Collector
পরিবারের সুখে নিজের জীবনটাই উৎসর্গ করে গেলেন দিপালী | Collector
পরিবারের সুখে নিজের জীবনটাই উৎসর্গ করে গেলেন দিপালী
Somoy TV

পরিবারের সুখে নিজের জীবনটাই উৎসর্গ করে গেলেন দিপালী

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলের বোমা হামলায় নিভে গেল সংগ্রামী দিপালীর জীবন। পরিবারের টানে ঘর বাধা হয়নি তার। নিহত দিপালী আক্তারের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে চলছে মাতম। তাঁর এ আকস্মিক মৃত্যুতে হতদরিদ্র পরিবারটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দিপালীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন পরিবারটি।দিপালীর এমন নির্মম মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিয়ে পারছে না বোনেরা। অঝোরে কাঁদছেন তারা। কাঁদতে কাঁদতে কখনো জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন, আবার মাটিয়ে লুটিয়ে পড়ে আহাজারি করছেন। কান্না থামছে না তাদের, কাঁদছেন স্বজনরাও। এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না এলকাবাসী, এলাকায় বইছে শোকের মাতম।নিহত দিপালী আক্তার (৩৪) জেলার চরভদ্রাসন উপজেলার চর হরিরামপুর ইউনিয়নের চরশালেপুর পূর্ব মুন্সিরচর গ্রামের মোফাজ্জল শেখের মেয়ে। ৩ বোন ও ২ ভাইয়ের মধ্যে চতুর্থ সন্তান ছিলেন দিপালী।সরেজমিনে শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে দিপালী আক্তারের গ্রামের বাড়ি জেলার চরভদ্রাসন উপজেলার চর হরিরামপুর ইউনিয়নের চরশালেপুর পূর্ব মুন্সিরচর গ্রামে গিয়ে এমন দৃশ্য চোখে মেলে।আরও পড়ুন: ইসরায়েলের বোমা হামলায় দিপালীর ছিন্ন-ভিন্ন মরদেহ আনাই শেষ চাওয়া পরিবারেরজানা যায়, ছোট্ট বয়সে মাকে হারিয়ে হতদরিদ্র পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে ২০১১ সালে ১৮ বছর বয়সে লেবাননে যান দিপালী আক্তার। সংগ্রাম করে শুধু নিজেই বাঁচেননি, প্রবাসের হাড়ভাঙা পরিশ্রমে হাসি ফুটিয়েছিল ৬ সদস্যের পরিবারের মুখে। যে পরিবারের টানে আজও বাঁধা হয়নি সংসার তার। কিন্তু সেই মুখগুলো আজ মলিন, শোকে স্তব্ধ আর আহাজারিতে বিভোর। ২০২৪ সালে দেশে এসে কয়েক মাস থেকে পুনরায় ফিরে যান লেবাননে।মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান যুদ্ধের একটি বোমার আঘাতে হেরে গিয়েছে সংগ্রামী দিপালীর জীবন। যেই খবরে ভেঙে পড়েছে পুরো পরিবার। তাদের গগনবিদারী কান্নায় কেঁদেছে ইউএনও থেকে শুরু করে স্বজন, পাড়া প্রতিবেশীসহ সবাই। পরিবারের অপেক্ষা শুধু দিপালীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে দাফন করা। দ্রুত মরদেহ দেশে আনার দাবি স্বজনদের। ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পূর্ব শালেপুর মুন্সিরচর গ্রামে বাড়িতে দিপালীর বোনের আহাজারি। ছবি: সঞ্জয় দাসবুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের হামারা এলাকায় ইসরাইলি বোমা বিস্ফোরণে গৃহকর্তার পরিবারের ৬ সদস্যের সঙ্গে নিহত হয় দিপালী আক্তার। পরদিন থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইমো নম্বরের কল দেয়া হলে রিসিভ না করায় দেশটিতে অবস্থানরত এক স্বজনের মাধ্যমে খোঁজ নেয় পরিবার। শুক্রবার ওই স্বজনের মাধ্যমে প্রথমে মৃত্যুর খবর পায় ছোট বোন লাইজু খানম। এরপর উৎকণ্ঠা নিয়ে তারা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিহতের বিষয়ে নিশ্চিত হলেই শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েন পরিবারের সবাই।নিহত দিপালীর ছোট বোন লাইজু আক্তার জানান, ছোট বয়সে মা মারা যান। এরপর সংসারের হাল ধরতে দিপালী আপা ২০১১ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে লেবানন যান। তার পাঠানো টাকায় আমাদের (বোনদের) বিয়ে দেওয়া হয়। ভাইদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়।তিনি আরও বলেন, ‘আপা আমাদের জন্য বিয়ে পর্যন্ত করেনি। আমাদের জন্য অনেক কিছু করেছে আপা। ২০১৮ সালে একবার দেশে আসেন আপা। এরপর সবশেষ ২০২৪ সালে দেশে এসে কিছুদিন থেকে পুনরায় লেবানন চলে যান। গত বুধবার বিকেলে কথা হয় আপার সাথে, এরপর আর যোগাযোগ করতে পারিনি। আমাদের এখন একমাত্র চাওয়া আপার মুখটা দেখতে পাওয়া। সরকারের কাছে আমাদের আবেদন দ্রুত আপাকে দেশে আনার ব্যবস্থা করার।’এদিকে খবর পেয়ে শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে নিহত দিপালীর বাড়িতে যান ইউএনও ও প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালকসহ কর্মকর্তারা। এসময় তারা দিপালীর পরিবারকে নগদ ১০ হাজার টাকা ও শুকনা খাবার দেন। দ্রুত দিপালীর মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান কর্মকর্তারা।আরও পড়ুন: লেবাননে ইসরাইলি বোমায় প্রাণ গেল বাংলাদেশিরফরিদপুর প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক আশিক ছিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা দিপালীর মরদেহ আনতে সব ধরনের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। তবে যুদ্ধের কারণে ফ্লাইট চলাচল সংকটে একটু সমস্যা হচ্ছে। তবে খুব দ্রুতই মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হবে।’চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ বলেন, ‘খবর পেয়ে দিপালীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানিয়েছি। এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন পরিবারের। তারপরও পরিবারের সদস্যদের জন্য নগদ ১০ হাজার টাকা ও শুকনা খাবার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দিপালীর মরদেহ দ্রুত দেশে আনার সব প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।’

Go to News Site