্যাকটেরিয়া জমে যায়। এই ময়লা জমে গেলে রাবার শক্ত হয়ে যেতে পারে বা ঠিকভাবে দরজা বন্ধ হতে পারে না। ফলে ঠান্ডা বাতাস বের হয়ে যায় এবং ফ্রিজের দক্ষতা কমে যায়। এতে কম্প্রেসরের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত পরিষ্কার রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আসুন জেনে নেওয়া ফ্রিজের রাবার কীভাবে পরিষ্কার করবেন- সাধারণ পানি দিয়ে পরিষ্কার সাধারণ কুসুম গরম পানি ব্যবহার করে গ্যাসকেট পরিষ্কার করা যায়। একটি নরম কাপড় বা স্পঞ্জ ভিজিয়ে গ্যাসকেটের চারপাশ আলতোভাবে মুছে নিতে হবে। এতে উপরের ধুলা ও হালকা ময়লা সহজেই উঠে আসে। তবে গভীর দাগ বা জমে থাকা ময়লা দূর করতে এটি যথেষ্ট নয়। ভিনেগার ব্যবহার করে পরিষ্কার গ্যাসকেট পরিষ্কারের সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো ভিনেগার মিশ্রিত পানি ব্যবহার করা। প্রথমে এক ভাগ ভিনেগারের সঙ্গে দুই ভাগ পানি মিশিয়ে একটি দ্রবণ তৈরি করে নিন। এরপর একটি স্পঞ্জ বা নরম ব্রাশ সেই মিশ্রণে ভিজিয়ে গ্যাসকেটের ভেতরের অংশে আলতোভাবে ঘষে নিন। ভিনেগার প্রাকৃতিকভাবে ব্যাকটেরিয়া দূর করে এবং দুর্গন্ধও কমাবে। টুথব্রাশ দিয়ে কোণার ময়লা পরিষ্কার গ্যাসকেটের ভাঁজে বা কোণায় অনেক সময় শক্ত ময়লা জমে যায়, যা সাধারণ কাপড়ে পরিষ্কার করা কঠিন। এই ক্ষেত্রে একটি পুরোনো টুথব্রাশ খুব কার্যকর। টুথব্রাশ ভিনেগার মিশ্রণে ভিজিয়ে ছোট ছোট ভাঁজের মধ্যে আলতোভাবে ঘষলে জমে থাকা ময়লা সহজেই বের হয়ে আসে। বেকিং সোডা ব্যবহার করে দাগ দূর করা যদি গ্যাসকেটে খুব বেশি দাগ বা তেলজাতীয় ময়লা থাকে, তাহলে বেকিং সোডা ব্যবহার করা যেতে পারে। সামান্য বেকিং সোডা পানির সঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে দাগযুক্ত স্থানে লাগাতে হয়। কয়েক মিনিট রেখে তারপর ভেজা কাপড়ে মুছে ফেললে দাগ অনেকটা পরিষ্কার হয়ে যায়। পরিষ্কারের পর শুকিয়ে নেওয়া পরিষ্কারের পর গ্যাসকেট ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। একটি শুকনো কাপড় বা টিস্যু দিয়ে পুরো অংশ মুছে নিতে হবে, যাতে কোনো আর্দ্রতা না থাকে। কারণ ভেজা অবস্থায় ময়লা দ্রুত আবার জমতে পারে এবং রাবারের স্থায়িত্ব কমে যেতে পারে। কোন জিনিস ব্যবহার করা উচিত নয় গ্যাসকেট পরিষ্কারের সময় ব্লিচ, অ্যামোনিয়া বা শক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করা ঠিক নয়। এগুলো রাবারকে শক্ত করে দেয় এবং ধীরে ধীরে নষ্ট করে ফেলতে পারে। একইভাবে খুব গরম পানি ব্যবহার করাও ক্ষতিকর হতে পারে। নিয়মিত যত্নের গুরুত্ব সপ্তাহে একবার বা অন্তত মাসে দুইবার গ্যাসকেট পরিষ্কার করা উচিত। নিয়মিত যত্ন নিলে ফ্রিজ দীর্ঘদিন ভালো থাকে, বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় এবং খাবারও সতেজ থাকে। সূত্র: দ্য স্প্রু, অ্যাপার্টমেন্ট থেরাপি আরও পড়ুন: নতুন পোশাক ধোয়ার আগে মানতে হবে যেসব নিয়ম ঘরোয়া এক উপাদানে পুরো বাড়ি পরিষ্কার করার উপায়  এসএকেওয়াই

Go to News Site