Somoy TV
ভোরের বাতাসে মিষ্টি সৌরভ ছড়িয়ে মুগ্ধতা বিলাচ্ছে বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ নাগলিঙ্গম। এতে সবুজে মোড়ানো গোটা পরিবেশ প্রকৃতি বসন্তের এমন সমীরণে আরও মায়াবি হয়ে উঠেছে। দেশের একমাত্র চা গবেষণা ইনিস্টিউট মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল দক্ষিণপ্রান্তের পুকুর পাড়ে একা দাঁড়িয়ে থাকা প্রাচীন বিরল প্রজাতির এ বৃক্ষ নাগলিঙ্গম। বৃক্ষের এমন ফুল-ফলের মোহময় দৃশ্য আর মনরাঙানো সৌরভ বছরের এই সময়েই দেখা যায়। তাইতো- বৃক্ষ প্রেমি দর্শনার্থীরা অনেকেই ছুটে আসছেন নাগলিঙ্গম বৃক্ষটির আকর্ষণে।চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ইসমাইল হোসেন এবং এ প্রতিষ্ঠানের উদ্ভিদ বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আব্দুল আজিজের সাথে কথা হয় সময় সংবাদের। এ দুজন উদ্ভিদ বিজ্ঞানী জানালেন , নাগলিঙ্গম এ বৃক্ষটির আদি নিবাস মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার গভীর বনাঞ্চল। রেইন ফরেস্ট এলাকাতেই মূলত এ বৃক্ষটি জন্মে থাকে। নাগলিঙ্গম সুউচ্চ চিরসবুজ বৃক্ষ। বাংলাদেশে এটি প্রায় বিপন্ন প্রজাতীর উদ্ভিদ । এ বৃক্ষটি ঢাকা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শের-ই বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বলদা গার্ডেন ও বোটানিক্যাল গার্ডেনের মতো উদ্যানে কয়েকটি বৃক্ষ এখনো দেখতে পাওয়া যায়। এ বৃক্ষের রয়েছে ব্যাপক ঔষধি গুণাগুন। বৃক্ষের ফুল পাতা ফল আর গাছের বাকলের নির্যাস ব্যবহার করে বিভিন্ন ঔষধ তৈরি হচ্ছে। জানা গেছে, এ বৃক্ষের পাতার রস ত্বকের সমস্যার সমাধান ছাড়াও ম্যালেরিয়া রোগের কাজেও ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এমনকি এ বৃক্ষ থেকে তৈরি ঔষধ পেটের পীড়ায় ব্যবহার হয়। এক একটি বৃক্ষ লম্বায় ১১০ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত হয়ে থাকে। দ্রুতবর্ধনশীল বৃক্ষ হওয়াতে চারা রোপণের প্রায় ১২ থেকে ১৩ বছরের মধ্যেই গাছে ফুল আসতে শুরু করে। বৃক্ষের পাতাগুলোও চমৎকার। রঙিন ফুলের ন্যায় গুচ্ছ গাঢ় সবুজ পাতা সাধারণত ৮ থেকে ৩০ বা ৩১ সেন্টিমিটার লম্বা হতে দেখা যায়। অন্যান্য বৃক্ষের মতো বছরের একটি সময়ে নাগলিঙ্গম বৃক্ষের পাতা স্বাভাবিক নিয়মে ঝরে পড়ে। তখন বৃক্ষটির পুরো শরীর উদোম হয়ে যায়।বৃক্ষটি দেখতে ও ছবি তুলতে আসছেন দর্শনার্থীরা। ছবি: সময় সংবাদ আরও পড়ুন: কুয়াকাটায় জেলেদের জালে মিলল বিরল ব্রাউন সার্জনফিশ জনশ্রুতি রয়েছে, এক সময় দেশের বিভিন্ন এলাকার জমিদাররা তাদের বাড়িতে এসব বৃক্ষ রোপণ করতেন। তার কারণ ছিল, হাতির প্রিয় খাবার ছিল এ বৃক্ষের ফল। শ্রীমঙ্গল চা গবেষণা ইনিস্টিউটের পুকুর পাড়ের এ নাগলিঙ্গম বৃক্ষটি গেলো প্রায় মাসখানেক ধরে ফুলে ফলে ভরে উঠেছে। বৃক্ষের গোড়া থেকে প্রায় উপরের পুরো অংশ জুড়েই মায়াময় ফুলের পাপড়িতে ঢাকা। গোটা বৃক্ষের শরীর ভেদ করে এক একটি লতানো কান্ড জুড়ে অসংখ্য থোকা থোকা ফুলরাশি জেগে উঠেছে। ফুলের বাহারি রং এ এলাকা জুড়ে মোহনীয় পরিবেশের জন্ম নিয়েছে। শুধু তাই-না, একদিকে হালকা ঘি রঙের বল আকৃতির ফুলগুলো নতুন রুপে কান্ড জড়িয়ে পাপড়ি মেলে ফুটে উঠছে অনবরত। আর অপরদিকে বৃক্ষের শরীর বেয়ে ফুলগুলো ঝরে পড়ছে বৃক্ষটির গোড়ায় বৃষ্টির মতো। এতে ফুলের পাপড়িতে নাগলিঙ্গম বৃক্ষের আশপাশ সেজে ওঠেছে ফুলেল সজ্জায়। এ নাগলিঙ্গম ফুলের পাপড়ির ভেতরের রং অনেকটা হালকা খয়েরি বর্নের। আবার কখনো বা, দেখতে মনে হয় লালচে গোলাপি বর্নের। তবে ফুলের মধ্যখানের পরাগচক্রটি দেখতে নাগের ফণা আকৃতির মতো। এতে অনেকেই এ ফুলকে নাগলিঙ্গম ফুল হিসেবে নামকরণ করেছেন। চা গবেষণা ইনিস্টিউটের উদ্ভিদ গবেষকরা বলছেন, এ বৃক্ষের ফুল আরও অন্তত কয়েক মাস ফুটে থাকবে। তারপর তা আস্তে আস্তে ঝরে পড়ে যাবে। সেই সময়, গাছ জুড়ে দেখা দিবে বাদামি বা খয়েরী রঙের গোলাকৃতির ফল। তবে এখনো এ বৃক্ষটির ডাল জুড়ে রয়েছে একাধিক ফল। এ ফল বন্য হাতির খুব প্রিয় খাবার। বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনিস্টিউট উদ্ভিদ বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আব্দুল আজিজ বলেন, এখানে এক সময় নাগলিঙ্গম বৃক্ষের চারা পাওয়া যেতো। তখন দেশের বিভিন্ন স্থানে এ চারা গেছে। সময়ের সাথে এখন আর সেই উদ্যোগ নেই। তিনি বলেন, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর হাত ধরে হয়তোবা এ অঞ্চলে এ বৃক্ষটি এসেছে। আরও পড়ুন: ধাওয়া খেয়ে পুকুরে বিরল প্রজাতির সজারু, অতঃপর উদ্ধার শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন জানালেন, এ নাগলিঙ্গম বৃক্ষটি এ অঞ্চলে আরও সম্প্রসারণ করা যায়, এ জন্য বিটিআরআইয়ের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা। ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ চা বোর্ডের তৎকালীন চেয়ারম্যান বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ আল হোসেন বিটিআরআই ক্যাম্পাসের পুকুর পাড়ে এ নাগলিঙ্গম বৃক্ষের চারাটি রোপণ করেন বলে জানা গেছে।
Go to News Site